উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

বিনতা দেবী প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৮-২০১৯ ইং ০০:১৬:২৫ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

পরমেশ্বর ভগবানের সর্ববিধ দেহ চিন্ময় ও নিত্য এবং সর্ববিধ দেহ জড় জগতের বিভিন্ন ব্রম্মান্ডে পুনঃ পুনঃ আবির্ভূত হন। তাঁদের রূপ সৎ, চিৎ, ও আনন্দময়। সেই সমস্ত দেহই ঘনীভূত পরমানন্দ, সর্ববিধ চিন্ময় গুণযুক্ত এবং যেহেতু তাঁরা জড়া প্রকৃতির সৃষ্টি নন, তাই তাঁরা শাশ্বত । তাঁদের রূপ চিন্ময় এবং তাঁরা জড় কলুষমুক্ত।
এক সর্বমঙ্গলময় লগ্নে ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে শুভ নক্ষত্র যোগে মধ্য রাত্রিতে পরম পুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংসের কারাগারে দেবকীর অষ্টম গর্ভজাত সন্তানরূপে আবির্ভূত হলেন। রাত্রির গভীরে শঙ্খ, চক্র, গদা পদ্মসহ চতুর্ভূজ রূপ পরিগ্রহ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কারাগার অভ্যন্তরে বসুদেব ও দেবকীর সম্মুখে আবির্ভূত হন। দেবকীয় অনুরোধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরে দ্বিভূজ রূপ ধারন করেন।
পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা আদিষ্ট হয়ে বসুদেব সূতিকাগার থেকে তার সন্তানটিকে নিয়ে যাওয়ার সময় যোগমায়ার প্রভাবে কংসের প্রাসাদের প্রতিটি বাসিন্দা বিশেষ করে প্রহরীরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে গভীর নিদ্রামগ্ন হল এবং কারাগারের সবকটি দরজা আপনা থেকেই খুলে গেল। ঘোর অন্ধকারময় রাত্রি। কিন্তু বসুদেব যখন শিশু সন্তানটিকে নিয়ে রওয়ানা হলেন তখন রাত্রির অন্ধকার বিদূরিত হয়ে গেল এবং তিনি সব কিছু দিনের আলোর মত দেখতে পেলেন। যদিও সেই সময় গভীর বজ্র নিনাদের সঙ্গে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু ভগবান তখন অনন্ত শেষ সর্পরূপ ধারণ করে বসুদেবের মাথার উপর তাঁর ফনা বিস্তার করে সেই বর্ষণ থেকে তাদেরকে রক্ষা করেন। বসুদেব যমুনার তীরে এসে দেখলেন যে, যমুনার জল প্রচন্ড গর্জন করতে করতে ছুটে চলেছে। এই ভয়ঙ্কর রূপ সত্ত্বেও যমুনা কিন্তু বসুদেবকে যাওয়ার পথ করে দিল। এই ভাবে বসুদেব যমুনা পার হয়ে অপর পারে গোকুলে নন্দ মহারাজের গৃহে উপস্থিত হন। তখন সেখানে সমস্ত গোপ গোপীরা গভীর নিদ্রায় মগ্ন । সেই সুযোগে তিনি নিঃশব্দে যশোদা মায়ের গৃহে প্রবেশ করে তার পুত্র সন্তানটিকে সেখানে রেখে যশোদার সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে কংসের কারাগারে ফিরে এলেন এবং নিঃশব্দে দেবকীর কোলে কন্যাটিকে রাখলেন। তিনি নিজেকে আবার শৃঙ্খলাবদ্ধ করলেন যাতে কংস বুঝতে না পারে যে, ইতোমধ্যে অনেক কিছু ঘটে গেছে।
তন্দ্রাগ্রস্থ কংস কারাভ্যন্তরে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। সেই শব্দ শুনে মহা আনন্দে আত্মহারা হয়ে কংস দ্রুত কারা কক্ষটির দিকে এগিয়ে এলেন। কারাকক্ষে প্রবেশ করে হুংকার দিলেন, “কোথায় আমার সেই বহু অপেক্ষিত শিশুটি, দেবকীর কোল থেকে শিশুটিকে ঝাপটে তুলে নিয়ে আশ্চর্যান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন একি? আমি একি দেখছি! এতো কন্যা সন্তান? আমি তো দৈব বাণীতে শুনেছিলাম দেবকীর অষ্টম গর্ভজাত সন্তানটিই আমার মৃত্যুর কারণ। এ কন্যা সন্তান কি করে আমার মৃত্যুর কারণ হবে? পরক্ষণেই মনস্থির করলেন-পুত্র, কন্যা যাই হোক, কোনটিই তার হাত থেকে রেহাই পাবেনা। তৎক্ষণাৎ কন্যা সন্তানটিকে এক বধ্য শিলায় আঘাত করতে উদ্যত হলে শিশুটি অদৃশ্য হয়ে মা যোগমায়া অষ্টভূজ মূর্তিতে দিব্য জ্যোতি দ্বারা ভুবন মোহিত করে বলে উঠলেন, শুন ওরে দূরাচার পাপিষ্ট কংস, তুই আমাকে বধ করতে চাস? শুনে রাখ তোকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে, এই বলে দেবী অদৃশ্য হয়ে গেলেন। শ্রীকৃষ্ণ আস্তে আস্তে গোকুলে বেড়ে উঠতে লাগলেন।
জন্মাষ্টমীর অমোঘ বার্তাটি হল, দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন তথা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণ জীবন দর্শন ও প্রেমের বাণী বিশ্ব সমাজকে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাইতো জন্মাষ্টমী অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি বছর নিয়ে আসে জাতি ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে এক আনন্দময় শুভ বার্তা।
[লেখক : শিক্ষক। ]

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
  • মানবাধিকার দিবস ও বাস্তবতা
  • বুয়েটের শিক্ষা
  • পাল্টে গেল শ্রীলঙ্কার ভোটের হিসাব
  • গড়ে তুলতে হবে মানবিক সমাজ
  • পাখি নিধন, অমানবিকতার উদাহরণ
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান সফল হোক
  • সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়ক আইন-২০১৮
  • বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
  • বাঙালির ধৈর্য্য
  • সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার অবকাঠামো
  • শিক্ষকদের অবদান ও মর্যাদা
  • ১৯৭০ এর নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধ
  • একাত্তর :আমার গৌরবের ঠিকানা
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • Developed by: Sparkle IT