সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মোমেন হও, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখো। -আল হাদিস

নিষিদ্ধ হচ্ছে ইট

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৮-২০১৯ ইং ০১:০৪:০৩ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত

নিষিদ্ধ হচ্ছে ইট। সরকারি নির্মাণ কাজে ইট ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইট সরকারি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার করতে হবে যেকোনো নির্মাণ কাজে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে ইটের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। এটা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে। এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে চলতি অর্থবছর থেকেই। চলতি অর্থবছরের টেন্ডার ডকুমেন্টসে ব্লক ব্যবহারের হার দশ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শতভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে শতভাগ ব্লক ব্যবহারে যাবো আমরা।
মাটি দিয়ে ইট তৈরিই হচ্ছে আমাদের দেশের চিরাচরিত প্রথা। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে তৈরি হয় ইট। আর জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। আবার ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে বৃক্ষ সম্পদ। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এছাড়া, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করায় ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ইটভাটা রয়েছে। এতে প্রতি বছর দু’শ ৩০ কোটি ইট তৈরির জন্য তিনশ’ ৩৫ কোটি ঘনফুট মাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর জন্য পোড়াতে হচ্ছে ৫০ লাখ টন কয়লা এবং ৩০ লাখ টন কাঠসহ অন্যান্য জ্বালানী। এই সব ইটভাটা থেকে দুই কোটি টন কার্বন নির্গত হচ্ছে। যা দূষিত করছে বাতাস। এই প্রেক্ষাপটে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ইতোপূর্বে ইট প্রস্তুত আইন (সংশোধনী) পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
প্রচলিত ইটের চেয়ে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি ব্লক ব্যয় সাশ্রয়ী। সাড়ে পাঁচটি ইটের সমান একটি ব্লক। এটি ইটের চেয়ে ওজনে হালকা। এতে বায়ু ও মাটি দূষণের সম্ভাবনা থাকে না। তাই পোড়া মাটির ইট ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও ইতোপূর্বে ২০২০ সালের মধ্যে পোড়া মাটির ইট ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা ছিলো। এবার এই সময়সীমা বাড়ানো হলো চার বছর। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ইটের চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী দেশে বছরে তিনশ’ কোটি ব্লক ইটের প্রয়োজন। এই চাহিদা পূরণের জন্য সারাদেশের সব সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাগুলোকে পোড়া মাটির ইটের পরিবর্তে ব্লক তৈরির কারখানায় পরিণত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT