উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

শিশুদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ

মো. আবদুল আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩০:৪৪ | সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

বেঁচে থাকার তাগিদেই আমাদের সমাজবদ্ধ জীবন যাপন করতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে নিজ পরিবারের লোকজন ছাড়াও হরেক রকম লোকের সাহচর্যে ও সান্নিধ্যে আমাদের আসতে হয়। এ অবস্থায় পরস্পরের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাবান না হলে, পরস্পর ¯েœহ ভালবাসা, মায়া-মমতা, শ্রদ্ধা সহানুভূতির বাঁধনে আবদ্ধ না হলে জীবন তিক্ততায় ভরে ওঠবে। আর প্রাত্যহিক জীবনে কথাবার্তায়, চালচলনে আমাদের ভদ্রভাব ও সৌজন্যমূলক আচরণ প্রতিনিয়তই প্রদর্শন করতে হয়। কারণ আমাদের এহেন আচরণ যাতে কোমলমতি শিশুরা অনুকরণ ও অনুসরণ করে তাদের জীবন গঠনে প্রাণবন্ত ভূমিকা রাখতে পারে সে ব্যাপারে আমাদেরও অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। কথায় বলে, ‘ব্যবহারে বংশের পরিচয়’। কথাটি সন্দেহাতীতভাবে সত্য। আসলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে লক্ষ্য করলেও প্রতীয়মান হয় যে, যে সমাজের বা বংশের বয়োজেষ্ঠ্য সদস্যগণ পরস্পর শালীনতাপূর্ণ আচার আচরণে অভ্যস্ত সে সমাজের বা বংশের শিশুরাও ঠিক অনুরূপ শিক্ষা লাভ করে এবং সমাজের অন্যান্য লোকজনের সাথেও সেরূপ শালীনতাপূর্ণ আচার আচরণ করতে স্বাভাবিকভাবেই অভ্যস্ত হয়। সুতরাং, আমরাও যদি উক্ত বিষয়ে আন্তরিক হই তাহলে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কর্মকান্ডেই অনুকরণীয় আচরণের অনুশীলন ও উহার প্রতিফলন ঘটাতে পারি। যেমন-মানুষের সাথে সর্বদা সুন্দর ও শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা, সবার সঙ্গে শ্রেণীমত আদব রক্ষা করা, সময়ের মূল্য দেয়া, সৎপথে থাকা, সত্য কথা বলা ইত্যাদি সবই সৌজন্যমূলক আচার আচরণ প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত ও চিহ্নিত।
অপরপক্ষে, বদমেজাজ, অসঙ্গত পোষাক-আশাক, শালীনতা বহির্ভুত আচার-ব্যবহার কখনো শিষ্টাচার কিংবা সৌজন্যমূলক আচরণের অঙ্গ হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, সৌজন্যমূলক আচার-আচরণ ফুটে ওঠে মানুষের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে। এমনিভাবে একজনের আচার-ব্যবহার অন্যজনের উপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। কাজেই সুন্দরভাবে জীবন বিকাশের স্বার্থে শিশুদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
আমাদের একটি কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, এ ব্যাপারে বাবা-মাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। কারণ, পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে শিশুরা সর্বপ্রথম সৌজন্যমূলক আচরণ বা শিষ্টাচার শিক্ষার পাঠ নিয়ে থাকে। শিশুরা চিরদিনই অনুকরণপ্রিয়। এক্ষেত্রে পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্যরা যদি শিশুদের সাথে ¯েœহের সহিত সৌজন্যমূলক কথাবার্তায় আন্তরিক হন তাহলে শিশুরা অনায়াসে শিখতে আনন্দ পায় এবং শিখতে চায়। শিষ্টাচার শেখার দ্বিতীয় ক্ষেত্র হলো বিদ্যালয়। শিক্ষকদের দায়িত্ব শিশুদেরকে এ ব্যাপারে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া। তৃতীয়ত: শিষ্টাচার লাভ করার ব্যাপারে পারিপার্শ্বিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একটি শিশু যে পরিবেশে জন্মায় এবং লালিত পালিত হয় তা তার মনে বহুল পরিমাণে ছাপ ফেলে যা অমুছনীয়। পরবর্তীকালে তার দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে এ পরিবেশের শিক্ষা-দীক্ষায় এবং রীতি-নীতি তার চরিত্রে ফুটে ওঠে।
যে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌজন্যমূলক আচরণের অভাব আছে, সে পরিবার আদর্শ পরিবার হিসেবে কখনো গণ্য হতে পারে না। বাস্তবিকপক্ষে আচরণগত গুণাবলীর ফলেই একটি পরিবার মর্যাদার আসনে আসীন হয়। এরূপ পরিবারের শিশুরাও শিষ্টাচার গুণে সমাজে আদরণীয় হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে শিষ্টাচার বর্জিত পরিবারকে কেউ পছন্দ করে না। তাই পরিবারের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের পারিবারিক পরিবেশে শালীনতাপূর্ণ আচরণ শিক্ষা না দিলে সে পরিবারের সন্তানেরাও সমাজে কুলাঙ্গার হিসেবে চিহ্নিত হয়। কাজেই প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদেরই শিশুদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করা নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সামাজিক জীবনে সৌজন্যমূলক আচরণের মূল্য, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শিষ্টাচারী মানুষ জাগতিক প্রতিটি কর্মকান্ডে যথেষ্ট লাভবান হতে পারে কারণ শিষ্টাচারের ফলে অতি সহজে মানুষের মন জয় করা যায় এবং কার্য উদ্ধার করা যায়। শুধু ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থেও এর ভূমিকা অনন্য। তাছাড়া, সৌজন্যমূলক আচরণে মানুষের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পায়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়। ফলে, সমাজে একদিকে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে, অন্যদিকে জনপ্রিয়তার সৃষ্টি হয়। এতে সমাজে নেতৃত্ব লাভ করা সম্ভব হয় এবং সমাজের লোকদের জন্য মহৎ কিছু কর্ম সম্পাদনের সুযোগ লাভ করা যায়। তাই শিশুদের প্রতি পরিবারের গুরুজনদের যেমন নৈতিক দায়িত্ব তেমনি শিশুদেরও সেই গুণাবলী সমূহ অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। কারণ, শালীনতাপূর্ণ ও সৌজন্যমূলক আচার-আচরণ সমাজ জীবনকে উন্নত করে, পরিবেশ সুন্দর করে এবং মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বাড়ায়। কাজেই, প্রত্যেকেরই এ গুণের অধিকারী হওয়া অবশ্য কর্তব্য। এ গুণের মধ্যেই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনের সার্বিক কল্যাণ নিহিত।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিশুর উপর এতো চাপ
  • পারিবারিক সু-শিক্ষা ও বর্তমান সমাজ
  • অপেক্ষা, আর কতোকাল
  • উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই বড়ো চ্যালেঞ্জ
  • প্রসঙ্গ : হকারমুক্ত ফুটপাত
  • জনদুর্ভোগের রকমফের
  • পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
  • ‘যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে...’
  • খাদ্যে ভেজাল
  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কি আদৌ সম্ভব?
  • আসামে এনআরসি বিজেপির রাজনৈতিক খেলা
  • শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র
  • মিতব্যয়িতা
  • হংকং : কেন গণআন্দোলন
  • যানজট মুক্ত মহানগরী : কিছু প্রস্তাব
  • পানি নিয়ে ভাবনা
  • ভেজাল-দূষণ দূর করা কি খুবই কঠিন?
  • সৈয়দ মহসীন আলী : ক্ষণজন্মা রাজনীতিক
  • শিশুদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলার গুরুত্ব
  • রোহিঙ্গাঁ সমস্যা : প্রয়োজন আশু সমাধান
  • Developed by: Sparkle IT