উপ সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৪:১৭ | সংবাদটি ২৩ বার পঠিত

সেদিন লাখো বাঙালির কন্ঠস্বর ছিলো কান্না। এ কান্না আনন্দের, এ কান্না প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরে পাবার আনন্দ। তাঁকে ফিরে পাবার আনন্দে উচ্ছসিত বাঙালি তাঁকে ফিরে পেয়ে একাত্তরের ১০ জানুয়ারি দু’চোখে আনন্দাশ্রু ঝরিয়ে ছিলো। আর তিনি-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেঁদে ছিলেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রিয় জনগণের মাঝে ফিরে আসতে পেরে।
জনগণের জন্য যে নেতার এত মায়া, এত দরদ, সেই নেতা পাকিস্তানের কারাগারে ফাঁসির পিচ্ছিল রশির দিকে তাকিয়ে সেদিন কি ভেবেছিলেন? জোর দিয়ে বলা যায়, নিশ্চয় মরণের কথা নয়, ভেবেছিলেন বাংলার জনগণের কথা। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় এতো হাঁপিয়ে উঠেননি, অধৈর্য হয়ে উঠেছিলেন লন্ডনে পৌঁছে। তিনি হোটেলের লবিতে সাংবাদিকদের বলেন, আমি যতদ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চাই। আমার জনগণকে ছেড়ে আমি এক মুহূর্ত শান্তি পাচ্ছি না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, আমি বন্দি ছিলাম। অনেক কিছুই আমার জানার উপায় ছিলো না। আমি ঢাকায় ফিরে আমার জনগণের কাছে আমি সব জানবো।
বঙ্গবন্ধুর মুক্তির অন্তিমে ও প্রক্কালে পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু সময় নীরব ছিলো। রাত তিনটায় রেডিও পাকিস্তান জানায়, ‘শেখ মুজিব’ বর্তমানে লন্ডন রয়েছেন। তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে অজানা আশংকা ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছিলো। ৮ তারিখেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে জুলফিকার আলী ভূট্টোর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ভূট্টো যদি পশ্চিম পাকিস্তানকে রক্ষা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকা ও চীনের ন্যক্কারজনক ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান।
১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকার উদ্দেশ্যে দিল্লি পৌঁছেন। বাংলাদেশের মহান নেতাকে ভারত অভিবাদন জানায় ২১ বার তোপধ্বনি করে। রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী স্বাগত জানান বাংলার নেতাকে। এ সময় বিশ্বের কুড়িটিরও বেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং বঙ্গবন্ধু তিন বাহিনীর স্যালুট গ্রহণ করেন। অতঃপর দিল্লি সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধু একটি জনসভায় ভাষণ দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের রাষ্ট্রীয় ভবনে।
আসে ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। সেদিনই বঙ্গবন্ধু দিল্লি ত্যাগ করেন, পৌঁছেন ঢাকায়। ব্রিটিশ এয়ারফোর্সের যে বিমানটি বঙ্গবন্ধুকে বহন করছিলো, বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে সেই বিমানের পাইলটরা প্রায় পৌনে একঘন্টা বিমানটিকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার মেঘমুক্ত ¯িœগ্ধ আকাশে চক্কর দেয়। বঙ্গবন্ধু উচ্ছাসিত হয়ে প্রাণভরে দু’নয়ন জোড়ে দেখেন তাঁর স্বদেশকে। লাখো জনতার ভিড়ে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহণকারী ট্রাকটি পুরো দু’ঘন্টায় গিয়ে পৌঁছে ঐতিহাসিক সেই রমনার ময়দানে। একাত্তরের সাত মার্চ বঙ্গবন্ধু এখানে দাঁড়িয়ে কোটি বাঙালির সামনে ঘোষণা দেন: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’
এর পরের ইতিহাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রাম। এর পরের ইতিহাস নয় মাসের মরণপণ লড়াই। এই ধারাবাহিকতায় আসে স্বাধীনতা, ষোলই ডিসেম্বর বিজয় দিবস।
লেখক : প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • Developed by: Sparkle IT