সম্পাদকীয় যুগের ধর্ম এই-পীড়ন করলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই। -কাজী নজরুল ইসলাম

ছয় মাসে নয়শ’ শিশু নির্যাতন

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৮-২০১৯ ইং ০১:০৭:৩৮ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

ছয় মাসে নয়শ’ শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে সারাদেশে আটশ’ ৯৫ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে একশ’ চার শিশুকে। আর ৪০ শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪১ শিশুর। এর মধ্যে অনেক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে চারশ’ ৯৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বছর (২০১৮) সারাদেশে ধর্ষণ, যৌণ নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছে দু’শ ৭১ শিশু। সে বছর কেবল ধর্ষণের শিকার হয় চারশ’ ৩৩ শিশু।
শিশু নির্যাতনের এই যে ধারাবাহিক ঘটনাবলী, এটা উদ্বিগ্ন করে ফেলেছে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে। প্রতিনিয়ত ঘটনার নৃশংসতা বাড়ছে। উৎকণ্ঠা-শঙ্কা যেমন অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে, তেমনি শিশুদের মধ্যেও বিরাজ করছে একটা ভীতিকর পরিস্থিতি। এই অবস্থায়ই তারা বেড়ে উঠছে। যারা নির্যাতনের শিকার হয়নি তাদের মনে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; যা তাদের সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতেও বিরাজ করবে বলে মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা। তাই এই সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দেখা গেছে, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব, অপ্রতিরোধ্য শিশুশ্রম, পরকীয়া, সম্পদের লোভ, বেকারত্ব, কালচার-সংস্কৃতিতে বিদেশী প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তিতে পর্ণোগ্রাফির প্রসার ও সহজলভ্যতা, বেপরোয়া জীবন যাপন, পাচার শত্রুতা এবং স্বার্থপরতার নেতিবাচক প্রভাবে শিশুদের প্রতি এমনি নৃশংস আচরণ করছে এক শ্রেণির মানুষরূপী হায়েনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এইসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে হাতে গোনা। যে কারণে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। রয়েছে বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা। যা বিচারহীনতারই নামান্তর।
সব ধরনের অপরাধ নির্মূলেই প্রথমে দরকার সুষ্ঠু বিচার। তারপরেই দরকার সর্বাত্মক সচেতনতা। তেমনি দরকার পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ। সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই ব্যাপারে সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। যেহেতু তাদের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাই তাদের দ্বারাও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। আর বিভিন্ন শিশু সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে দায়সারা গোছের কর্মসূচি না দিয়ে যাতে সাধারণ মানুষকে সোচ্চার করে তোলা যায়, সেই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT