সম্পাদকীয়

নদীভাঙ্গন মওসুম

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৯:০১ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

প্রতি বছর নদীভাঙ্গনে সোয়া লাখ মানুষ গৃহহীন হচ্ছে। আমাদের দেশে একটি নিয়মিত ঘটনা হচ্ছে নদীভাঙ্গন। একে দুর্যোগ হিসেবেও অভিহিত করা যায়। নদীর একূল ভাঙ্গে আর ওকূল গড়ে-এটি তার চিরাচরিত ধর্ম। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে নদীর সঙ্গে যেমন মিশে আছে কোটি কোটি মানুষের জীবন জীবিকা তেমনি এই নদী মানুষের সর্বনাশের কারণও। নদীভাঙ্গনই মানুষের জীবনে ডেকে আনে সর্বনাশ। নদীভাঙ্গন যেন চিরায়ত বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। দেশের অসংখ্য নদী রয়েছে, যেগুলোতে ভাঙ্গন হয় সারাবছর। এর ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ; আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। জরিপের তথ্য হচ্ছে প্রতি বছর শুধু নদীভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে। আমাদের জন্য একটি নিয়মিত দুর্যোগ হচ্ছে নদীভাঙ্গন। আর এই নদীভাঙ্গনের ক্ষয়ক্ষতি সুদূর প্রসারী।
দেশে আর্থ সামাজিক, ভৌগলিক ও পরিবেশগত পটভূমিতে নদীভাঙ্গন একটি চলমান সমস্যা। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমি নদীভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দশ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর আশ্রয়হীন হচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া দু’শ ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর মধ্যে প্রধান চারটি নদীতেই ভাঙ্গন বেশি। এগুলো হচ্ছে-পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও গঙ্গা। এর বাইরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোটবড় নদীর বেশির ভাগেই ভাঙ্গন হচ্ছে সারাবছর। নদীর তীর ধ্বসে পড়া বা তীর ভাঙ্গন একটি স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এর পেছনে কারণও রয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশ পলিগঠিত ব-দ্বীপ হওয়ায় পানির সামান্য তোড়েই নদীর তীর ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাছাড়া, পলি ও বালিতে নদীগুলো ভরাট হয়ে পড়ায় বর্ষায় এইসব নদী পানিধারণ করতে পারেনা। তখন দু’কূল চেপে উপছে পড়ে পানি। সৃষ্টি হয় বন্যা। আর তখনই নদীভাঙ্গন শুরু হয়। আবার নদীর স্বাভাবিক গতিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় অনেক নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ, রাস্তাঘাট, অযৌক্তিক ড্রেজিং, নদী খনন ও বালু উত্তোলনের জন্যও দেখা দেয় নদীভাঙ্গন।
নদীভাঙ্গনের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। দারিদ্র্য, বেকারত্বসহ নানামুখী সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। নদীভাঙ্গনে নদী ভরাট হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বাড়ছে বন্যার প্রকোপ। দেশের বড় বড় নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। প্রতি বছরই কমছে নৌপথের দৈর্ঘ্য। এখন ভরা বর্ষা মওসুমেও নৌপথের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার কিলোমিটারের কম। তাছাড়া নদীভাঙ্গনে মানুষের গৃহহীন হওয়ার ঘটনা তো আছেই।
তাই ভাঙ্গন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতি বছর নদীভাঙ্গন রোধে নেয়া হয় কোটি কোটি টাকার প্রকল্প। কিন্তু এইসব প্রকল্পে রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ। প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের বেশির ভাগই লুটপাট হচ্ছে। নদীভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পাশাপাশি এখাতে অর্থের লুটপাটও বন্ধ করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT