ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৫:১৯ | সংবাদটি ৩৪ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
আল্লাহর কাছে বংশগত ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলমানের কোন মূল্য নেই; গ্রহণীয় বিষয় হচ্ছে ঈমান ও সৎকর্ম :
ইহুদী হউক, অথবা খ্রিস্টান কিংবা মুসলমানÑ যে কেউ উপরোক্ত মৌলিক বিষয়াদির মধ্য থেকে কোনো একটি ছেড়ে দেয়, অতঃপর শুধু নামভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেদেরকে জান্নাতের একমাত্র উত্তরাধিকারী মনে করে নেয়, সে আত্ম প্রবঞ্চনা বৈ কিছুই করে না,; আসল সত্যের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এসব নামের উপর ভরসা করে কেউ আল্লাহর নিকটবর্তী ও মকবুল হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তার মধ্যে ঈমান ও সৎকর্ম থাকে।
প্রত্যেক পয়গম্বরের শরীয়তেই ঈমান মূলনীতি এক ও অভিন্ন। তবে সৎকর্মের আকার-আকৃতিতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়েছে। তওরাতের যুগে যেসব কাজকর্ম মুসা (আ.) ও তওরাতের শিক্ষার অনুরূপ ছিলো, তা-ই ছিলো সৎকর্ম। তদ্রুপ ইঞ্জিলের যুগে নিশ্চিতরূপে তা-ই ছিলো সৎকর্ম, যা হযরত ঈসা (আ.) ও ইঞ্জিলের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যশীল ছিলো। এখন কুরআনের যুগে ঐসব কার্যকলাপই সৎকর্ম রূপে অভিহিত হওয়ার যোগ্য, যা সর্বশেষ পয়গম্বর (সা.) এর বাণী ও তৎকর্তৃক আনীত গ্রন্থ কুরআন মজীদের হেদায়েতের অনুরূপ।
মোটকথা, ইহুদী ও খ্রিস্টানদের মতবিরোধ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ফয়সালা এই যে, উভয় সম্প্রদায় মূর্খতাসূলভ কথাবার্তা বলেছে, তাদের কেউই জান্নাতের ইজারাদার নয়। তাদের কারও ধর্ম ভিত্তিহীন ও বানোয়াট নয়; বরং উভয় ধর্মের নির্ভুল ভিত্তি রয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির প্রকৃত কারণ হচ্ছে এই যে, ওরা ধর্মের আসল প্রাণ অর্থাৎ বিশ্বাস, সৎকর্ম ও সত্য মতবাদকে বাদ দিয়ে বংশ অথবা দেশের ভিত্তিতে কোনো সম্প্রদায়কে ইহুদী আর কোনো সম্প্রদায়কে খ্রিস্টান নামে অভিহিত করেছে।
যারা ইহুদীদের বংশধর অথবা ইহুদী নগরীতে বাস করে অথবা আদমশুমারীতে নিজেকে ইহুদী বলে প্রকাশ করে, তাদেরকেই ইহুদী মনে করে নেয়া হয়েছে। তেমনিভাবে খ্রিস্টানদের পরিচিতি ও সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। অথচ ঈমানের মূলনীতি ভঙ্গ করে এবং সৎকর্ম থেকে বিমুখ হয়ে কোনো ইহুদীই ইহুদী এবং কোনো খ্রিস্টানই খ্রিস্টান থাকতে পারে না।
কুরআন মজীদে আহলে কিতাবদের মতবিরোধ ও আল্লাহর ফয়সালা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের সতর্ক করা, যাতে তারাও ভুল বোঝাবুঝিতে লিপ্ত হয়ে একথা না বলে যে, আমরা পুরুষানুক্রমে মুসলমান, প্রত্যেক অফিসে ও রেজিস্ট্রারে আমাদের নাম মুসলমানদের কোটায় লিপিবদ্ধ এবং আমরা মুখেও নিজেদের মুসলমান বলি, সুতরাং জান্নাত এবং নবী (সা.) এর মাধ্যমে মুসলমানদের সাথে ওয়াদাকৃত সকল পুরস্কারের যোগ্য হকদার আমরাই।
এই ফয়সালা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শুধু দাবী করলে, মুসলমানরূপে কোটায় লিপিবদ্ধ করালে অথবা মুসলমানের ঔরসে কিংবা মুসলমানদের আবাসভূমিতে জন্মগ্রহণ করলেই প্রকৃত মুসলমান হয় না, বরং মুসলমান হওয়ার জন্যে পরিপূর্ণরূপে ইসলাম গ্রহণ করা অপরিহার্য। ইসলামের অর্থ আত্মসমর্পণ। দ্বিতীয়তঃ সৎকর্ম অর্থাৎ, সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করাও জরুরি।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কুরআন মজীদের এই হুশিয়ারী সত্ত্বেও অনেক মুসলমান উপরোক্ত ইহুদী ও খ্রিস্টানী ভ্রান্তির শিকার হয়ে পড়েছে। তারা আল্লাহ, রসুল, পরকাল ও কেয়ামতের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে বংশগত মুসলমান হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করতে শুরু করেছে। কুরআন ও হাদিসে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সাফল্য সম্পর্কে মুসলমানদের সাথে যেসব অঙ্গিকার করা হয়েছে, তারা নিজেকে সেগুলোর যোগ্য হকদার মনে করে সেগুলোর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করছে। অতঃপর সেগুলো পূর্ণ হওয়ার লক্ষণ দেখতে না পেয়ে কুরআন ও হাদিসের অঙ্গিকার সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। তারা লক্ষ্য করে না যে, কুরআন নিছক বংশগত মুসলমানদের সাথে কোনো অঙ্গিকার করেনিÑ
যতোক্ষণ না তারা নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহ তাআলা ও তার রসুল (সা.) এর ইচ্ছার অধীন করে দেয়। ‘বালা মান আছলামা’ আয়াতের সারমর্ম তাই।
[চলবে]

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  •   সুস্থতা আল্লাহ তা’আলার মহান নেয়ামত
  • মুমিনের মেরাজ
  • যে আমলে মিলবে জান্নাতের ফল লাভ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের
  • মসনবি শরিফের একটি ঘটনা
  • ইসলামে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব
  • বাইতুল্লাহর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর বন্ধন
  • তাফসিরুল কুরআন
  • আরাফাহের খুতবা : মুসলিম জাহানের অনবদ্য দিকনির্দেশনা
  • কোরবানি ও প্রাসঙ্গিক মাসাইল
  • পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা
  • তাফসিরুল কুরআন
  • সাবাহি মক্তবের আধুনিক সংস্করণ
  • মুসলিম উম্মাহর একতার নিদর্শন হজ্ব
  • তাফসিরুল কুরআন
  • ন্যায়বিচার একটি ইবাদত
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় : স্নেহ-ভালবাসা
  • মধুর ডাক
  • তাফসিরুল কুরআন
  • Developed by: Sparkle IT