উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

ঈদের যাত্রা হোক নিরাপদ

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৩:৩৬ | সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত

বৎসরে দু’টি ঈদ পেয়ে মুসলমানরা আনন্দ ভাগাভাগী করতে তাদের নিজ নিজ বাড়ি ঘরে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করে। ঘরমুখী মানুষগুলো নিজ গন্তব্যে পৌঁছার জন্য অনেক দিন আগ থেকে গাড়ি, ট্রেন, লঞ্চ ইত্যাদির টিকেট করতে ব্যস্ত। ঈদের দু’একদিন আগে কোন যানবাহনের সিট খালি পাওয়া মুশকিল। শত উৎসাহ উদ্দীপনা ও মনের ভেতর প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগীর আমেজ মানব মনে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু অনেকে টিকেট কিনতে দেরী হওয়ার কারণে ঈদে বাড়ি ফেরা থেকে বঞ্চিত হয়। আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, বাস, ট্রেন ইত্যাদির ছাদে উঠে গন্তব্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মনের হাজার আনন্দ ভাগাভাগী করতে আপনজনদের জন্য কাপড় চোপড় সহ অন্যান্য জিনিস কিনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা অনেকে হলেও সবাই নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও অনেকে বিফল হোন।
অনেকে আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে হাসির রাজ্যে প্রবেশ করতে চাইলেও ঈদের খুশিকে পঙ্গু করে কান্নার মাতম উপহার দেন। ইচ্ছে করে কেহ বিপদ ডেকে আনতে চায়না তবে এমন ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরা ঠিক না যাতে নিজের জীবন হারাতে হয়।
প্রতিবছর ঈদের সময় দূর দূরান্তের যাত্রীরা যাতায়াত পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এর চেয়ে দুঃখের আর কি হতে পারে। জীবন মরণ যদিও আমাদের প্রভুর হাতে তবে আমরা যাতায়াত কালে আমাদের এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ নয় যাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি থাকে। সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনী প্রতি বছর ঘরমুখী মানুষগুলো নিরাপদে পৌঁছার জন্য সবরকম সুপরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন। তবুও বিধি যার বাম তিনি শত বাধার পরও নিজের সিদ্ধান্তে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে অবশেষে নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের শোকের ছায়া উপহার দেন।
নৌপথে যাতায়াতকালে দেখতে পাই নৌকা বা লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। আমরা দেখে শুনে কেন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা হব আর যাত্রীরা কেনই বা এতটা ঝুঁকি নিবে।
ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি একবার গাড়ির সিট না পাওয়া যায় একটি বার আনন্দকে একটু ছাড় দেয়া উচিৎ। এই আনন্দ ভোগ করতে গিয়ে সারা জীবনের জন্য নিজেকে পৃথিবী থেকে বিদায় দেয়া কোনো পরিবারের জন্য খুশির সংবাদ নয়। নদীপথে যারা যাতায়াত করেন তারা জীবনের তাগিদে সাতার শেখা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো কারণে নৌকা বা লঞ্চ ডুবে গেলে বেঁচে থাকার জন্য কিছুটা সময় চেষ্টা করতে পারবেন যাতে উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করার সুযোগ পায়। নৌপথে নৌযান ডুবে গেলে তখন কি করতে হবে সেই চিন্তাধারা মাথায় রাখতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে ভেঙ্গে না পড়ে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে।
আমরা চাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগীতে যারাই যেখানে যান না কেন ভ্রমণটা যেন নিরাপদ ও শান্তিময় হয়। মহান প্রভু যেন আমাদেরে ভ্রমণকালীন সময় নিরাপদ রাখেন ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগীতে যারা নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন তাদের যাত্রা হোক নিরাপদ।
লেখক : কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT