সম্পাদকীয়

বিশ্ব আদিবাসী দিবস

মানুষ যা লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সুন্দর স্বভাব। -আল হাদিস প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৮-২০১৯ ইং ০১:১৮:১৩ | সংবাদটি ২১০ বার পঠিত

আজ ৯ই আগস্ট, বিশ্ব আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘের আহ্বানে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে তিনশ’ ৭০ মিলিয়ন অধিবাসী জনগোষ্ঠী এই দিবসটিকে তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে পালন করে। আদিবাসীর সংখ্যা সারা পৃথিবীর জনগোষ্ঠীর প্রায় পাঁচ ভাগ এবং পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির প্রায় ১৫ ভাগ। এসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রায় সাত হাজার ভাষায় কথা বলে এবং এদের রয়েছে পাঁচ হাজার স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ এদেশের প্রগতিশীল, সংবেদনশীল এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদে বিশ্বাসী মানুষ বেশ জাকজমপূর্ণভাবেই প্রতি বছর এই বিদসটি পালন করে আসছে। এবারও দিবসটি পালিত হবে ব্যাপক আয়োজনে।
‘আদিবাসী’ শব্দটি নিয়ে অনেকের ভিন্নমত রয়েছে। এর প্রকৃত সংজ্ঞা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে প্রচুর বিতর্ক। জাতিসংঘও এ ব্যাপারে সঠিক কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে নি। সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করতো এবং এখনও আছে, যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে, যারা নিজেদের আলাদা সমষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত তারাই আদিবাসী কিন্তু আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা যাবে না; কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত হয়ে আসলেও বাংলাদেশে ২০০১ সালে দিবসটি পালন শুরু হয়। আর জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।
বাংলাদেশে ৪৫ টির মতো আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের প্রত্যেকের জীবন ধারা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি আলাদা। তবে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ‘বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই।’ অর্থাৎ সাংবিধানিক কাঠামোতে বাঙ্গালী ছাড়া অন্য কোন জাতিসত্তার মানুষকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তবে সংবিধানে এই সব জাতিগোষ্ঠীকে ‘জাতি’ হিসেবে নয়, বরং ভিন্ন নামে এক ধরণের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বাঙ্গালী ছাড়া ভিন্ন জাতিসত্তার যেসব মানুষ বাংলাদেশে বাস করে তারা ‘বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়’ হিসেবে পরিচিত। ভিন্ন জাতিসত্তার এইসব জনগোষ্ঠীর আত্ম পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হোক, তারা যথাযথ মর্যাদা ও নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে টিকে থাকুক বিশ্ব আদিবাসী দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT