সম্পাদকীয়

বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্ন খাবার

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৮-২০১৯ ইং ০০:২৫:৫৩ | সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত


চালু হচ্ছে ‘মিড ডে মিল’। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা দুপুরের খাবার প্রদানের জন্য তৈরী হয়েছে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি’ ২০১৯। সম্প্রতি মন্ত্রীসভার বৈঠকে এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে যে মিড ডে মিল চালু রয়েছে পাইলট ভিত্তিতে তাকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায়, তার জন্য এই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খসড়ায় বলা হয়, ‘জাতীয় স্কুল মিল বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া, কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। সরকার আশা করছে, এই কর্মসূচীর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়বে এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূর্ণ হবে।
মিড ডে মিল বা মধ্যাহ্ন খাবার। এটি একটি আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশে এটি নতুন কিছু নয়। মূলত বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি বাঙ্গালী পরিবারে দুপুরের খাবার একটি অপরিহার্য্য পর্ব। শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত জরুরী। অবস্থাসম্পন্নরা বিদ্যালয়গামী সন্তানকে বক্সে খাবার দিয়ে দেন। কিন্তু বেশীরভাগ ছেলে মেয়ে, বিশেষ করে শহর-গ্রাম সর্বত্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিশুদের সেই সুযোগ নেই। এদের কথা ভেবেই বিগত বছর কয়েক ধরে আমাদের দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে অনেকগুলো বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালুও হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। সে দেশে তখন দেখা দেয় খাদ্যাভাব। জাপান সরকার তখন শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে একবেলা স্কুলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা করে। সেই থেকে শিক্ষার্থীরা আবার স্কুলমুখী হয়। আর তাদের মা-বাবাও বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় নিজেরা নিশ্চিন্তে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন। এভাবেই নিঃস্ব জাপান একটি সমৃদ্ধ জাপান-এ পরিণত হয়।
সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ৬৬ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড ডে মিল এর ব্যবস্থা করা। বর্তমানে দেশের একশ’ চারটি উপজেলার ১৫ হাজার তিনশ’ ৪৯টি বিদ্যালয়ের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দেয়া হচ্ছে মিড ডে মিল। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচীতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন কোন বিদ্যালয়ে শিশুদের শুধুমাত্র ‘লবণভাত’ দেবার খবরও প্রকাশিত হয়েছে পত্রপত্রিকায়। এটা খুবই দুঃখজনক। কোমলমতি শিশুদের খাবার নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা যাতে আর সম্প্রসারিত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT