উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

কুরবানির সূচনা

রুহুল ইসলাম মিঠু প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৮:৫৫ | সংবাদটি ১৬২ বার পঠিত

মক্কার নিকটস্থ ‘মিনা’ নামক স্থানে ৩৮০০ সৌর বছর পূর্বে কুরবানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। আল্লাহ্্ হযরত ইব্রাহীম (আ:) কে তাঁর পুত্রের স্থলে একটি পশু কোরবানী করতে আদেশ দেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য ও নজিরবিহীন নিষ্ঠার এ মহান ঘটনা অনুক্রমে আজও মিনায় এবং মুসলিম জগতের সর্বত্র এই আত্মত্যাগের প্রতীক হিসাবে পশু কুরবানির রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে।
উৎসর্গকৃত পশু এক আল্লাহ্্র উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়। যে ব্যক্তি কুরবানি করেন তার নিজেই পশু জবাই করা সুন্নত। তার পক্ষে অন্য কেহ জবাই করতে পারেন। পশু জবাই করার সময় সাধারণত পড়া হয়-পবিত্র কোরআনের দু’টি আয়াত সূরা আনআম এর ৮০ নং এবং ১৬৩ নং আয়াত। প্রথমটির অর্থ হলো-‘আমি আমার মুখ করিলাম যিনি আকাশ মন্ডলি ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তাঁহার প্রতি একনিষ্ঠভাবে এবং আমি মুশরিক নই। ‘দ্বিতীয়টির অর্থ হলো: অবশ্যই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই আল্লাহর জন্য যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক তাঁহার কোনো শরীক নাই।
তারপর সাধারণত বলা হয়, হে আল্লাহ্্ এ পশু তুমিই দিয়াছ এবং তোমারই জন্য কুরবানি করতেছি। সুতরাং তুমিই ইহা কবুল কর ইত্যাদি। এরপর ‘বিস্্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে পশু জবাই করা হয়। পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘এই কুরবানির রক্ত আল্লাহ্্র কাছে পৌঁছায় না। ইহার গোশতও না। বরং তাঁহার কাছে পৌঁছায় কেবল তোমাদের তাকওয়া’ (২২: ৩৭)।
জাহেলিয়ার যুগে প্রতিমার গায়ে বলির রক্ত মাখানো হতো এবং গোশত প্রতিমার প্রসাদরূপে বিতরণ করা হতো। ক্ষেত্র বিশেষে নরবলি দেওয়ারও প্রথা ছিল। কুরবানির নরবলির বিভৎস প্রথা চিরতরে বিলুপ্ত করে এবং বলি পশুর রক্ত মাখানো ও প্রতিমার প্রসাদরূপে বিতরণের প্রথাও মূলোচ্ছেদ করলো। একই সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল যে, তাকওয়ার চূড়ান্ত অর্থ হলো: প্রয়োজন হলে একজন মুমিন তার সবকিছু এমনকি তার নিজের জীবনটিও আল্লাহ্্র নামে কুরবানি করতে সর্বদায় প্রস্তুত। কারণ আল্লাহ্্ মুমিনের জান-মাল ক্রয় করেছেন জান্নাতের বদলে। ইতিহাস মতে পৌণে চার হাজার সৌর বছর পূর্বে কুরবানির সূচনা হয়েছিল। সৌর বছর কিন্তু বৈজ্ঞানিক ঘড়ির কাটায় সাধারণভাবে হিসাব করা নয়। সৌর বছর গণনা একটি অলৌকিক হিসাব বলে অনেকেই মত দেন। (৯০: ১০০)। এ জন্যই কুরআন শরীফে নির্দেশ দেয়া হয়েছে-‘অনন্তর তোমার প্রতিপালক প্রভুর জন্য নামাজ পড় এবং কুরবানি কর’ (১০৮: ২)।
হাদীস শরীফে এর সুস্পষ্ট বিধান বিদ্যমান। উৎসর্গকৃত পশু যা এক আল্লাহর উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়। আত্মীয়-স্বজন বিশেষতঃ দুঃস্থ দরিদ্রদের মধ্যে যা বিতরণ করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার পথ বেছে নেয়া হয়। সে স্বার্থক প্রচেষ্টার যে আত্মিক আনন্দ তাই-ই ঈদুল আযহা নামে অভিহিত হয়। এ দিনে মিনায় হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর অনুপম কুরবানির অনুস্মরণে কেবল হাজীদের জন্য নয়, বরং মুসলিম জগতের সর্বত্র সকল সক্ষম মুসলমানদের জন্য এ কুরবানি করা ওয়াজিব। (মতান্তরে সুন্না : মুআক্কাদা)।
ঈদুল আযহা ১০ই যুল-হিজ্জা, যে দিন পবিত্র হজ্বব্রত পালনকালে হাজীরা মিনা প্রান্তরে কুরবানি করেন এবং তৎপরবর্তী দুই দিনে, মতান্তরে তিন দিনও (আয়্যাম-আল-তাশরীকে) অনুষ্ঠিত হয়। কুরবানির পশু নির্ধারিত বয়সের হতে হবে ও কতকগুলি দৈহিক ত্রুটি (কানা, খোঁড়া, কান কাটা, শিং ভাঙ্গা) ইত্যাদি থেকে মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঈদের নামাজের পর থেকে কুরবানির সময় আরম্ভ হয়। পরবর্তী দুইদিন, মতান্তরে তিনদিন স্থায়ী থাকে এবং শেষ দিনের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়।
কুরবানির পর প্রাপ্ত গোশতের তিন ভাগের এক ভাগ মালিক, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বাকী এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ ঘটে এবং একই সঙ্গে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুরবানিকৃত পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করার বা অন্যকে দান করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু চামড়া, গোশত, হাড্ডি, চর্বি অর্থাৎ নিজ কুরবানির কোনো কিছু বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভোগ করা জায়েজ নয়, (হিদায়া, আলমগীরী, শামী)। কুরবানির পশুর চামড়া বা তার অর্থ দরিদ্রদের কিংবা মাদ্রাসা বা এতিমখানার দরিদ্র ছাত্রদের দান করা হয়।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন ও কিছু কথা
  • শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ মুজাম্মিল আলী
  • আমরা কি সচেতন ভাবেই অচেতন হয়ে পড়ছি?
  • দ্রব্যমূল্যর উর্ধগতি রুখবে কে?
  • আগুনের পরশমনি ছোয়াও প্রাণে
  • শিক্ষার মানোন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালচাল
  • সিলেটের ছাত্র রাজনীতি : ঐতিহ্যের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা
  • নাসায় মাহজাবীন হক
  • লেবানন : চলমান গণবিক্ষোভের লক্ষ্য ও পরিণতি
  • ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ বিতর্ক
  • ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিকথা
  • শিক্ষক পেটানোর ‘বিদ্যাচর্চা’
  • অভিযান যেন থেমে না যায়
  • পেঁয়াজ পরিস্থিতি হতাশার
  • ইরান-আমেরিকা সংকট ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
  • জোসনার শহরের কবি
  • সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি
  • প্রসঙ্গ : ট্রেন দুর্ঘটনা
  • Developed by: Sparkle IT