ধর্ম ও জীবন

মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের

এহসান বিন মুজাহির প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৮-২০১৯ ইং ০১:০২:১৮ | সংবাদটি ১১৪ বার পঠিত

কোরআন এবং হােিদস সংঘবদ্ধার গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিম জাতি এক প্রাণ, এক দেহ, এই চেতনাবোধ ক্ষীণতর হয়ে আসছে। ইসলামে মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের। এ সর্ম্পকের ভিত্তি ইসলামের একটি স্তম্ভের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামের অপরিহার্য বিধান উপেক্ষা করে মুসলিম জাতি আজ শতধাবিভক্ত। অথচ মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিশ্বের সকল তাগুতী শক্তিগুলো আজ একপ্লাটফর্মে। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ আজ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ, নিন্দাবাদের ঘৃণ্য স্লোগান ও কাঁদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত। ব্যক্তি স্বার্থ, ক্ষমতা লিপ্সা পরিহার করে ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে একপ্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনসহ, ইসলাম ও রাষ্ট্রের অসমান্য অবদান রাখা সম্ভব। ভেদাভেদ, অনৈক্য, ফিরকা ইত্যাদি ভুলে গিয়ে ইস্পাত কঠিন ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়াই কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা। ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) এর জোর তাগিদ দিয়েছেন। মহান অল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন,‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই’। (সুরা হুজরাত : ১০)। তাওহিদের পর মুমিনদেরকে যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেয়া হয়েছে তা হলো সংঘবদ্ধতা। ইসলামে সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধতা সর্ম্পকে মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, তোমরা সেইসব লোকদের মত হবে না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরণের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি’। (সূরা আল ইমরান : ১০৫)।
আল্লাহ তায়ালা আরও এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো এবং কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হবে না, যারা তাদের দ্বীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত’। (সূরা তাওবাহ : ৩১-৩২)। মহান রাব্বুল আলামিন আরও এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা ইমরান : ১০৩)। কুরআনে আরও এরশাদ হয়েছে-‘নিশ্চয়ই আমি তাদেররে বেশি ভালোবাসি যারা আল্লাহর রাস্তায় এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, ঠিক যেন শিষাঢালা এক সূদৃঢ় প্রাচীর’। (সূরা সফ : ৬১)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন,‘মুমিনগণ একজন মানুষের মতো, যার চোখ আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আক্রান্ত হয় আর তার মাথা আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আহত হয়’। (মুসলিম : ২৫৮৬)।
হজরত হারিছ আল আশ'আরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, স্বয়ং রব আমাকে এগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়গুলো হচ্ছে : ১. সংঘবদ্ধ। ২. আমীরের নির্দেশ শ্রবণ। ৩. আমীরের নির্দেশ পালন। ৪. হিজরত। ৫. অল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধতা ত্যাগ করে এক বিঘৎ পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) সালাম কায়েম এবং সাওম পালন করা সত্ত্বেও? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নামাজ কায়েম এবং রোজা পালন এবং মুসলমান বলে দাবী করা সত্ত্বেও’। (তিরমিজি : ২৭৯০)।
রাসুল (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া, অনুগ্রহ,মায়া-মমতার দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি মুমিনদের দেখবে একটি দেহের মতো। যদি দেহের কোন একট অংশ আহত হয়ে পড়ে তবে অন্যান্য অংশও তা অনুভব করে’। (বুখারি : ৬০১১)। রাসুলে আকরাম (সা.) আরো এরশাদ করেন, ‘তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করো, সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন যাপন করো না, কারণ বিচ্ছিন্ন হলে শয়তানের কুপ্ররোচনায় আকৃষ্ট হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে’। (আবু দাউদ : ১৯৩৬)।
রাসূল (সা.) এরশাদ করেন,‘মুমিনগণ অপর মুমিনের জন্য একটি প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে। এরপর তিনিএক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলে প্রবিষ্ট করেন’। (বুখারি : ২৭২৫)। হজরত আবদুল্লাাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিনজন লোক কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলেও একজনকে আমীর না বানিয়ে থাকা জায়েজ নয়’। (আহমদ আল মুসনাদ : ৬৩৬০)। হজরত ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু’। (মুসলিম: ৫২৯২)। হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জান্নাতের সর্বোত্তম অংশে বসবাস করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে’। (তিরমিজি : ১১২৬)।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT