শিশু মেলা

অজানা দ্বীপ

এম. আশরাফ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৪:১২ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

দুদুল ওর বন্ধুদের খুঁজে বের করল। শার্দুল, নওরোজ, শরীফুল ও হাবুলকে জড়ো করল। কানে কানে বলল- লহরির কথা। ওরা খুশিতে নাচতে লাগলো। এবার খুব মজা হবে- এই ভাবনায় থামতেই চায় না শার্দুল। দুদুল বিরক্ত হয়ে বলল,
-এ্যাই ব্যাটা এত ফাল পাড়ছিস ক্যান? নাকের ডগায় পিঁপড়া ঢুকছে নাকি? সবাই দুদুলের চিৎকার শুনে নাচ থামালো।
দুদুল বলল-হুন দিনের বেলা আমাগো ঘরে জটলা কইরা লাভ নাই। লোকেরা সন্দেহ করবো। রাইতের বেলা ওরে নিয়া লোকালয় খেইক্কা অনেক দূরে যামু। ওই হানে গল্প-গুজব করুমনে....।
-সবাই সমস্বরে বলল- আচ্ছা দুদুল।
গভীর রাতে লহরিকে নিয়ে একটা নির্জন স্থানে গেল ওরা। সবার সাথে কোশল বিনিময় হলো। লহরি হাবুলকে বলল- কিরে হাবুল মুখটা এত শুকনো লাগছে কেন ? খাওয়া দাওয়া করিসনি? হাবুল বলল- আমার মা-বাবা গরীব। গতকাইল বাবা কাজ কাম কিছুই পায় নাই- বইল্যা চাল-ডাল কিছুই আনতে পারে নাই। রাতে ঘরে খাওন ছিল না... তাই...
-আচ্ছা বুঝেছি। লহরি ওর হাত বের করে উপর দিকে উচিয়ে ধরতেই হাতের মধ্যে পাঁচটি আপেল জড়ো হলো। খয়েরি রঙের আপেলগুলো বেশ টসটসে। লহরি বলল- লও বন্ধুরা। সবাই একটা একটা করে নিল। শরীফুল বলে উঠল-তুমি খাবে না লহরি?
-না আমার কিছু খেতে হয় না। আমি বিদ্যুৎ খাই।
-হাসলো সবাই।
আজ আকাশের কোথাও মেঘের চিহ্ন নেই। মধ্য আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের বুড়ি যেন স্পষ্টই সুতা কাটছে- দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে। দুদুল ডাকল-লহরি।
-হ্যাঁ বল।
-ঐ যে আকাশে চাঁদের গায়ে একটা গাছ দেখা যাচ্ছে-তুমি কী সেখানে গিয়েছ?
-হ্যাঁ, শতবার গিয়েছি।
-এটা কি সত্যিই বটগাছ?
-না এটা বট গাছ নয়।
-তাহলে এগুলো কী?
বলছি শোন-এগুলো হচ্ছে বড় বড় গর্ত। তোমরা তো জানো- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই?
-হ্যাঁ জানি। সূর্যের আলো থেকেই এটা আলোকিত হয়।
-এই সূর্যের আলো যখন চাঁদের উপর পড়ে তখন চাঁদের সমতল ভাগ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আর বড় বড় গর্তে বা গিরিখাতগুলোতে আলো পড়লেও এগুলো প্রতিফলিত হয় না। তাই এই জায়গাগুলো অন্ধকার থাকে। আমরা অনেক দূরে থেকে দেখি বলে স্পষ্ট দেখতে পাই না। আলোর বিচ্ছুরণের ফলে- অন্ধকারগুলো অনেকটা কাবার হয়। অনেক অনেক দূরত্বে আমাদের অবস্থান বলেই ওগুলো কালো কালো দাগের মত মনে হয়।
-বুঝতে পেরেছি লহরি। তবে ঐ দূরে যে ছোট ছোট তারকা ওগুলোতে কোন দাগ নেই। উজ্জ্বল আলোয় ভাসছে ওগুলো। তুমি স্বচক্ষে দেখেছ তারাগুলো?
-হ্যাঁ, দুদুল। অনেকটা দেখেছি। তবে সবগুলো দেখা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো অসংখ্য। কোটি কোটি। আর এদের দূরত্ব কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে। অনেক তারকার আলো এখনও পৃথিবীতে পৌঁছায়নি। যেগুলোর নিজস্ব আলো আছে ওগুলো নক্ষত্র। আর যেগুলোর নিজস্ব আলো নেই ওগুলো গ্রহ। আকাশে আরো রয়েছে নিহারিকা ছায়াপথ... আরোও কত কী! আমি হচ্ছি মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা। এই গ্রহটা অনেকটা তোমাদের পৃথিবীর মত। পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণা করছেন। পৃথিবী এই সময়ে বড় অশান্ত হয়ে উঠেছে। যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় তাহলে মহা বিপদ।
এই পৃথিবীতে যত অস্ত্র তৈরি হয়েছে তা দিয়ে পৃথিবীকে অন্তত একশ বার ধ্বংস করা যাবে। আর পৃথিবী ধ্বংস হওয়া মানে মানুষ সহ সকল প্রাণ বিপন্ন হওয়া। তাই বিজ্ঞানীরা ভাবছেন- পৃথিবী ছাড়া অন্য কোন গ্রহ বাস উপযোগী হলে কিছু প্রাণী অন্তত স্থানান্তরিত হয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।
-কিন্তু মঙ্গল গ্রহতো অনেক দূরে। এখান থেকে ওরা যাবে কী করে?
-কেন? রকেট দিয়ে। তোমরাতো অবশ্যই রকেটের উৎক্ষেপণ দেখেছ। বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন কী করে কম খরচে মঙ্গল গ্রহে পাড়ি দেয়া যায়। অবশ্য মঙ্গলের মাটি বায়ু পানি গবেষণা করে দেখা গেছে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। মানুষ বা প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই মঙ্গল গ্রহে রয়েছে।
এতক্ষণ ধরে তন্ময় হয়ে শুনছিল ওরা। দুদুলভাবে আহ! যদি মঙ্গল গ্রহে যেতে পারতাম কেমন মজা হত। লহরি সাথে সাথে বুঝতে পারে। বলে কীরে দুদুল মঙ্গলে যাবে? তোমার তো খুবই ইচ্ছে জাগছে তাই না?
-হ্যাঁ, লহরি। যদি যাওয়ার সুযোগ পাই তাহলে....
-ভেবো না বন্ধুরা। আমি তোমাদের মঙ্গল গ্রহ দেখাবো। তবে যতদিন পৃথিবীতে আছি এখানকার জীব বৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন ধারণ সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে। তোমরা আমার সাথে থাকবে তো?
-হ্যাঁ, হ্যাঁ অবশ্যই। সবাই সমস্বরে বলল।
হঠাৎ হাবুলের দিকে তাকালো লহরি। কী যে চাহনি! যেন ভিতরের প্রতিটি পার্টস দেখতে পাচ্ছে। শান্ত স্বরে বলল- ‘হাবুল’
-কী সমস্যা লহরি...
-স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তোমার ঘরে কি কেউ বাঁশি টানে?
-হাবুল অবাক হয়ে বলল- কিসের বাঁশি?
লহরি হাতের দু’আঙ্গুল ঠোঁটের কাছে ধরে দেখালো, কিন্তু নাম বলতে পারছে না। দুদুল চট করে বলে উঠল- সিগারেট?
-হ্যাঁ, হ্যাঁ- সিগারেট। আমরা এটাকে ‘বদবদ’ বলি। অবশ্য আমাদের জগতে এটির ব্যবহার নেই। পৃথিবীতে পূর্বে মানুষের আয়ু ছিল হাজার বছরেরও উপরে। তোমরা কুরআন থেকে নূহ নবীর কথা জেনেছ নিশ্চয়ই। তিনি দীর্ঘ সাড়ে নয়শত বৎসর তার কওমকে একত্ববাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
দুদুল বলল- তুমি এটা জানো কি করে?
-তুমি খুব বোকা দুদুল। আমার দ্বারা অনেক কিছুই জানা সম্ভব। দেড় হাজার বছরের পুরনো বটগাছ দেখেছ? ওর অন্তরটা তোমরা দেখতে পাওনা। কিন্তু আমি দেখি। ও কি বলছে জানো? ও বলছে মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর। ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ পৃথিবী ধ্বংসের কাজে লেগে থাকে।
-দুদুল বলল কীভাবে?
-এই দেখনা হাবুলের অবস্থা। ওর কিইবা বয়স? বড় জোর বার বছর। কিন্তু ওই বয়সেই ও ক্যান্সারে আক্রান্ত। অবশ্য ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি এটা ঠিক করে দেব। আসলে এটা হচ্ছে বদবদের প্রভাব। নিশ্চয়ই ওর বাবা ওকে কোলে নিয়ে বদবদ টানত। ও শিশু মানুষ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই বদবদের প্রভাব পড়েছে ওর উপর।
-লহরি, তুমি কি বলতে চাইছ, ওর বাবার বদবদ টানার কারণে ও আক্রান্ত হয়েছে?
-হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ। শুধু হাবুল নয়- এদেশের নি¤œ আয়ের প্রায় সব মানুষ বদবদ টানে। ঘুম থেকে উঠে কোন কিছু খাওয়ার আগেই বদবদ টানতে শুরু করে। দল বেঁধে বা একা একা হাঁটছে আর অনবরত ট্রেনের চুল্লীর মত বদবদের ধোঁয়া উড়িয়ে যাচ্ছে। অজ¯্র কলকারখানার ধোঁয়ার চেয়ে মারাত্মক ধোঁয়ার প্রভাব সৃষ্টি করছে বদবদ। প্রতিনিয়ত কোটি কোটি মানুষ এটা করছে। তাই মানুষের আয়ু মানুষই কমাচ্ছে। এখন পৃথিবীব্যাপী বনাঞ্চল শত চেষ্টা করেও ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। ভোর থেকেই অ টু (ঙ২) ওয়ালারা মানুষকে বলছে ‘ও মানুষ তোমরা আর সি অ টু (ঈঙ২) তৈরি কর না। আমরা খেয়ে শেষ করতে পারছি না। কিন্তু কে শুনে কার কথা। মানুষের, সি অ টু (ঈঙ২) উৎপাদন মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে এবং পৃথিবীতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিপর্যয়।
-দুদুল বলল- আচ্ছা লহরি, তোমার বক্তৃতা, একটু থামিয়ে আমার হাবুলকে বাঁচাও। আমরা তো বড়ই ভীত সন্ত্রস্ত্র।
-আচ্ছা দুদুল। এটা আমার কাছে কোন কঠিন কাজ নয়। ভোরের সূর্যালোকে তোমার আয়নার চকচকে পৃষ্ঠটা ধরে ওর বুক বরাবর আলো ফেলে আমাকে স্মরণ করবে। ব্যাস- ও ঠিক হয়ে যাবে।
ভোর পাঁচটায় লহরিকে নিয়ে দুদুলরা বাড়ি ফিরল। ওকে দুদুলের ঘরে রেখে বাকীরা যার যার বাড়ি চলে গেল। লহরিকে ঘরের কোণায় লুকিয়ে রেখে দুদুল বিছানায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলো। ও সূর্যোদয়ের অপেক্ষা করছে। পূর্বের কথা মত হাবুল ভোরে দুদুলের ঘরে এলো। লাল সূর্যটা পূর্বাকাশে গাঁয়ের উপরে উঠেছে। দুদুল ওর আয়নার টুকরা বের করে সূর্যের আলোতে ধরে এর প্রতিফলন হাবুলের উপর ফেলল। হাবুলের বুকটা সূর্যের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দুদুল লহরির কথা মনে মনে ভাবল। আর তখনই ঐ আলোটা আরো উজ্জ্বল হয়ে গাঢ় হলুদাভ রঙ ধারণ করল। আস্তে আস্তে আলোটা বেগুনি রঙে পরিবর্তিত হল। কিছুক্ষণ বেগুনি থাকার পর আবারও স্বাভাবিক হয়ে এলো আলোটি। দুদুল আয়নাটা সরিয়ে নিয়ে বলল ‘হাবুল তুই কি কিছু বুঝবার পারছস?
-হাবুল ডানহাতখানা ওর বুকের সবখানে হাতড়ে বলল হ্যাঁ দুদুল ভাই, বে শ আরাম লাগতাছে।
-আচ্ছা। তুই এখন বাড়ি যাগা।
হাবুলকে বিদায় করে দুদুল ঘুমিয়ে পড়ল।
লহরি একা একা ঘরের কোণে কী আর করবে? সে আচমকা এক সিদ্ধান্ত নিল। দুদুলের শার্ট প্যান্ট পরে বেরিয়ে পড়ল সে। অবশ্য মাস্ক আর মাংকি টুপি নিতে ভুলল না। ভাগ্য ভাল যে, কেউ ওকে খেয়াল করেনি। হাঁটতে গিয়ে সমস্যা হলো তার। চাঁদের দেশে পা তুললেই যেভাবে উড়ে উড়ে যাওয়া যায় এখানে সেটা হলো না। স্টেপ বাই স্টেপ হাঁটতে হলো। অবশ্য গতি প্রচুর। ৩০ মাইল/ঘন্টা। মানুষ যে তাকে একেবারে খেয়াল করেনি তা কিন্তু নয়। একটা ছোট বাচ্চা এত দ্রুত হাঁটছে। চোখ ফেরাতে না ফেরাতে অনেক দূর চলে যায়। তাই ও নিয়ে আর তেমনটি মাথা ঘামায়নি কেউ।
শহরের কীন ব্রীজ পেরিয়ে যে অট্টালিকাগুলো চোখে পড়ল- ওগুলো বেশ মনোরম। বড় বিল্ডিংয়ের উপরে একটা দাঁড়িপাল্লার ছবি লক্ষ্য করল সে। ও এটা তো কোর্ট বিল্ডিং অনেক বিচারালয় সেখানে। লহরি ভাবে... বিচার ব্যবস্থা কেমন... দেখেই যাই। একটা ক্রিমিনাল এজলাসে ঢুকে পড়ল সে। ছোট্ট বাচ্চার মত এক কোণে দাঁড়িয়ে রইল। হঠাৎ ওর চোখ পড়ল একটা লেখার উপর ‘যাহা বলিব, সত্য বলিব। সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না।’ এখন এজলাসে উপস্থিত বাদী বিবাদীর মনে একবার চোখ বুলাল লহরি। বাদী সত্যটাকে আড়াল করে উকিলের দেয়া বুলি আওড়াচ্ছে। বিবাদীও নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা বলতে মনস্থ করেছে।
লহরি জজের মনে একবার চক্কর দিল। জজ বুঝতে পারছেন বাদী বিবাদী উভয়ই মিথ্যা বলছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। বাদী বিবাদীর জবানবন্দী আর সাক্ষী সাবুদের উপর ভিত্তি করেই বিচার করতে হয়। লহরি ভাবে টাকা দিয়ে উকিল ধরে কী মিথ্যা মিথ্যা খেলছে ওরা। তাহলে কালো বোর্ড ঐ স্লোগান লিখেছে কেন?
লহরির এই সিস্টেম ভাল লাগল না। মন খারাপ করে সে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তার ডানপাশে একটা সাইন বোর্ড দেখল। লেখাটা অত্যন্ত স্পষ্ট পুরিশ সুপারের কার্যালয় এদিক ওদিক উকি দিয়ে দেখল দুজন গার্ড ঝিমুচ্ছে। এই সুযোগে সে ভিতরটা দেখতে চেষ্টা করল। একজন অফিসার হাতের স্টিক দিয়ে মাথায় মৃদু আঘাত করে করে কী যেন ভাবছে। লহরি ওর মনে একটু উকি দিল..... আ: এত প্যাচ এখানে! দুই পক্ষের মারামারিতে একজন মার্ডার হয়েছে। পুলিশ মার্ডারারকে ধরতে যাবে। কিন্তু অফিসার ভাবছে ভিন্ন জিনিস। এখনও মার্ডার হওয়া লোকের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। খরচাপাতিও দেয়নি শালারা। এদিকে উপর থেকে চাপ আছে। পুলিশ বলে কথা। কী এ্যাকশন নেয়া হয়েছে এই মর্মেতো জবাবদিহি করতে হয়। অফিসার মনে মনে ঠিক করেই নেয়- দূর মার্ডারার ধরা তো সহজ নয়। কিন্তু পিঠ তো বাঁচাতে হবে। এক কাজ করি যেদিকে মার্ডার হয়েছে ওদের আত্মীয় স্বজন বাড়িতেই থাকবে। ইন্টারোগেশনের ছুতোয় ক’জন ধরে নিয়ে আসবো পরে দেখা যাবে। লহরি অবাক হয়!! এই তোমার ডিউটির নমুনা? তাহলে পুলিশের শপথ কেন নিয়েছ? কেনই বা পুলিশের গুরু দায়িত্ব নিয়েছ? এখন বিকেল ৩টা, লহরি ভাবে- দুদুল ওঠে খুঁজবে ওকে। এবার ফেরা যাক।

 

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT