শেষের পাতা

কমলগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ডরমেটরি লেক

সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়, কমলগঞ্জ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৮-২০১৯ ইং ০৩:০৮:১৮ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

ঘন ঝোপ-ঝাড়ে ভর্তি চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড়-টিলার বেষ্টনী। বেষ্টনীর মধ্যভাগটি জলে পরিপূর্ণ। জলের উপড়ে ভেসে উঠেছে মনোহরা শাপলা ফুল। এটি একটি দৃষ্টিনন্দন লেক যা অনেকেরই অজানা। দীর্ঘদিন ধরে লেকটি রয়েছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। লেকটির আয়তন প্রায় ছয় (৬)একর। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ৩ নম্বর গেইট বাগমারা ক্যাম্প সংলগ্ন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান স্টুডেন্ট ডরমেটরী’র পিছনেই এই দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান।
লেকটি মূলত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট, তবে স্বল্প গভীরতা ও লেকের এক পাশ বাঁধ না থাকায় লেকটি শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যেত। বন্য প্রাণীর খাবারের পানির সংকট নিরসনের জন্য মূলত দৃষ্টিনন্দন এই লেকটির উৎপত্তি। শুকনো মৌসুমে বন্য প্রাণীর খাবারের পানি সঙ্কট দূর করার জন্য ২০১৬ সালে বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী) আর্থিক সহযোগিতায় লেকটিকে গভীরভাবে খনন করা হয় এবং লেক থেকে যাতে পানি বের না হয় সেজন্য এক পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে লেকটি পরিপূর্ণ হয় যা শুকনো মৌসুমেও বন্য প্রাণীর জন্য একমাত্র জলের উৎস হিসেবে কাজ করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জলে পরিপূর্ণ লেকটির উপর দিয়ে এক টিলা থেকে অপর টিলায় যাওয়ার জন্য তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সাঁকো। লেকের পানিতে চলার জন্য স্টুডেন্ট ডরমেটরির দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী মোহাম্মদ ওয়াহিদ মিয়া একটি বাঁশের ভেলা তৈরি করেছেন। স্থানীয়দের দাবী লেকটির প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য যদি এখানে একটি নৌকা দেওয়া হয়, তাহলে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণ করে প্রকৃতির স্বাদ উপলব্ধি করতে পারবেন। কিন্তু লেকটি যদি সরকারীভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয় তবে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন লেকটি।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক আবু মুসা শামসুল মোহিত চৌধুরী জানান, লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমেটরী লেকের উন্নয়নের জন্য আমরা (বন বিভাগ) একটি প্রকল্প নিয়েছি। লেকটির চার পাশ দিয়ে হাঁটার জন্য একটি ট্রেইল পথ (পায়ে হাঁটার পথ) তৈরি করা হবে, সেই সাথে লেকের উপর তিনটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও দুইটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান।
পরিবেশবাদী সাংবাদিক রিপন দে বলেন, ইকো ট্যুরিজম (পরিবেশবান্ধব পর্যটন) এর আদলে লেকটি উন্নয়ন করলে যেমন পরিবেশের প্রতি প্রভাব ফেলবে না তেমনি ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরাও প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারবেন। লেকের পাশে যদি হিজল প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয় তাহলে শীত মৌসুমে অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে যা পর্যটকদের কাছে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে প্রকৃতির বুকে সৃষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই লেকটি।

 

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • সুনামগঞ্জে মুদি ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
  • সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন লিপন বক্স
  • কমলগঞ্জে দুই সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু নিহত ঃ আহত-৫
  • সিলেটের সম্ভাবনাময় পর্যটন নিয়ে সরকার আন্তরিক
  • মাধবপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
  • নদী রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে
  • স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পিযুষের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
  • টেলিনর হেলথ-এর সব ধরণের সেবা এখন সিলেটবাসীর হাতের নাগালে
  • জামালগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
  • বদলে গেছে ঢাকা দক্ষিণ বাজারের ভাদেশ্বর রোড
  • রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৮ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড দেবে যুক্তরাজ্য
  • মোহামেডানসহ চার ক্লাবে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম
  • ছবি
  • রেলগেইট মারকাজ পয়েন্টে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৯জন আহত
  • জীবনে বহুমাত্রিক বিকাশের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই -সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এ এম এম খায়রুল কবীর
  • লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগের সেমিনার অনুষ্ঠিত
  • এনআইডি জালিয়াতি জয়নালের জবানবন্দিতে ‘আরও নাম’
  • ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
  • দুর্নীতিবাজ কেউ রেহাই পাবে না --------------স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • টিআইবির চিঠিতে বেক্সিমকোর প্রশংসা শুদ্ধাচারের প্রত্যাশা
  • Developed by: Sparkle IT