বিশেষ সংখ্যা

ইতিহাসের চোখে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড

এ এইচ এম ফিরোজ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৮-২০১৯ ইং ০০:৫১:৫৯ | সংবাদটি ১৭৬ বার পঠিত

সে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। ফজরের আযানের সময় কাকডাকা ভোরে ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে নারকীয় ঘটনা। শিশু রাসেল সহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রচিত করা হয় এক কলঙ্কিত ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে সীমাহীন ক্ষতি করা হয়, সংগ্রামি বাঙালি জাতির। যে বঙ্গবন্ধুর কারণে বিশ্বে বাঙালি বীরের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বাঙালিকে বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করা হল কতিপয় দেশি বিদেশি চক্রান্তকারীদের কারণে। আরো কলঙ্কিত করা হয়, ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের সময় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। কি বর্বর, নির্লজ্জ অসভ্য সিদ্ধান্ত! ১৯৯৬ সনের ১২ নভেম্বর রাত ১০টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশে মহান জাতীয় সংসদে সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করা হয়। এসময় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের দিকে তাকিয়ে শিশুর মত কাঁদছিলেন। শুধু শেখ হাসিনা নয় সেদিন বাঙালি জাতি ও দেশ বিদেশে থাকা কোটি কোটি বাঙালি ও বিশ্ববাসী রাতভর কেঁদেছিল। বিএনপি জামাতের সদস্যগণ বিল পাশে কোন সহযোগিতা করেনি বরং তারা সংসদ ভবন ত্যাগ করে। আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ সহ ১৭০ জন সংসদ সদস্য এসময় উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাব উদ্দিন আহমদ বিলের সম্মতি প্রদান করেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর অবদান সবকিছুই বিকৃতভাবে উপস্থাপনের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু ইতিহাস থেমে থাকেনি। বঙ্গবন্ধুকে তাঁর আপন মহিমায় ইতিহাস পর্বতসম মূল্যায়ন করেছে।
১৫ আগস্ট রক্তাক্ত ঘটনার পর তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ডেভিড বোস্টার বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর ঘন্টায় ঘন্টায় স্টেট ডিপার্টমেন্টে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বেশ অজানা কাহিনী ছিল। ১৫-১৬ আগস্ট বোস্টারের সেইসব রিপোর্টের কিছু কিছু অংশ সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হলো- ‘বাংলাদেশ এন্ড আনফিনিশড’ গ্রন্থের প্রণেতা, লরেন্স লিফসুলজ ১৯৭৯ সালের ১৫ আগস্ট লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকার এক নিবন্ধে লিখেছেন, শেখ মুজিবকে উৎখাতের পরিকল্পনার সাথে খন্দকার মোস্তাক ও তার রাজনৈতিক বন্ধুরা এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিল। অভ্যুত্থান ও মুজিব হত্যার ৬ মাস পূর্বে ষড়যন্ত্রযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড বহিঃবিশ্বে সর্ব প্রথম আমেরিকাই জানতে পেরেছিল। সে দিন ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত একটি গাড়িতে করে সারা ঢাকা শহর ঘুরেছিলেন পরিস্থিতি দেখা ও বুঝার জন্য। বেলা ১১ টার পর থেকে বোস্টার রিপোর্ট পাঠাতেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকেও নির্দেশনা মূলক বার্তা আসতো। প্রথম রিপোটের শিরোনাম ছিল-‘বাংলাদেশের অভ্যুত্থান, এতে বলা হয় পরিস্থিতি দৃষ্টে মনে হয় (১৫ আগস্ট সময় ১১টা)। অভ্যুত্থান সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। কোথাও কোন গোলযোগ হয়নি। প্রতিরোধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিতে আমরা এখনো প্রস্তুত নই। তবে বর্তমান লক্ষণদৃষ্টে বলা যায় অভ্যুত্থান এ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। দ্বিতীয় রিপোর্টের একাংশে বলা হয় (১৫ আগস্ট বিকাল ৪টা) সাফল্যের বিষয়টি আগের মতোই, সক্রিয় কোন প্রতিরোধ চোখে পড়েনি। দূতাবাসে গাড়িগুলো বিনা বাঁধায় চলাচল করতে পারছে। ধানমন্ডির ৩২ নং রোডের শেখ মুজিবের বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় সামরিক ট্রাক ও সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছে, বাড়ির ছাদেও সৈন্যরা আছে। বিমান বন্দর বন্ধ আছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক সৈন্যের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। তৃতীয় রিপোর্টে বলা হয় প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট একজন করে ১০ জন মন্ত্রী ও ৬ জন উপমন্ত্রী শপথ করিয়েছেন। রিপোর্টে বাংলাদেশ বেতারের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে জাতিকে রক্ষার জন্য খন্দকার মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের সাহসী পদক্ষেপের ভুয়সী প্রশংসা করছে। ঢাকা বিমানবন্দর ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ পর্যন্ত নগরী অত্যন্ত শান্ত বলে মনে হচ্ছে। আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়-শেখ মুজিবুর রহমানের স্বৈরাচারি শাসনের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বোস্টার যখন পর পর রিপোর্ট পাঠাচ্ছিলেন ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপত্র প্রেসব্রিফিংয়ে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তারা মোস্তাক সরকারের প্রতি সমর্থনের এই ইঙ্গিত দেয়। তার পর বোস্টার নয়া প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাকের পরিচিতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে বলেন, মোস্তাক বরাবর নিজেকে অবিচল মার্কিনপন্থী হিসেবে প্রতিভাত করেছেন। যে কারণে ভারত ও সোভিয়েত বিরোধী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। মোস্তাক বড় বেশি মার্কিনপন্থী হিসেবে বিবেচিত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের অন্য এক জরুরি বার্তায় নয়া দিল্লির মার্কিন দূতাবাসকে জানানো হয়, বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার কোন প্রয়োজন আমেরিকার নেই। পাকিস্তান বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতে সম্ভাব্য যেকোন সামরিক পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করার দিকে দৃষ্টি রেখেই দৃশ্যত পাকিস্তান এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বোস্টার বার্তায় আরো বলেন মোস্তাক জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মুজিব সরকারের দুনীতি, স্বজনপ্রীতি এবং জনগণের জীবন মান উন্নয়নে ব্যর্থতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে মুজিব বিরোধী অভ্যূত্থানের যৌক্তিক প্রমাণ করেছেন। তখন বাংলাদেশ ইস্যুতে পাক-মার্কিন আতাত গড়ে উঠে ছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখন্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়াবে এমন অঙ্গিকার ব্যক্ত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টু খন্দকার মোস্তাকের নিকট ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়েছেন বলে স্টেট ডিপার্টমেন্টে বার্তায় উল্লেখ ছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে খন্দকার মোস্তাকের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন যোগাযোগের ঘটনা মার্কিন সিক্রেট ডকুমেন্টে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। হেনরি কিসিঞ্জার আওয়ামীলীগের সরকারের মধ্যে একটি বিভাজন তৈরী ও ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টাও করেছিল। ভারত সরকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদ অবগত হয়ে খন্দকার মোস্তাককে বিদেশ মন্ত্রী (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতির আশংকায় মোস্তাককে নাম মাত্র মন্ত্রী রাখেন আর প্রকৃত দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সামাদ আজাদ।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক সহযোগি রজার মরিস তাঁর লিখিত ‘আনসার্টেন গ্রেটনেস’ বইতে কিসিঞ্জার যুগের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ৩টি প্রতিশোধের ঘটনা উল্লেখ করেন। চিলির আলেন্দে ছিলেন আমেরিকার জন্মশত্রু। ভিয়েতনামের থিউ ছিলেন, উত্তর ভিয়েতনামের সঙ্গে সমঝোতায় আমেরিকার প্রতিবন্ধক। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার নীতি বাস্তবায়নের কন্টক। কিসিঞ্জার স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মুজিব তাদের লোক নন, তাই শেখ মুজিবকে উৎখাত করতে হবে। ১৯৭৪ সালে কিসিঞ্জার বাংলাদেশে এসে মোস্তাক গোষ্ঠির সাথে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেন। বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধি বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।
মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফসুল্টজ তাঁর বাংলাদেশ ‘আনফিনিশড রেভলিউশান’ গ্রন্থে বহু তথ্য সমাবেশ করে প্রমাণ করেছেন, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে নেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হত্যাকারীদের সমর্থন দেয়। লিফসুল্টজ তাঁর কার্নোগী রিপোর্ট শীর্ষক একটি দলিলে উল্লেখ করেন, মুজিবনগর আমল থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর খন্দকার মোস্তাকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছিল। ১৯৭৬ সালের জুন মাসে মোস্তাক ভারতের কলকাতায় অবস্থানকালে লরেন্স লিফসুল্টজ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ কল্পে আমেরিকার সাথে তার যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছিল। আমেরিকার সাথে কি ধরনের বোঝাপড়া হয়েছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাক লিফসুল্টজকে বলেন, আপনি যদি জানতে চান তাহলে নিক্সনকে জিজ্ঞাসা করুন। আমি অপনাকে বলব না।
১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের সাবেক প্রধান অনুষ্ঠান সংগঠক শামসুল হুদা চৌধুরীর সাথে এক সাক্ষাতকারে ১৯৭০ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজি জহিরুল কাইয়ুম ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান জেলে বন্দি বঙ্গবন্ধুর খবর সংগ্রহের জন্য কলকাতার আমেরিকান কন্স্যাল জেনারেল হার্বাট গর্ডনের সঙ্গে দেখা করেন। বঙ্গবন্ধু যদি জীবিত থাকেন তাহলে আমেরিকার সাহায্যে তাঁকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের দায়িত্বে এ যোগাযোগ স্থাপন করেন। শামসুল হুদাকে জহিরুল কাইয়ুম বলেন মোস্তাকের নির্দেশে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনের তৎকালীন প্রধান হোসেন আলী আমেরিকান কন্স্যালের সঙ্গে লিয়াজো স্থাপন করেন। এ খবর মোস্তাক নিজে তাঁকে দিয়েছেন বলে জহিরুল কাইয়ুম উল্লেখ করেন। ১৯৭৬ সালে ৩০ মে লন্ডনের ‘দি সান্ডে টাইম্স, পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্ণেল ফারুক বলেছিলেন, ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য শেখ মুজিবকে মৃত্যু বরণ করতে হয়। ফারুক দম্ভ করে বলেছিলেন শেখ মুজিবকে হত্যার জন্য বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছা করলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন! এই হত্যা জাতীয় মুক্তির পক্ষে একটি সক্রিয় পদক্ষেপ। ১৯৭৮ সালে ১৮ জুলাই লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলার ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত বিবৃতিতে ফারুক দাবি করেন, শেখ মুজিবকে ধ্বংস করার জন্য তিনি, সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক ‘আদিষ্ট, হয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালের আগস্ট মাসে লন্ডন থেকে প্রকাশিত আরব দেশ সমুহের ‘এইট ডেজ’ (৮ উঅণঝ) নামের একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকায় ঘাতক মেজর রশিদের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয় শেখ মুজিব সরকারের পতন ঘটিয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে গ্রীষ্মকাল থেকে ফারুক ও রশিদ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করে। ১৯৯৩ সালে ৪ মার্চ ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকের সুর্যোদয়কে এক সাক্ষাতকালে কর্ণেল ফারুক বলেছিল আমিতো (শেখ মুজিবকে) হত্যা করিনি প্লানও ছিলনা। আমরা ঠিক করেছিলাম মুজিবকে ক্যান্টনমেন্টে আটক করে বাকশালটা বাতিল করবো মাত্র। কিন্তু মোস্তাক-রশিদ ক্ষমতার লোভে সিআই এর গোপন চক্রান্তে শেখ মুজিবকে স-পরিবারে খুন করলো। এ ঘটনা শোনার পর আমি আতংকিত হয়েছি। কম করে ৭ রাত ঘুমাতে পারিনি। মোস্তাক স্বীকার করেছে সে-ই এসবের জন্য দায়ী। আসলে আমি মরলে মুজিব হত্যার বিচার হবেনা। কেউ আর সাক্ষী ও থাকবেনা।
মার্কিন অধ্যাপক স্ট্যানলি ঔলপাট ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এক বইতে বলেন, ‘দুই বছর যাবৎ ভুট্টো কয়েকটা মুজিব বিরোধী উপদলকে তার গোপন ‘স্বেচ্ছাধীন তহবিল, থেকে অর্থ সাহায্য অব্যাহত রাখেন। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাস শেষ হওয়ার আগেই তিনি তার বিনিয়োগের ফল লাভ করেন।
১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট টাইম্স অব লন্ডন সংখ্যায় বলা হয়, ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। বঙ্গবন্ধু আজ মিশে আছেন নির্মোহ দানে, বাংলার প্রকৃতিতে, আকাশে-বাতাসে, আলো-ছায়াতে, নদী-গিরি-বনে বাংলার অবারিত মাঠ জুড়ে। তিনি মিশে আছেন লক্ষ শহিদের রক্তে, বাঙালির হৃদয়ে। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী অমর। ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করে বেঁচে আছেন একজন সুদক্ষ রাষ্ট্র নায়ক, আদর্শবাদি মহানায়ক রূপে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT