সম্পাদকীয়

বায়ু দূষণ শূন্যের কোঠায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৪:৩৪ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত

বায়ু দূষণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণ করে ইটভাটা। দেশের মোট বায়ু দূষণের ৫৮ ভাগই হয় ইটখোলা থেকে। এ পর্যন্ত ৬৫ ভাগ ইটভাটাকে দূষণমুক্ত করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই শতভাগ ইটখোলা বায়ু দূষণমুক্ত হবে। এছাড়া, বায়ুর মান নির্ণয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ১৬টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় একথা বলেন।
আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে বায়ু দূষণ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বাতাস দূষিত হচ্ছে আশক্সক্ষাজনকভাবে। দেশের ছয়টি মহানগরসহ আটটি শহরের বাতাস এখন অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এই অবস্থায় বেঁচে থাকার জন্য মানুষের ফুসফুসে যা ঢুকছে, তা শুধু মৃত্যুকেই ত্বরান্বিত করছে। চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন মানুষ দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করছে, কিন্তু ফুসফুসে তারা নিচ্ছে দুই হাজার লিটার বাতাস। আর এই শ্বাস গ্রহণের সময়ই ফুসফুসে ঢুকে পড়ছে অস্বাস্থ্যকর বস্তুকণা। বায়ুতে অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ভাসমান ধূলিকণাই নানা রোগব্যধির বিস্তার ঘটাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন পুরনো মোটরগাড়ির অতিমাত্রায় ব্যবহার, যেখানে সেখানে স্থাপিত ইটভাটা, স্টোন ক্রাশিং মেশিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ এবং গ্যাস ও তেল শোধনাগার থেকে সৃষ্ট উপজাতক ক্ষতিকর উপাদানের সৃষ্টি করছে। যা শ্বাস প্রশ্বাস জনিত রোগ, মাথাব্যথা এবং চর্মরোগের মতো নানা রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। [আর বায়ু দূষণ এখন শহর নগর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে মফস্বলেও। তবে শহরবাসীর জন্য সমস্যাটি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে সিলেট মহানগরীতে বায়ু দূষণ এখন নীরবে নিভৃতে জনস্বাস্থ্যের সর্বনাশ করে যাচ্ছে। জরিপের তথ্য হচ্ছেÑ নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার এবং তাঁতীপাড়া এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি।]
বায়ু দূষণ শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই একটি আতঙ্কের নাম। তবে মানুষ সচেতন হলে এ থেকে বাঁচা যায়। বিশেষ করে ধূলোবালি, কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের ধোঁয়া প্রভৃতি কারণে দূষিত হয় বায়ু। ইতোপূর্বে সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্মাণ কাজের সময় চারপাশ ঢেকে রাখা ও পানি ছিটানো, রাস্তা খোঁড়ার সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঢেকে রাখা, স্টিল রিপেয়ারিং মিলস ও সিমেন্ট কারখানাগুলোতে বস্তুকণা নিয়ন্ত্রণমূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ধূলোবালি কমাতে বাড়ির আশেপাশে সবুজায়ন করা এবং ইটভাটায় পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, বায়ু দূষণ রোধে রয়েছে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা। আইন ভঙ্গে শাস্তির বিধানও রয়েছে। এই আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি বন্ধ করতে হবে অপরিকল্পিত নগরায়ন। সব ক্ষেত্রেই জনসাধারণের সচেতনতা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সফল বাস্তবায়ন আশা করছি আমরা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT