প্রথম পাতা রাংপানি-নাপিত খাল ও কলসী নদীর ভাঙন

জৈন্তাপুরের লক্ষ্মীপুর-কেন্দ্রীসহ কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে

জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে নূরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৮-২০১৯ ইং ০৩:০৪:৪৩ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

জৈন্তাপুর উপজেলার রাংপানি-নাপিত খাল ও কলসী নদীর ভাঙ্গনে হুমকীর মুখে পড়েছে নদী পারের বসতবাড়ি-চলাচলের রাস্তা। অব্যাহত ভাঙ্গনে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী-লক্ষ্মীপুর-আমবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে গ্রামীণ সড়ক ও নদী তীরবর্তী মানুষের বাড়িঘর যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়বে। ইতিমধ্যে গ্রামীণ রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন এবং অনেক স্থানে বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার আশংকার কথা জানান স্থানীয়রা।
জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী-লক্ষীপুর-আমবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত রাংপানি-নাপিত খাল ও কলসী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার পথে নদী তীরবর্তী বসবাসরত মানুষের বসতবাড়ি সহ গ্রামীন রাস্তাঘাট। বর্ষা মৌসুমে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি। তাছাড়া, এই নদী পথ দিয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ইঞ্জিন নৌকা চলাচলের ফলে ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছেন নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে রাংপানি -লক্ষীপুর হয়ে ডুলটিরপার পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী বসবাসরত কৃষকদের বাড়ির গাছপালা, বাঁশ বাগান ও কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নাপিত খালের তীরবর্তী লক্ষীপুর-ডুলটিরপার গ্রামীন রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গার নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে কৃষি জমিতে বালু প্রবেশ করে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীর উভয় তীরবর্তী বাসিন্দাগণ নদী ভাঙ্গনের ভয়ে আতংকের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গনের পাশাপাশি প্রতিদিন ডুলটিরপার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত: ৩০/৪০টা ইঞ্জিন নৌকা চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ইঞ্জিন নৌকা চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে একটি লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের দাবি রাংপানি-নাপিত খাল-কলসী নদী দিয়ে প্রতিদিন রাতে ভারতীয় অবৈধ বিভিন্ন মালামল বুঝাই নৌকা চলাচল করছে। ছোট নদী পথ দিয়ে নৌকা চলাচলের ফলে ঢেউয়ে আরো বেশি নদী ভাঙ্গন হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হতে চলেছে গ্রামের গোরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ রাস্তাসহ বসতবাড়ি। নদীর দক্ষিণ ও উত্তর পারের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। সরজমিনে পরিদর্শন কালে স্থানীয় বাসিন্দাগণ নদীর ভাঙ্গনের বিষয়ে তাদের দু:খ-বেদনার কথা জানিয়ে বলেন, বিগত বছরের বন্যায় নাপিত খালের দক্ষিণ পারের গ্রামীন রাস্তার অন্তত: ৫ শত মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদীর উভয় পারের ভাঙ্গন অংশে ব্লক স্থাপনের অনুরোধ জানান এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান,বর্ষার মৌসুমে পরিবার পরিজন নিয়ে আতংকের মধ্যে বসবাস করতে হয়। তিনি জানান,ইতোমধ্যে গ্রামের সামাজিক গোরস্থানের একাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। বিভিন্ন স্থানে গ্রামীন রাস্তা ভেঙ্গে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পড়েছে। গ্রামের জনসাধারনের সমন্বয়ে বাশেঁর খুটি দিয়ে রাস্তা ও মানুষের বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা দিলাল আহমদ জানান, অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেকের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। লক্ষ্মীপুর-কেন্দ্রীসহ আশপাশ এলাকার জনগণের বসতভিটা রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে নদী ভাঙ্গন রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান জানান, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা হাওর ও নদী বেষ্টিত হওয়া পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষের বসতভিটা ও কৃষি জমি রক্ষা করতে, নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহবান জানান।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে হচ্ছে। ফলে মানুষ চরম দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বাউরভাগ, কান্দি, কাটাখাল ,লক্ষীপুর, কেন্দ্রী, আমবাড়ি, নলজুরী রাংপানিসহ আরো কিছু এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধ করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান ,স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির সাথে নদী ভাঙ্গন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মন্ত্রীর সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধঁ নির্মাণ করতে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম সরকার জানান, নদী ভাঙ্গন রোধ করতে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিগণ পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সরজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি দিলে পরবর্তীতে রাংপানি-নাপিত খাল ও কলসী নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারী ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ছবি
  • পরিবারতন্ত্র পরিহার করে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব চেম্বার গড়ার প্রত্যয়
  • মির্জা আব্বাসের বাসায় ছাত্রদলের কাউন্সিল
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • আরও তিন ক্লাবে অভিযান, ‘জুয়ার’ ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার
  • ঢাকায় ‘ক্যাসিনো’ থেকে গ্রেফতার শতাধিকের দন্ড
  • অদক্ষ চালকদের কাছে জিম্মি জীবন
  • নির্ভুল ভোটার তালিকা দিয়েই হচ্ছে চেম্বার নির্বাচন
  • সিলেটে দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার
  • ডিজিটাল সিলেট বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার
  • মেঘালয়েও হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি : সফররত তথ্যমন্ত্রীকে মূখ্যমন্ত্রী
  • সিলেটে এখনো মহাসমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি মহানগর বিএনপি’র সভা আজ
  • রাজনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত ॥ আটক ৪
  • দেশের শিশুরা অধিকারবঞ্চিত নির্যাতনের শিকার : ফখরুল
  • ২৪ ঘণ্টায় কমবে পেঁয়াজের দাম, আশা সরকারের
  • বড় ঋণে ব্যাংক চেয়ারম্যানকেও ‘গ্যারান্টার’করার নিয়ম হচ্ছে
  • প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে : ওবায়দুল কাদের
  • ব্যবসায়ীদের কল্যাণে পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহবান
  • ফেঞ্চুগঞ্জে ফের ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার
  • চেম্বার ভবনে সংবাদ সম্মেলন আজ
  • Developed by: Sparkle IT