প্রথম পাতা অপসারণে হিমশিম খাচ্ছে সিসিক/ বিপাকে কওমী বাদ্রাসা

সিলেটের রাস্তায় চামড়ার স্তুপ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৮-২০১৯ ইং ০২:৪৬:০৫ | সংবাদটি ১৭১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সিলেট নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় স্তুপ স্তুপ করে কোরবানীর পশুর চামডা ফেলে গেছেন সংগ্রহকারীরা। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নগরবাসী চামড়া অপসারণের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে ফোন করছেন। ঈদের রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে যাওয়া চামড়া অপসারণে হিমশিম খাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান হানিফুর রহমান জানান, ৩ টন বহনযোগ্য ৫০টি গাড়ি দিয়ে ঈদের রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত নগরীর রাস্তায় ফেলে রাখা প্রায় ৪০টন চামড়া অপসারণ করা হয়েছে।
সিলেটে শতকরা ৭৫ ভাগ কোরবানীর পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট শাহজালাল বহুমুখি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, প্রতিবছর সিলেট থেকে ৭০/৮০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এবার সর্বোচ্চ ২৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।
এবার চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সিলেটের কওমী মাদ্রাসাগুলো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করার পর সারা দিন অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতা না পেয়ে এসব চামড়া মাটিতে পুতে অথবা রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়েছে।
ঈদের রাত সিলেট নগীর আম্বরখানা প্লাজা মার্কেটের সামনে থেকে বিশাল আকারের চামড়ার স্তুপ অপসারণ করে সিটি কর্পোরেশন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব চামড়া সিলেট নগরীর জামেয়া মদিনাতুল উলুম দারুস সালাম খাসদবীর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেছিলেন। সারাদিন ও রাত অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতা না পেয়ে ফেলে রেখে গেছেন তারা।
চামড়া ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জামেয়া মদিনাতুল উলুম দারুস সালাম খাসদবীর মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা মঞ্জুর আহমদ বলেন, এবার তারা ৮শ’ ২৬ পিস গরুর চামড়া ও ২২৮পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা বাসা বাড়িতে গিয়ে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে এসব চামড়া সংগ্রহ করে আম্বরখানা সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের সামনে এনে একত্রিত করেন। এর পেছনে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সারা দিন অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতা এবার চামড়া নিতে আসেনি। ঢাকায় যোগাযোগ করেও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তাই দিনরাত অপেক্ষা করে নিরুপায় হয়ে তারা চামড়া ফেলে আসেন।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে দিয়েছেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষে থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বিক্রির জন্য গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিন চেষ্টা করেও ন্যায্য দামে তা বিক্রি করতে পারেনি। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেন তারা।
ওই মাদ্রাসার মুহতামিম সৈয়দ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর ৯০০ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৮০০টি এবং ছাগলের চামড়া ১০০টি। এসব চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি বলেন, ‘চামড়াগুলো সংগ্রহ ও চামড়ায় লবণ ব্যবহারে জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’
এছাড়া, গতকাল বুধবার জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুস সামাদ আজাদ সড়কের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা নামক এলাকার একটি সেতুর পাশের খালে কোরবানির পশুর চামড়াগুলোর স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, মঙ্গলবার রাতে কোন এক সময় কে বা কারা কোরবানির পশুর চামড়াগুলো ফেলে গেছে সড়কের পাশের খালে। আমাদের ধারণা ২৫০ থেকে ৩০০ পিস পশুর চামড়া হবে ওই স্তুপে।
সিলেট শাহজালাল বহুমূখি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শামিম আহমদ বলেন, ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়েছে। আড়তদারদের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি বলেন, এবার আগ থেকেই জানাছিলো চামড়া নিয়ে বিরাট একটা তামাশা করা হবে। তাই আর এ পথে পা বাড়াইনি। এমনিতেই ঋণের জালে বন্ধি ব্যবসায়ীরা লোকসান গুণতে গুণতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী জানান, গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ২শ, ১৫০ ও ৮০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি। শহরে গাড়ি করে আনার পর ৫০ টাকাতেও কেউ কিনছে না। তাই, চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছি।
সিলেট শাহজালাল বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি শাহিন আহমদ বলেন, সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আগে জানালে এবং কোরবানির আগে বকেয়া পরিশোধে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা হতো না।
তিনি বলেন, ট্যানারী মালিকরা এই ব্যবসা করে একেকজন কয়েক কোটি টাকার মালিক। আর আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম। এরকম হলে এই ব্যবসা লাঠে উঠবেই। আমরা আড়তে নিয়ে চামড়া দেই। তারা আমাদের নগদ টাকা দেয়না। ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে টাকা দেবে বলে চামড়া রাখে। মাসের পর মাস যায় তারা টাকা দিতে চায়না। গত বছররের বকেয়া রয়েছে ৩ কোটি টাকা, এরকম ২০১৫ সাল থেকে তাদের কাছে আমাদের বকেয়া রয়েছে। এবার জানানো হয়, লবনযুক্ত চামড়া ৩৫ টাকা ও ছোট চামড়া ২০টাকা করে তারা নেবে। এটা জানার পর আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ দেখায়নি।
তিনি বলেন, ২ বছর আগেও কওমি ও এতিমখানা মাদ্রাসা চামড়া সংগ্রহ করে সমিতির সদস্যদের কাছে বিক্রি করে ১২/১৩ লাখ টাকা ফান্ড করেেছ। কিন্তু চামড়া ব্যবসায় ধস নামায় মাদ্রাসাগুলো বিপাকে পড়েছে।
জামেয়া মদিনাতুল উলুম দারুস সালাম খাসদবীর মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা মঞ্জুর আহমদ বলেন, একসময় আমরা ২ হাজার টাকা করে প্রতি পিস চামড়া বিক্রি করেছি। এই কয়েক বছর থেকে দাম কমতে থাকে। গত বছর সাড়ে ৫শ টাকা করে বিক্রি করেছি, এর আগের বছর ৬শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার কেউ দামই করেনি। চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের থাকা খাওয়া ও পড়ালেখার কয়েক মাসের ব্যয়ভার বহন করা যেতো। এই খাতটা এখন আর থাকলো না।
সংশি¬ষ্টরা জানান, সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর ঢাকার একাধিক আড়তে আটকে আছে। ২০১৫ সাল থেকে ঢাকার ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলো সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছে না। গত বছর লবণের দাম বেশি হওয়াতে চামড়া ব্যবসায় লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে এবার লবণের দাম ৭০ কোজির বস্তা ৮শ টাকা হলেও চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত টাকা পাননি সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ফলে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে এখন তারা দেউলিয়া হয়ে গেছেন।
সিলেটে প্রায় সহস্্রাধিক চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। বর্তমানে সমিতিতে যুক্ত আছেন ৬০ জন এবং এ ৬০ জনের অধীনে খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন ২ থেকে আড়াইশ’। প্রায় ৭ শতাধিক ব্যবসায়ী নিজেদের এ ব্যবসা থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধান হানিফুর রহমান বলেন, নগীর রাস্তায় ফেলে যাওয়া এসব চামড়া তারা পাড়াইরচক ড্রাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে বোল্ডজার দিয়ে গর্ত করে মাটির নীচে পুঁতে রাখছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সিলেট অফিস সূত্র জানায়, সিলেট জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৫টি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে।

 

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ছবি
  • লুৎফুর-নাসির জেলার এবং মাসুক-জাকির মহানগর আ.লীগের নেতৃত্বে
  • খালেদার জামিন শুনানি এজলাস কক্ষে নজিরবিহীন হট্টগোল
  • টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কঠোর বার্তা
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন
  • ‘মুশতাককে গণপিটুনি দিয়ে মঞ্চ থেকে বের করে দেই’
  • সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত দিবস আজ
  • প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করুন : প্রধানমন্ত্রী
  • বিজয়ের মাস
  • বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব শুরু ১০ জানুয়ারি
  • এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
  • বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কাউন্টডাউন শুরু ১০ জানুয়ারি
  • খালেদা জিয়া সন্ত্রাসীদের গডমাদার : প্রধানমন্ত্রী
  • বিজয়ের মাস
  • মঞ্চ নৌকার আদলে ॥ পদ-প্রত্যাশীরা তাকিয়ে সভানেত্রীর দিকে
  • আন্দোলনের সমাপ্তি, ক্লাসে ফিরছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা
  • কুলাউড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষাসৈনিক রওশন আরা
  • বিজয়ের মাস
  • দক্ষিণ সুরমায় সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু
  • প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
  • Developed by: Sparkle IT