সম্পাদকীয়

চাল উৎপাদনে এগিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৮-২০১৯ ইং ০০:৪৮:০৮ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ সম্প্রতি বিশ্বের দানাদার খাদ্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, গত এক বছরে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন বেড়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ। এ বছর উৎপাদন হতে পারে তিন কোটি ৫৩ লাখ টন চাল। যা বিশ্বের প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি একটি সুসংবাদ নিঃসন্দেহে। তবে এর পেছনে আছে দুঃসংবাদও। ধান-চালের ফলন একদিকে বাড়ছে, অপরদিকে এর দাম নিয়ে কৃষকদের হতাশা বেড়ে চলেছে। অর্থাৎ কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই একটি বিরাট সাফল্য। অথচ প্রতিনিয়ত আমাদের কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৬৬ হাজার একরের বেশি কৃষি জমি চলে গেছে অকৃষি খাতে। আর অপর একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, দুই হাজার সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৮ হাজার সাতশ ৬০ হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে মোট ভূমির পরিমাণ তিন কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। এর মধ্যে চাষযোগ্য জমি মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। কৃষি জমির সঙ্গে কমছে কৃষি পরিবারের সংখ্যাও। তারপরেও ফসল উৎপাদনে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, সেটা শুধু কৃষক এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিপর্যয় সামাল দেয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষকেরা ধান উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকে ধানের জমিতে শাকসব্জিসহ অন্যান্য বিকল্প ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
ক্রমাগত কৃষি জমি কমে আসার পরও ফসল উৎপাদন বাড়ছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যেখানে বার্ষিক চাল উৎপাদন ছিলা মাত্র দেড় কোটি মেট্রিক টন, সেখানে এখন উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে তিন কোটি মেট্রিক টন। এই উৎপাদন চার কোটি মেট্রিক টনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব যদি আমাদের কৃষকদের ‘বাাঁচিয়ে’ রাখা যায়। উৎপাদিত খাদ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎসাহ টিকিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য দরকার উৎপাদন ব্যয় কমানো।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT