স্বাস্থ্য কুশল

স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি

শুভাগত চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩০:২২ | সংবাদটি ১৬৮ বার পঠিত

পৃথিবী জুড়ে স্থূলতা বাড়ছে। বাড়ছে মানুষের ওজন। অপুষ্টির পাশাপাশি এই মন্দপুষ্টির সমস্যাও কম নয়। এ নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, প্রবন্ধ রচিত হয় তখন বেশিরভাগ লোকই একে কোনো খাদ্য বা খাদ্য উপকরণের বাহুল্যের কারণে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। মিষ্টি, মন্ডা, চিনি, ভাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এদেরকে দায়ী করা হচ্ছে। কেউ বলছেন, ব্যায়াম, ফল, সবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ এসব কমে যাওয়ার জন্য এমন ঘটছে। কিন্তু আসলে অন্তর্গত কারণটি কী? তবে অনেকগুলো উপাদান যে এর কার্যকারণের সঙ্গে জড়িত তা স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা স্বীকার করবেন। ‘ঞযব ঃরঢ়ঢ়রহম ঢ়ড়রস’ গ্রন্থে ম্যালকম গ্লাডওয়েল দেখিয়েছেন ছোটোখাটো অনেক কারণ এই মহামারির জন্য দায়ী। যেমনÑ
১. ঘরে রান্না হয়েছে বিধায়
নারী আন্দোলনের পক্ষে বড়ো সমর্থক অনেকেই। আমি নিজেও জোরালো সমর্থক। তবে পশ্চিমা তথ্যভিত্তিক মহলের মতে সত্তরের দশকে নারীরা যখন বিপুলভাবে কর্মজীবী শক্তিতে যোগদান করেন, তখন পরিবারের জন্য ঘরে রান্না খাবার তৈরি করার চল ব্যাপকভাবে কমে আসে। অনেক নারী ঘরের এমন সব কাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এখন অনেকেই রান্না করতে জানেনই না। রান্না কিন্তু একটি শিল্প। একে অবহেলা করছেন নারী ও পুরুষ পক্ষই। ইমপলিস্ রিসার্চের একটি গবেষণায় দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানেনই না যে কী করে রান্না করতে হয়। ঘরে রান্না নেই, বাইরে চটজলদি খাবার মানে ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় স্থূলতা তো বাড়বেই।
২. খাদ্য জোগানের ক্ষেত্রে পরিবর্তন
তাই চটজলদি খাওয়া, সহজলভ্য খাবার এসবের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, খাদ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এতে সাড়া দিল আর ব্যবসার লক্ষ্য হলো মানুষের যা সঠিক প্রয়োজন তেমন জোগান দেওয়া নয় বরং মানুষের চাহিদা মাফিক জোগান দেওয়া। তাহলে ব্যবসা চলবে। নীতিকথার ওপর ভর করে তো ব্যবসা চলে না। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবারের চল বেড়েছে। রেস্তোরাঁতে ভ্যালু মিল সাশ্রয়ী মূল্যে বড়ো অংশ খাবার বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের খাওয়ার ধরনটাই পালটে গেল। ২০০০ সালে আমেরিকান খাদ্য সরবরাহ ব্যক্তিভেদে জোগান দিয়েছে ৩০০০ ক্যালোরি। অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
৩. মানসিক চাপ ও খাওয়ার ধরন
মানুষের আকাক্সক্ষা হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া, তাই বাড়ি-গাড়ি সব চাই কম বয়সে। লোন নিয়ে সটগেজ বেথে বাড়ি করা, গাড়ি কেনা, সংসারের ঝামেলা, অফিসের ঝামেলা, চাকরি পেতেও সমস্যা, কাজ পেলেও দীর্ঘক্ষণ কাজের চাপ, অবসর সময় কমেই গেছে এক রকম। এত চাপ শারীরিক ও মানসিক উদ্বেগ ওজন বাড়ায় শরীরের। মনে চাপ থাকলে খাদ্যপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা যায় ভেস্তে, কোনো বেলা ভুলে খাওয়াই হয় না। অমনোযোগে খাওয়া বাড়ে, জিমে যাওয়া ও ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলে মানুষ। কেবল উন্নত দেশে কেন, উন্নয়নশীল দেশেও চাপ বেড়েছে অনেক।
৪. শরীরচর্চা
সবকিছুর ওপর যে কথা, নিয়মিত ব্যায়াম করা আজকাল কঠিন হয়ে পড়ছে। কেবল ইচ্ছেই নয়, সময় সুযোগেরও অভাব ঘটছে। আগেকার দিনে হাঁটা ছিল জীবনের অংশ এখন হাঁটার সময় খুঁজে নিতে হয়। বেশ কঠিন এই সময় খুঁজে পাওয়া। আর হাঁটা নিরাপদও নয়, ফুটপাত নেই, পার্কও দুই একটা। অনেক সমস্যা। চাপ ও কর্তব্য কাজের দীর্ঘ তালিকা, হাঁটা ও ব্যায়ামের ফুরসত অনেকেই ব্যায়াম করছেন না, দেশে ও বিদেশে।
৫. ডায়েটিং
ওজন সমস্যা, ওজন সংকট- এসব বিষয় এসেছে সামনে। তাই ডায়েটিং, ডায়েট সীমাবদ্ধতা এসব চালু হলো, নো-ফ্যাট, নোকার্ব, নো হুইট-নানা রকম পথ্যবিধি। এদের কোনোটাই খুব কার্যকর নয়। বস্তুতঃ ডায়েটিং করলে কালক্রমে ওজন বরং বাড়ে শরীরে, ওজন হ্রাস নয়। ক্রনিক ডায়েটিং বেশ সমস্যা। ইনটিউটিভ ডায়েটিং গ্রন্থের লেখকরা একে বলেছেন ‘ডায়েট মানসিকতা। খাদ্য কি ভালো না মন্দ এর বিচার করে একে সীমাবদ্ধ করা, ওজন হারানো, আবার উপভোগের খাবার খাওয়া, ওজন বাড়া এমন ঘুরপাক খায় শরীর। এরকম আরো অনেক কারণ রয়েছে স্থূল হওয়ার। পাঠক-পাঠিকা যারা স্থূল বা যারা এ সমস্যা নিয়ে ভাবছেন তারা শেয়ার করতে পারেন কী কী কারণ থাকতে পারে এর পেছনে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT