শেষের পাতা

কমলগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ডরমেটরি লেক

সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়, কমলগঞ্জ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৮-২০১৯ ইং ০৩:০৮:১৮ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

ঘন ঝোপ-ঝাড়ে ভর্তি চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড়-টিলার বেষ্টনী। বেষ্টনীর মধ্যভাগটি জলে পরিপূর্ণ। জলের উপড়ে ভেসে উঠেছে মনোহরা শাপলা ফুল। এটি একটি দৃষ্টিনন্দন লেক যা অনেকেরই অজানা। দীর্ঘদিন ধরে লেকটি রয়েছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। লেকটির আয়তন প্রায় ছয় (৬)একর। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ৩ নম্বর গেইট বাগমারা ক্যাম্প সংলগ্ন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান স্টুডেন্ট ডরমেটরী’র পিছনেই এই দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান।
লেকটি মূলত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট, তবে স্বল্প গভীরতা ও লেকের এক পাশ বাঁধ না থাকায় লেকটি শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যেত। বন্য প্রাণীর খাবারের পানির সংকট নিরসনের জন্য মূলত দৃষ্টিনন্দন এই লেকটির উৎপত্তি। শুকনো মৌসুমে বন্য প্রাণীর খাবারের পানি সঙ্কট দূর করার জন্য ২০১৬ সালে বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী) আর্থিক সহযোগিতায় লেকটিকে গভীরভাবে খনন করা হয় এবং লেক থেকে যাতে পানি বের না হয় সেজন্য এক পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে লেকটি পরিপূর্ণ হয় যা শুকনো মৌসুমেও বন্য প্রাণীর জন্য একমাত্র জলের উৎস হিসেবে কাজ করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জলে পরিপূর্ণ লেকটির উপর দিয়ে এক টিলা থেকে অপর টিলায় যাওয়ার জন্য তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সাঁকো। লেকের পানিতে চলার জন্য স্টুডেন্ট ডরমেটরির দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী মোহাম্মদ ওয়াহিদ মিয়া একটি বাঁশের ভেলা তৈরি করেছেন। স্থানীয়দের দাবী লেকটির প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য যদি এখানে একটি নৌকা দেওয়া হয়, তাহলে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণ করে প্রকৃতির স্বাদ উপলব্ধি করতে পারবেন। কিন্তু লেকটি যদি সরকারীভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয় তবে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন লেকটি।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক আবু মুসা শামসুল মোহিত চৌধুরী জানান, লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমেটরী লেকের উন্নয়নের জন্য আমরা (বন বিভাগ) একটি প্রকল্প নিয়েছি। লেকটির চার পাশ দিয়ে হাঁটার জন্য একটি ট্রেইল পথ (পায়ে হাঁটার পথ) তৈরি করা হবে, সেই সাথে লেকের উপর তিনটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও দুইটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান।
পরিবেশবাদী সাংবাদিক রিপন দে বলেন, ইকো ট্যুরিজম (পরিবেশবান্ধব পর্যটন) এর আদলে লেকটি উন্নয়ন করলে যেমন পরিবেশের প্রতি প্রভাব ফেলবে না তেমনি ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরাও প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারবেন। লেকের পাশে যদি হিজল প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয় তাহলে শীত মৌসুমে অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে যা পর্যটকদের কাছে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে প্রকৃতির বুকে সৃষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই লেকটি।

 

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ভারতে ধর্ষণ-হত্যায় গ্রেপ্তার চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত
  • হামে এক বছরে ‘দেড় লাখ’ মানুষের মৃত্যু
  • শাহী ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
  • রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব
  • ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গ ॥ জিন্দাবাজার থেকে একজন আটক
  • শফিক চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন
  • জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন
  • দিরাইয়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুলে আছে ব্রিজ
  • কমলা বদলে দিয়েছে জুড়ীর চাষীদের জীবন
  • সিলেট জেলা বিএনপির রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল
  • বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
  • কিশোরীকে ১০ দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ
  • নানা আয়োজনে সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত
  • বানিয়াচংয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
  • হেতিমগঞ্জে দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু
  • শাবিতে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
  • সরকারি দফতর ও ভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‌্যামসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সংরক্ষিত থাকতে হবে-- মো.মোস্তাফিজুর রহমান
  • ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ আবিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
  • খালেদা জিয়ার জামিনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: ফখরুল
  • দোয়ারাবাজারে ইউপি সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু
  • Developed by: Sparkle IT