উপ সম্পাদকীয়

কুরবানি ও আমাদের করণীয়

আতিকুর রহমান নগরী প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৮:২৬ | সংবাদটি ২০৪ বার পঠিত

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ইবাদত-বন্দেগির জন্য যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিন ব্যতীত আল্লাহর নিকট উত্তম দিন আর নেই।
হযরত যাবের (রা.) হতে বর্ণিত নবিয়ে করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ইবাদতের জন্য আল্লাহর নিকট যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর নেই।
অন্য এক হাদিসে আছে রাসুলে মক্ববুল (সা.) বলেন, আরাফার দিনের রোযা দুইশত বছর রোযা রাখার সমতুল্য আর আশুরার দিনের রোযা এক বছর রোযা রাখার সমতুল্য।
হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত- আল্লাহপাক দিন সমূহের মধ্যে চারটি, মাসসমূহের মধ্যে চারটি, নারিদের মধ্যে চারজন, সর্বপ্রথমে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মধ্যে চারজন এবং স্বয়ং জান্নাত যেসকল নেক বান্দাদের প্রত্যাশি তাদের মধ্যে চারজনকে নির্বাচন করেছেন তাদেরকে সবার থেকে ভিন্ন মর্যাদার অধিকারি করেছেন।
মর্যাদাপ্রাপ্ত দিনগুলো : (১) জুমআর দিন (২) আরাফার দিন (৩) ঈদুল ফিতরের দিন ও (৪) ঈদুল আযহার দিন।
ঈদের আগে রোযা রাখার ফযিলত : হযরত রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, যারা ৮ই যিলহজ্ব রাখলো আল্লাহপাক তাকে হযরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন রোগ পরীক্ষায় সবর করার সমতুল্য সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি আরাফার দিনে রোযা রাখলো আল্লাহপাক তাকে হযরত ঈসা (আ.) এর সওয়াবের ন্যায় সওয়াব দান করবেন।
ঈদের দিনের সুন্নত সমূহ : (১) গোসল করা (২) সুগন্ধি ব্যবহার করা (৩) ঈদের নামায না পড়া পর্যন্ত আহারকার্যকে পিছিয়ে রাখা। (৪) তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া। (৫) তাকবিরে তাশরিক আরাফার দিনে অর্থাৎ যিলহজ্বের ৯ তারিখ ফযরের পর হতে শুরু হবে এবং শেষ হওয়া নিয়ে ইমাম আব হানিফা (রহ.) বলেন,‘নহরের’ দিন তথা ১২ তারিখ আসর পর্যন্ত। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে বলেন, ‘‘আইয়্যামে তাশরিকের শেষ দিন হচ্ছে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত”। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবির বলা। আর তাকবির হল এই-“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ্”।
ঈদের নামায কখন পড়বে : ঈদের নামাযের সময় হচ্ছে সূর্য উর্ধ্বে উঠার পর থেকে পশ্চিমাকাশে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। এ নামায ঈদুল ফিতরের নামাযের মত। নামায শেষে ইমাম সাহেব দুটি খুৎবা পাঠ করবেন যা কুরবানির মাসআলা-মাসাঈলে ভরপুর থাকবে।
মহাগ্রন্থ আল ক্বোরআনে আল্লাহতা’লা ইরশাদ করেন,আমি প্রত্যেক দলকে এই উদ্দেশ্যে কুরবানি করার নির্দেশ দেই যেন তারা ঐ নির্দ্দিষ্ট পশুগুলির উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন (সুরা: হাজ্ব)।
যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব : প্রত্যেক সুস্থ মস্তিস্ক, মুক্বিম ও মালেকে নেসাব স্বীয় প্রয়োজন ব্যতিরেখে অর্থাৎ খাওয়া, পরা, বাসস্থান ও উপার্জনের উপকরণ ইত্যাদি ব্যতিত সাড়ে সাত তোলা সোনা বা বায়ান্ন তোলা রোপা কিংবা সমপরিমাণ সম্পদের অধিকারির উপর কুরবানি ওয়াজিব।
কুরবানির দিন : কুরবানির ইবাদত কেবলমাত্র তিনদিনের মধ্যে সীমিত। দশ, এগারো, এবং বারো যিলহজ্ব এ তিনদিন কুরবানি করা যাবে। দশ যিলহজ্ব ঈদের নামাযের পর হতে বারো যিলহজ্ব সন্ধ্যা পর্যন্ত এই তিনদিনের যে কোন দিন কুরবানি করা যাবে। (হেদায়া:৪/৪২৯)
কুরবানির পশু কেমন হবে : (১) ছাগল-ভেড়া, দুম্বা, গরু-মহিষ, উট ইত্যাদি গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানি করা শুদ্ধ। তাছাড়া হরিণ খরগোশ ইত্যাদি অন্যান্য হালাল প্রাণী দিয়ে কুরবানি আদায় হবে না। (ফতওয়ায়ে আলমগিরি: ৫/২৯৫)
(২) কুরবানির জন্য মোটা তাজা ও সুন্দর পশু ক্রয় করা মুস্তাহাব। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, রাসুলে আকরাম (সা.) খুব সুন্দর হৃষ্ঠ-পুষ্ঠ পশু দিয়ে কুরবানি আদায় করতেন। (ফতওয়ায়ে শামি:৫/২০৯)
(৩) অন্ধ, বধির, অতিরিক্ত দুর্বল, কানের বেশিরভাগ অংশ কাটা, লেজ কাটা পশু দ্বারা কুরবানি জায়েয হবে না। (ফতওয়ায়ে শামি:৫/২৮২)
(৪) যেসব প্রাণী দিয়ে কুরবানি দেয়া বৈধ নয় সেসব প্রাণীকে কুরবানির নিয়তে যবেহ করা মাকরুহে তাহরিমি। (আলমগিরি)
(৫) যেসব পশুর শিং জন্মগতভাবে ভাংগা অথবা মধ্যভাগে ভাংগা তা দ্বারা কুরবানি সহিহ হবে। আর যদি শিং গোড়া থেকে একেবারে নির্মূল করা হয়ে যায় তবে তা দ্বারা কুরবানি জায়েয হবে না। (ফতওয়ায়ে শামি:৫/২৮০)
(৬) কুরবানির পশু যদি বকরি হয়, তবে তা পূর্ণ এক বছরের হবে। আর যদি গরু-মহিষ হয় তবে তা দুই বছর হতে হবে। উট পাচ বছরের কম হলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না।
কিভাবে পশু যবেহ করব : কুরবানির পশুকে ক্বেবলামুখি শুয়াইয়া প্রথমে “ইন্নি ওয়ায যাহতু ওয়াযহিয়া লিল্লাযি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন, ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার”। বলে যবেহ করতে হবে।
ঈদের নামাযের আগে কুরবানি করা শুদ্ধ নয়। (কুদুরি:পৃ.১৯৮)
নিজের কুরবানির পশু নিজ হাতে যবেহ করা উত্তম। নিজে না করলে সামনে থাকা ভাল। (আলমগিরি:৪/১০৬)
আল্লাহর নাম ব্যতিত অন্য নামে কুরবানি করলে তা হারাম হয়ে যাবে। (ফতওয়ায়ে শামি:৫/৫১২)
কুরবানির গোশত কি করবে : কুরবানির তিনভাগে ভাগ করে একভাগ নিজের জন্য, অন্যভাগ আত্মিয়-স্বজনের জন্য আর অপরভাগ গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বন্টন করে দিবে। (শরহে বেদায়া:৪/৪৩৫)
চামড়া কি করবে : কুরবানির পশুর চামড়া দিয়ে জায়নামায, ব্যাগ বা যে কোন ব্যবহার্য পণ্য তৈরি করে নিজে ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুবা এটা বিক্রি করলে তা গরিব-মিসকিনদের হক্ব হয়ে যায়। নিজের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি কাউকেই চামড়ার টাকা দান করতে পারবেন না। তবে কি করবেন? এ প্রশ্নের সহজ জবাব এটা গরিবদের মধ্যে নিকটাত্মিয় গরিবই চামড়ার টাকা পওয়ার বেশি হক্বদার। তবে দানÑখয়রাতের ক্ষেত্রে দ্বিনদারিকে প্রাধান্য দেয়া খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করাটাই সবচেয়ে ভালো।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রাথমিক শিক্ষার এক দশক : পরিপ্রেক্ষিত
  • শুদ্ধি অভিযানের শুদ্ধতা
  • বিপন্ন নদনদী ও খালবিল
  • অর্থনীতির বড়ো চ্যালেঞ্জ : খেলাপি ঋণ
  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবার বাড়বে?
  • স্বামী বিবেকানন্দ
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইউ.এ.ই’র ভূমিকা
  • বাগ্মীতায় অমর আল্লামা ফুলতলী
  • প্রসঙ্গ : বঙ্গবন্ধুর ছবি
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন
  • মানবসেবায় আল্লামা ফুলতলী
  • নৈতিক অবক্ষয়
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তরুণ প্রজন্ম
  • মকর সংক্রান্তি
  • সিলেট জেলা বারের নির্বাচন ঐতিহ্য
  • ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব আল্লামা ফুলতলী
  • অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিত্ব থেকে স্বাধীনতায়
  • দেশের আদালতে মামলার পাহাড়
  • দুর্নীতি রুখব, সোনার বাংলা গড়ব
  • আশাপূর্ণা দেবী
  • Developed by: Sparkle IT