ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৮-২০১৯ ইং ০১:০৩:২৭ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
একথা অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণিত যে, যে কোনো দেশে যে কোনো মুসলমান যদি ব্যবসা, শিল্প ও রাজনীতির বিশুদ্ধ মূলনীতি শিক্ষা করে তদনুযায়ী কাজ করে, তবে সেও কাফেরদের অর্জিত জাগতিক ফলাফল লাভে বঞ্চিত হয়না।
মোটকথা, আলোচ্য আয়াতসমূহ থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ঈমান ও সৎকর্ম পূর্ণরূপে অবলম্বন না করলে শুধু বংশগতভাবে ইসলামের নাম ব্যবহারের দ্বারা কোনো শুভ ফল আশা করা যায় না।
আলোচ্য ১১৪ ও ১১৫ নং আয়াতদ্বয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণিত হয়েছে। প্রথম আয়াতটি একটি বিশেষ ঘটনা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
ঘটনাটি এই যে, ইসলাম-পূর্বকালে ইহুদীরা হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ.) কে হত্যা করলে খ্রিস্টানরা তার প্রতিশোধ গ্রহণে বদ্ধপরিকর হয়। তারা ইরাকের একজন অগ্নি উপাসক স¤্রাটের সাথে মিলিত হয়ে স¤্রাট তায়তাসের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার ইহুদীদের উপর আক্রমণ চালায়Ñ তাদের হত্যা ও লুণ্ঠন করে, তওরাতের কপিসমূহ জ্বালিয়ে ফেলে, বায়তুল মোকাদ্দাসে আবর্জনা ও শূকর নিক্ষেপ করে, মসজিদের প্রাচীর ক্ষত-বিক্ষত সমগ্র শহরটিকে জন-মানবহীন বিরানায় পরিণত করে দেয়। এতে ইহুদীদের শক্তি পদদলিত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মহানবী (সা.) এর আমল পর্যন্ত বায়তুল মোকাদ্দাস এমনিভাবে পরিত্যক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিলো।
ফারুকে আযম হযরত ওমর (রা.) এর খেলাফত আমলে যখন সিরিয়া ও ইরাক বিজিত হয়, তখন তাঁরই নির্দেশক্রমে বায়তুল মোকাদ্দাস পুনঃনির্মিত হয়। এরপর দীর্ঘকাল পর্যন্ত সমস্ত সিরিয়া ও বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলমানদের অধিকারে ছিলো। অতঃপর বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলমানদের হস্তচ্যুত হয় এবং প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পর্যন্ত ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের অধিকারে থাকে। অবশেষে হিজরি ষষ্ঠ শতকে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বায়তুল মোকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করেন। এ আয়াত থেকে কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসআলা এবং বিধানও প্রমাণিত হয়।
প্রথমত : শিষ্টতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল মসজিদ একই পর্যায়ভুক্ত। বায়তুল মোকাদ্দাস, মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর অবমাননা, যেমনি বড় যুলুম, তেমনি অন্যান্য মসজিদের বেলায়ও তা সমভাবে প্রযোজ্য। তবে এই তিনটি মসজিদের বিশেষ মাহাত্ম্য ও সম্মান স্বতন্ত্রভাবে স্বীকৃত। মসজিদে হারামে এক রাকাআত নামাযের সাওয়াব এক লক্ষ রাকাআত নামাযের সমান এবং মসজিদে নববী ও মসজিদে বায়তুল মোকাদ্দাস পঞ্চাশ হাজার রাকাআত নামাযের সমান। এই তিন মসজিদে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে সেখানে পৌঁছা বিরাট সওয়াব ও বরকতের বিষয়। কিন্তু অন্য কোনো মসজিদে নামায পড়া উত্তম মনে করে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসতে বারণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত : মসজিদে যিকর ও নামাযে বাধা দেয়ার যতো পন্থা হতে পারে সে সবগুলোই হারাম। তন্মধ্যে একটি প্রকাশ্য পন্থা এই যে, মসজিদে গমন করতে অথবা সেখানে নামায ও তেলাওয়াত করতে পরিষ্কার ভাষায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান। দ্বিতীয় পন্থা এই যে, মসজিদে হট্টগোল করে অথবা আশে পাশে গান-বাজনা করে মুসল্লিদের নামায ও যিকরে বিঘœ সৃষ্টি করা।
এমনিভাবে নামাযের সময়ে যখন মুসল্লীরা নফল নামায, তাসবিহ, তেলাওয়াত ইত্যাদিতে নিয়োজিত থাকেন, তখন মসজিদে সরবে তেলাওয়াত ও যিকর করা এবং নামাযীদের নামাযে বিঘœ সৃষ্টি করাও বাধা প্রদানেরই নামান্তর। এ কারণেই ফিকাহ্বিদগণ একে না জায়েয আখ্যা দিয়েছেন। তবে, মসজিদে যখন মুসল্লী না থাকে, তখন সরবে যিকর অথবা তেলাওয়াত করায় দোষ নেই।
এ থেকে আরও বোঝা যায় যে, যখন মুসল্লীরা নামায, তাসবিহ্ ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকে, তখন মসজিদে নিজের জন্যে অথবা কোনো ধর্মীয় কাজের জন্যে চাঁদা সংগ্রহ করাও নিষিদ্ধ।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT