বিশেষ সংখ্যা

কুরবানি : ইতিহাসের আলোকে

মাওলানা আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৭:৪৭ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত

কুরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। প্রত্যেক নবীর উম্মতের উপর কুরবানির বিধান ছিল। তবে প্রত্যেক নবীর উম্মতের সেই কুরবানির পদ্ধতি সমান ছিলনা। প্রত্যেক নবীর উম্মতের কুরবানীর পদ্ধতি যেমন ছিল ভিন্ন তেমনি কুরবানি কবুল হওয়ার পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন। মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ:) এর সময় থেকেই কুরবানির সূচনা হয়। তখনকার কুরবানির ইতিহাস ছিল এই-আল্লাহর অশেষ মহিমায় তখন হযরত আদম (আ:)-এর ঔরসে জোড়ায় জোড়ায় সন্তান জন্মগ্রহণ করতেন। প্রতিবারই একজন ছেলে ও একজন মেয়ে জন্মগ্রহণ করতেন। তখনকার বিবাহের নিয়ম ছিল-প্রথম গর্ভের ছেলের সাথে দ্বিতীয় গর্ভের মেয়ের বিবাহ দেয়া এবং দ্বিতীয় গর্ভের ছেলের সাথে প্রথম গর্ভের মেয়ের বিবাহ দেয়া। হযরত আদম (আ:) এর ঔরসে প্রথমবার যে দু’জন সন্তান জন্ম নেয় তাদের মধ্যে ছেলের নাম ছিল কাবিল আর মেয়ের নাম ছিল আখলিমা। আখলিমা ছিল পরমা সুন্দরী। আর হযরত আদম (আ:) এর ঔরসে দ্বিতীয়বার যে দু’জন যমজ সন্তান জন্মগ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ছেলের নাম ছিল হাবিল আর মেয়ের নাম ছিল লিওয়াজা। লিওয়াজা ছিল কুশ্রী। তখনকার বিধান মতে কাবিলের নিকট লিওয়াজার এবং হাবিলের নিকট আখলিমার বিবাহ হবার কথা। কিন্তু লিওয়াজা সুন্দরী না হওয়ায় কাবিল তাকে বিবাহ করতে অসম্মতি জানায়। কাবিল লিওয়াজকে বিবাহ করতে কোনক্রমেই রাজি হয়নি। অপরদিকে হাবিল তৎকালীন ধর্মনীতি অনুসারে আখলিমাকে বিবাহ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার মতের উপর সে অটল ও অবিচল। আখলিমাকে পাবার জন্য হাবিল ও কাবিলের মধ্যে চরম বাক-বিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। হযরত আদম (আ:) এই বাক-বিতন্ডা নিরসনের লক্ষ্যে তার পুত্রদ্বয়কে বললেন ‘তোমরা মিনায় গিয়ে আল্লাহর নামে কুরবানি কর, যার কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হবে সে-ই আখলিমাকে বিয়ে করবে।’ তখনকার সময়ে কুরবানি কবুল হওয়ার লক্ষণ ছিল এই যে, কুরবানিদাতা কুরবানিকৃত বস্তু কুরবানির স্থানে রেখে আসবে। মহান আল্লাহর হুকুমে আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে যার কুরবানির বস্তু জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেবে তার কুরবানি কবুল হয়েছে বলে বুঝা যাবে। এরই প্রেক্ষিতে কাবিল কুরবানির স্থানে (মিনায়) গিয়ে কিছু শস্য (গম) কুরবানি স্বরূপ রেখে আসে। তার রেখে যাওয়া শস্য আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে ভষ্ম করে দেয়নি। কারণ তার কুরবানি কবুল হয়নি। অপরদিকে হাবিল কুরবানির স্থান (মিনায়) গিয়ে দুম্বা কুরবানি করে। তার কুরবানিকৃত দুম্বাটি রেখে আসার সাথে সাথেই আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেয়। ফলে কবুল হয় তার কুরবানি। এভাবেই কুরবানির সূচনা হয়।
ইসলামে কুরবানি আসে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ:) এর কুরবানিকে কেন্দ্র করে। ইব্রাহীম (আ:) মহান আল্লাহর দরবারে একজন সন্তানের জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহপাক তাঁকে একজন সন্তান দান করলেন। নাম রাখলেন ‘ইসমাঈল’। ইসমাঈল (আ:) যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে (৭ বছর মতান্তরে ১৩ বছর-জালালাইন শরীফ : পৃষ্ঠা-৩৭৭) উপনীত হলেন তখন ইব্রাহীম (আ:) এক রাতে স্বপ্নে দেখেন, কে যেন তাঁকে বলছে, ইব্রাহীম! আল্লাহর নামে কুরবানি কর। তিনি স্বপ্ন মোতাবেক দু’শত উট কুরবানি করেন। তিনি পরপর তিন রাত এরূপ স্বপ্ন দেখেন এবং তিনবার তিনি প্রত্যুষে দু’শ করে উট কুরবানি করেন। চতুর্থ রাতে তিনি আবার স্বপ্নে দেখলেন-কে যেন তাকে সুস্পষ্ট করে বলছে, হে ইব্রাহীম! তোমার পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানি কর। আম্বিয়ায়ে কেরামের স্বপ্নও ওহী। এটা আল্লাহর নির্দেশ। ইব্রাহীম (আ:) ৮৬ বছর বয়সে একমাত্র সন্তান পেয়েছেন ইসমাইলকে। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাঁকে অবশ্যই আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি করতে হবে। ইব্রাহীম (আ:) স্বপ্নের কথা স্বীয় পুত্র ইসমাইলকে বললেন। পুণ্যবান পুত্র ইসমাইল (আ:) পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ:)কে বললেন, হে আমার পিতা! আপনি আল্লাহর নির্দেশ পালনে ত্বরা করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে এ ব্যাপারে ধৈর্যশীল পাবেন। ইব্রাহীম (আ:) পুত্র হযরত ইসমাইল (আ:) কে কুরবানি করার উদ্দেশ্যে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মিনায় রওয়ানা হলেন। মিনার দিকে পথ চলার সময় শয়তান তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু শয়তানের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ইতিহাস ও তাফসির গ্রন্থের বর্ণনা মতে-শয়তান তিনবার হযরত ইব্রাহীম (আ:) ও হযরত ইসমাইল (আ:)কে প্রতারিত করার চেষ্টা করে এবং প্রত্যেক বারই তাকে কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাঁরা তাড়িয়ে দেন। অদ্যাবধি এই প্রশংসনীয় কাজের স্মৃতি মিনায় কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। হযরত ইসমাইল (আ:) কুরবানির জন্য প্রস্তুত হলেন। কুরবানির পূর্বে তিনি তাঁর পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর নিকট তিনটি অসীয়ত পেশ করলেন। এ অসীয়তগুলো হচ্ছে-(১) আমার হস্ত-পদগুলো শক্ত করে বাঁধবেন। যাতে ছুরি চালানোর সময় আমি ছটফট করতে না পারি। (২) আমাকে উপুড় করে শোয়াবেন। যাতে আমার চেহারা আপনার চোখে না পড়ে। আমিও যেন আপনার চেহারা দেখতে না পারি। কেননা পিতা পুত্রের পরস্পর দৃষ্টিপাত পরস্পরের প্রতি দরদ সৃষ্টি হয়ে যাবে। আর এটা আল্লাহর নৈকট্য লাভে বাঁধা সৃষ্টি হতে পারে। (৩) আপনি যখন ঘরে ফিরে যাবেন তখন আমার মায়ের কাছে আমার সালাম দেবেন এবং আমার রক্তমাখা বস্ত্র তাকে দেবেন। এটা আমার মায়ের প্রশান্তির উপকরণ হবে। কেননা, আমার মায়ের দ্বিতীয় কোন সন্তান নেই।
একমাত্র পুত্রের মুখে এসব কথা শুনে পিতার মানসিক অবস্থা যে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। হযরত ইব্রাহীম (আ:) দৃঢ়তায় অটল হয়ে পুত্রকে অত্যন্ত খুশি হয়ে বললেন-বৎস! আল্লাহর নির্দেশ পালন করার জন্যে তুমি আমার অত্যন্ত চমৎকার সহায়ক হয়েছ। হযরত ইব্রাহীম (আ:) স্বীয় পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানির জন্য শোয়ালেন। ইসমাঈলের গলায় তিনি বারবার ধারালো ছুরি চালালেন। বারবার ধারালো ছুরি চালালেও ইসমাঈল এর গলা কাটছিল না। গায়েবী আওয়াজ এলো, হে ইব্রাহীম তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ যেভাবে পালন করার তা সত্যিই পালন করেছ, তুমি আল্লাহর পরীক্ষায় পরিপূর্ণভাবে উত্তীর্ণ হয়ে গেছ। এই বলে আল্লাহপাক হযরত জিব্রাইল (আ:) এর মাধ্যমে একটি জান্নাতী দুম্বা প্রেরণ করলেনা। হযরত ইব্রাহীম (আ:) উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন হযরত জিব্রাঈল (আ:) একটি জান্নাতী দুম্বা নিয়ে দন্ডায়মান। হযরত ইব্রাহীম (আ:) আল্লাহর নির্দেশে পুত্র ইসমাঈলের পরিবর্তে সেই দুম্বাটি কুরবানি করলেন। বর্ণিত আছে, হযরত আদম (আ:) এর তনয় হাবিল যে দুম্বা কুরবানি করেছিলেন সেই দুম্বাটিই আল্লাহপাক দীর্ঘ দুই হাজার বছর পর্যন্ত জান্নাতে পেলে পুষে বড় করে অবশেষে হযরত ইসমাঈল (আ:) এর স্থলে কুরবানির জন্য প্রদান করলেন। পরবর্তীকালে হযরত ইব্রাহীম (আ:) এই দুম্বার চামড়া দিয়ে দস্তরখানা বানিয়ে তাতে বসে মেহমানদারী করতেন। সেটির পশম দ্বারা হযরত সারাহ (আ:) একখানা চাদর বুনেন। সে চাদর হযরত ইব্রাহীম (আ:) তাবুতে সাকীনায় রেখে দিয়েছিলেন। একদিন হযরত জিব্রাঈল (আ:) তাবুকে সাকীনা নিয়ে রাসুল (সা:) এর দরবারে আসেন। তিনি তাবুতে সাকীনায় রক্ষিত দুম্বার পশমের চাদরখানা হযরত ওমর (রা:)কে খেরকা তৈরি করার জন্য দান করেন। খেরকাটি জীবনভর হযরত ওমর (রা:) এর কাছে রক্ষিত ছিল বলে কথিত আছে।
রাসূলে পাক (সা:) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব কর্তৃক পুত্র আব্দুল্লাহকে কুরবানি করার ইতিহাস হচ্ছে এই-পবিত্র মক্কা নগরীর আদি অধিবাসী ছিল জরহম গোত্র। যারা হযরত ইসমাঈল ও বিবি হাজেরার সময় হতেই মক্কায় বসবাস শুরু করেছিল। মক্কা নগরীর কর্তৃত্ব এই গোত্রের হাতেই ন্যস্ত ছিল। তারা নানা ধরনের অপকর্ম শুরু করলো এবং কাবা শরীফের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উপঢৌকন তারা আত্মসাত করতে শুরু করলো। তাদের পাপের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহপাক বনু বকর ও গবশান বিন খুজাআকে তাদের উপর জয়ী করলেন। বনু বকর ও গবশান বিন খুজাআ’ তাদেরকে মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য করলো। মক্কা শরীফ ত্যাগ করার সময় তাদের সর্দার আমর ইবনুল হারিস কাবা শরীফের পবিত্র সম্পদ যেমন বেহেস্তের হরিণদ্বয়, তরবারী, বর্ম ও হজরে আসওয়াদ যমযম কূপে নিক্ষেপ করে কূপটিকে একেবারে বন্ধ করে স্বীয় গোত্রকে নিয়ে ইয়ামেনের দিকে পলায়ন করে। এরপর থেকে যমযম কূপটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দীর্ঘকাল পর খাজা আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নযোগে যমযম কূপ পুনঃখননের জন্য আদিষ্ট হন। খাজা আব্দুল মুত্তালিব যমযম কূপটি পুনঃখননের ইচ্ছা প্রকাশ করলে কুরাইশরা বাধা প্রদান করলো। তাদের আপত্তির কারণ হল, আসাফ ও নায়লা নামক মূর্তিদ্বয়ের মধ্যস্থলে কূপটি অবস্থিত ছিল। মূর্তিদ্বয়ের মধ্যস্থলে কূপটি রয়েছে বলে আব্দুল মুত্তালিবকে স্বপ্নে ইঙ্গিতও করা হয়েছিল। আব্দুল মুত্তালিবের একমাত্র সন্তান হারিস ব্যতীত অন্য কেউ না থাকায় কুরাইশদের আপত্তির পর কূপ খনন করা তার পক্ষে সম্ভব হল না। খাজা আব্দুল মুত্তালিব মান্নত করলেন, যদি আল্লাহ আমাকে দশটি পুত্র সন্তান দান করেন তবে আমি একজনকে কাবার পাশে কুরবানি করব। মহান আল্লাহপাক আব্দুল মুত্তালিবকে দশটি পুত্র সন্তান দান করলেন এবং আব্দুল মুত্তালিব তাঁর সন্তানদের নিয়ে যমযম কূপ পুনঃখনন করলেন। আব্দুল মুত্তালিবের দশজন পুত্রের নাম হচ্ছে-(১) হারিস, (২) যুবাইর, (৩) হজল, (৪) দরার, (৫) মুকাওইম, (৬) আবু লাহাব, (৭) আব্বাস, (৮) হামজা, (৯) আবু তালিব, (১০) আব্দুল্লাহ।
যমযম কূপ পুনঃখনন করার পর আব্দুল মুত্তালিব কাবা শরীফের আঙ্গিনায় নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নে দেখলেন কে যেন বলছে, ‘হে আব্দুল মুত্তালিব! কাবাঘরের মালিকের সাথে যে মান্নত করেছ তা পূরণ কর।’ নিদ্রাভঙ্গের পর তিনি একটি দুম্বা কুরবানি করে মিসকিনদেরকে খাওয়ান। দ্বিতীয় রাতে তিনি স্বপ্নাদিষ্ট হলেন, ‘হে আব্দুল মুত্তালিব! এর চেয়ে উত্তম জিনিস দ্বারা কুরবানি কর।’ জাগ্রত হয়ে তিনি একটি গাভী কুরবানি করে ফকির-মিসকিনদেরকে ভোজ দান করলেন। তৃতীয় রাতে তিনি স্বপ্নাদিষ্ট হলেন, ‘হে আব্দুল মুত্তালিব! এর চেয়ে উত্তম জিনিস দ্বারা কুরবানি কর।’ এবারে তিনি একটি উট কুরবানি করে গরীব মিসকিনদের ভোজে আপ্যায়িত করলেন। তারপর অনুরূপ স্বপ্ন দেখে খাজা আব্দুল মুত্তালিব জিজ্ঞেস করলেন, তার চেয়ে উত্তম জিনিস কী? জবাব পেলেন, ‘তোমার ছেলেকে কুরবানি করার যে মান্নত করেছিলে তা পূরণ কর।’ স্বপ্ন দর্শনে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আব্দুল মুত্তালিব ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। ছেলেদেরকে সমবেত করে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেন। ছেলেরা উত্তর দিলেন, হে পিতা! আমাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আপনি কুরবানি করুন। আমরা সম্মত আছি। তারপর আব্দুল মুত্তালিব লটারী করলেন। লটারীতে আব্দুল্লাহর নাম বের হল। ধারালো ছুরি হাতে আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল্লাহকে নিয়ে কাবার সম্মুখে যেখানে আসাফ ও নায়লা নামক মূর্তি দুটি ছিল সেখানে উপস্থিত হলেন। উল্লেখ্য যে, আসাফ ও নায়লা আসলে ছিল মানুষ। ইয়ালীর ছেলে আসাফ ও জয়দের মেয়ে নায়লা পরস্পর অবৈধভাবে প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে। তারা বনি জরহম গোত্রের লোক। (ঘটনাক্রমে) তারা হজ্জব্রত পালন করার জন্য আসে এবং কাবা শরীফে নির্জনতার সুযোগে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তাদের গুরুতর অপরাধের শাস্তি বিধানের জন্য আল্লাহপাক উভয়কে পাথরে রূপান্তরিত করে ফেলেন। পাথরে রূপান্তরিত পাপিষ্টদ্বয়ের মূর্তি কাবার সামনে রাখা হয় লোকেরা শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু ফল হল বিপরীত : মানুষ ক্রমে মূর্তিদ্বয়ের পূজা আরম্ভ করে দিল। আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল্লাহকে নিয়ে কুরবানি স্থলে পৌঁছলেন। কুরাইশরা বাঁধা প্রদান করে বলল-হে আব্দুল মুত্তালিব! যদি আপনি নিজের ছেলেকে এভাবে কুরবানি করেন তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ছেলেকে কুরবানি করার জন্য এখানে নিয়ে আসবে। ফলে একটি প্রথার সৃষ্টি হবে। তার চেয়ে ভাল হবে আপনি কোন স্বপ্নতত্ত্ববিদের কাছে চলে যান। নিশ্চয়ই কোন পথ বের হবে। আব্দুল মুত্তালিব তাদের কথা শুনে খয়বরের কুতবার নিকট গেলেন এবং সবকিছু বর্ণনা করলেন। কুতবা জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের এলাকার একজন লোকের মৃত্যুপণ কত দিতে হয়? আব্দুল মুত্তালিব জবাব দিলেন, দশটি উট।’ তখন কুবতা বলল, আপনি মক্কায় চলে যান। সেখানে গিয়ে দশটি উট বনাম আব্দুল্লাহ লটারী করুন। যখনই আব্দুল্লাহর নাম আসবে তখন দশটি উট বৃদ্ধি করবেন। এভাবে যতক্ষণ আব্দুল্লাহর পরিবর্তে উটের নাম না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত লটারী করবেন। প্রতিবার ১০টি করে উট সংখ্যা বর্ধিত করবেন। আব্দুল মুত্তালিব মক্কায় ফিরে এসে লটারী আরম্ভ করলেন। নয়বার পর্যন্ত লটারীতে আব্দুল্লাহর নামই আসল। পুনরায় দশটি উট বর্ধিত করলে উটের সংখ্যা একশত পূর্ণ হল এবং দশম বার লটারী দেয়া হল। এবার উটের নাম উঠল। খাজা আব্দুল মুত্তালিব পুত্র আব্দুল্লাহর পরিবর্তে একশ উট কুরবানি করে গরীব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করে দেন। তাইতো রাসুল (সা:) বলেছেন-আনা ইবনুজ জাবিহাইন অর্থাৎ আমি জবাই হওয়া দুই ব্যক্তির পুত্র। একজন হযরত ইসমাঈল (আ:) এবং অপরজন আব্দুল্লাহ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT