সম্পাদকীয় দুনিয়াটা বইয়ের মতো। যারা ভ্রমণ করেনা তারা শুধু এর এক পৃষ্ঠাই পড়েন। -সন্তু অগাস্টিন

দাস ব্যবসা বিলোপ দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৮-২০১৯ ইং ০১:১১:৫৭ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক দাস ব্যবসা বিলোপ দিবস আজ। দাস ব্যবসার মতো একটি বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে প্রতি বছর আগস্ট মাসের ২৩ তারিখ বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। অতীতে দাসপ্রথা ছিলো একটি অনুমোদিত সামাজিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা। দাস ব্যবসা পুরনো। মানবসভ্যতার প্রস্তর যুগের প্রবেশের সময় থেকে শুরু এই প্রথা। অতীতে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে দাস ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো। তবে তা সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থায় থাকে ১৬০০ থেকে ১৯০০ শতাব্দী পর্যন্ত। এ সময়ে গড়ে ওঠে ‘ট্রান্স আটলান্টিক’ দাস ব্যবসা। এই ব্যবসাকে মানব সভ্যতার অন্যতম মানবাধিকার লংঘন বলে গণ্য করা হয়। ১৭৯১ সালে হাইতি ও ডমিনিয়ান রিপাবলিক অঞ্চলে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দাস ব্যবসার অবসান হতে থাকে।
দাসত্ব বলতে বোঝায় কোন মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এক্ষেত্রে কোন মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। কাউকে তার ইচ্ছার পরিবর্তে দাস করা যেতে পারে। দাসদের অনুমতি ছাড়া স্থান বা মালিককে ত্যাগ করা, কাজ না করার বা শ্রমের মজুরী পাওয়ার অধিকার নেই। কিছু সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করাও আইনসঙ্গত ছিলো। সোজা ভাষায় দাস ব্যবসা হচ্ছে বাজারে অন্যান্য পণ্যের মতো মানুষের বিকিকিনি। প্রাচীন বা মধ্য যুগের প্রায় সব শাসন ব্যবস্থাতেই দাস প্রথার প্রচলন ছিলো। তবে এক পর্যায়ে মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। বিভিন্ন দেশে শুরু হয় বিক্ষোভ। এর প্রেক্ষিতে ১৮০৭ সালে বৃটেন এবং ১৮০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান দাসদের মুক্তি দেয়। পরবর্তীতে ১৮৩৩ সালে বৃটেন, ১৮৪৮ সালে ফ্রান্স এবং ১৮৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইন করে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করে। এই দাসপ্রথার ইতিহাস পৃথিবীর সবাইকে জানানোর জন্য ইউনেস্কোর উদ্যোগে পালন করা হয় আজকের এই দাস ব্যবসা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস।
মানবসভ্যতার জন্য অত্যন্ত কলংকজনক ঘটনা হচ্ছে দাস প্রথা। গবাদিপুশুর মতো মানুষ বিকিকিনির ঘটনা শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর আমলেও ছিলো। সেটা অব্যাহত আছে এখনও, তবে যুগেযুগে এর ধরণ ও আঙ্গিক পাল্টেছে।
এখনও অনেক সমাজে জোরপূর্বক শ্রম আদায় করার মতো ঘটনা ঘটছে। এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে এ ধরণের উদাহরণ রয়েছে এখনও। শোষণ নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এখনও অনেক দেশের নিরীহ শ্রমিক সাধারণ মানুষ। এটা হচ্ছে দাস প্রথার নবরূপ। আধুনিক সভ্য সমাজ এই নতুন রূপের দাস প্রথা থেকে মুক্ত হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT