উপ সম্পাদকীয়

হোটেল শ্রমিকদের জীবন

দুলাল শর্মা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৮-২০১৯ ইং ০১:১১:৪৪ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

বাংলাদেশে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে সবদিক থেকেই দুঃখ, কষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করে থাকে হোটেল, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক কর্মচারীরা। সারাদিন খাটুনি খেটে খেতে পায় ডাল-ভাত-সবজি। বেতনও নামে মাত্র দেওয়া হয়। বড় বড় হোটেল ছাড়া বেশির ভাগ হোটেল-রেস্টুরেন্টে বেতন যৎসামান্য। রাতে ঘুমোবার ব্যবস্থাও বিশেষ সুবিধার নয়। রাতে হোটেলের চেয়ার-টেবিল জোড়া লাগিয়ে অথবা মেঝেতে গাদাগাদি করে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের ঘুমাতে হয়। রাতে হোটেল-রেস্টুরেন্টের সমস্ত কাজ শেষ করে ঘুমাতে যেতে যেতে প্রায়ই রাত ১টা-২টা হয়ে যায়। দিনেও কোনো বিশ্রাম নেই। কোনো স্বাধীনতা নেই, পরাধীনতার শৃঙ্খলে বাঁধা তাদের এ কষ্টের জীবন।
আমরা সকলেই কম বেশি চা-নাস্তা-ভাত, খাওয়া-দাওয়া করে থাকি। চায়ের টেবিলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠি। কিন্তু তাদের জীবনের করুণ কষ্টের কথা আমরা ক’জন জানি। তাদের জীবনে কোনো ঈদ-পূজা-উৎসব নেই। নেই কোনো নতুন জামা-কাপড়। ঈদ পূজার বোনাস, নেই কোনো ভালো পরিবেশে বাসস্থান, নেই কোনো চিকিৎসা সেবা, তাদের বেতন একেক রেস্টুরেন্টে একেক রকম। যারা চা-নাস্তা সহ অন্যান্য খাবার পরিবেশন করে থাকে আমরা তাদের ‘মেসিয়ার’ বা ‘ওয়েটার’ বলে ডেকে থাকি। তাদের বেতন পনের শত টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। খাওয়া-থাকা ফ্রি, তারা যে খাদ্য খায় তার নাম ‘স্টাফ খানা’। স্টাফ খানায় থাকে ডাল-ভাত-সবজি, মাছ-মাংস সপ্তাহে তিনদিন দেওয়া হয়।
কেউ যদি ইচ্ছে করে ভাল কিছু খেতে চায় খেতে পারবে, তবে তার খাবারের দাম বেতন থেকে কেটে রাখা হবে। রেস্টুরন্টে ছোট ছোট ছেলেরা থাকে, তাদের কাজ হলো পানি দেওয়া, টেবিল-চেয়ার পরিষ্কার করা, তাদের ‘গ্লাস বয়’ নামে ডাকা হয়। তাদের বেতন আরও কম, মাত্র এক হাজার টাকা। বয় বেয়ারা যারা আছে তারা কাস্টমারের কাছ থেকেই বকশিশ পায়। তবে ছোট ছোট ছেলে খুব কমই বকশিশ পায়।
অপুষ্টি আর অসুস্থতা নিয়ে কাটে তাদের বারো মাস। কাপ, প্লেট, গ্লাস ভাঙলে এসব জিনিসের দামও বেতন থেকে কেটে রাখা হয়। কোনো ভুল হলেই মালিকের লোকজনের হাতে চড়, থাপ্পড়। এই মার খাওয়া যেন তাদের ভাগ্যলিখন।
এইসব হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিক কর্মচারীরা ঈদ-পূজায় কোনো বোনাস ভাতা পায়না। রোজার মাস এলে পরেই তারা হয়ে যায় একেবারে বেকার। কেননা যেহেতু রোজায় সব রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকে তাই তাদের এই রমজানের এক মাস বেকার জীবন কাটাতে হয়। তখন তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে থাকে। তখন কোনো মালিক পক্ষ তাদের কোনো খোঁজ খবর নেয়না। আবার এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। কখনো কখনো অনেক হোটেল মালিকপক্ষ এইসব শ্রমজীবী মানুষের খোঁজ-খবর করে। তাদের শ্রমের প্রতি মর্যাদা ও মানবিক আচরণ করে থাকে। তবে তাদের সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র।
এইসব শ্রমজীবী মানুষ যারা হোটেল-রেস্টুরেন্টে কাজ করে তারাও মানুষ। তাদের সুস্থ-সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাই আমাদেরও উচিৎ তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা, সুন্দরভাবে তাদের সাথে কথা বলা, ভদ্র আচরণ করা। তাদের কাজকে ছোট করে না দেখা। তারা যে ‘সার্ভিস’ দেয় সেইজন্য তাদেরকে বকশিশ দেওয়া। কেননা এটা তাদের প্রাপ্য। পৃথিবীর সব দেশেই হোটেল-রেস্টুরেন্টে ‘টিপস’ দেওয়ার রেওয়াজ আছে।
লেখক : প্রাবন্ধিক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভিমরুলের চাকে অমিতের খোঁচা
  • মানবপাচার, অর্থপাচার সমাচার
  • আত্মনির্ভরতা
  • খাদ্যে ভেজাল : দরকার কঠোর পদক্ষেপ
  • নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
  • এম.সি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চাই
  • টেকনিক্যাল রোডে স্টিলের রেলিংসহ ফুটপাত চাই
  • জৈনপুর এলাকায় ড্রেন সংস্কার হোক
  • বানরের উৎপাত প্রসঙ্গ
  • শাবিতে বিবিএ অনুষদের আসন বৃদ্ধি হোক
  • প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা
  • সাক্ষরতা আন্দোলন : একটি পর্যালোচনা
  • অশান্ত বিশ্বে শান্তির সন্ধান
  • আমার পাহাড়, আমার সিলেট
  • যৌবন ফিরে পাক বিবিয়ানা নদী
  • সড়ক দুর্ঘটনা : এ শোকের শেষ কোথায়?
  • সামাজিক ব্যাধি
  • আবাসিক এলাকায় ব্যবসা
  • এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে
  • শিশুর উপর এতো চাপ
  • Developed by: Sparkle IT