সাহিত্য

পল্লী উন্নয়ন ও রবীন্দ্রনাথ

রতীশ চন্দ্র দাস তালুকদার প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৭:২২ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

রবীন্দ্রনাথের সৃজনী প্রতিভার ছোঁয়ায় ঋদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গন। তাঁর অসামান্য সৃষ্টির কল্যাণে বাংলা সাহিত্য আজ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। আধুনিক বাংলা ভাষা তিনিই বিনির্মাণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কবি বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘আধুনিক বাংলা ভাষা একা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি।’ অনেক সাহিত্যবোদ্ধা রবীন্দ্রনাথকে প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার বলে অভিহিত করেন। ছোট গল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষাযাপন’ কবিতাটি উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে তিনি লিখেছেন-
‘নাহি বর্ণনার ছটা, ঘটনার ঘনঘটা/ নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ/ অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে/ শেষ হয়ে হইল না শেষ।।
তত্ত্ব বা উপদেশ বিতরণ ছোটগল্পের উদ্দেশ্য নয়, বরং জীবনের সুখ দুঃখের খ-চিত্র বর্ণনার আতিশয্য ব্যতিরেকে প্রকাশ করা, যাতে পাঠান্তে পাঠকের মনে অতৃপ্তির রেশ থেকে যায়। তিনি ‘শেষের কবিতা এবং গোরা সহ বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন- যা বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। শেষ জীবনে তিনি চিত্রকলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং প্রায় দু’হাজার চিত্র শিল্প অংকন করেন যা পাশ্চাত্যের শিল্পবোদ্ধাদের কাছে ভারতের শিল্পকলাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি নিজেই বলেছেন ‘চিত্রকলা আমার শেষ জীবনের প্রেয়সী, শেষ রাগিনী।’ তিনি প্রিয়জন ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে অসংখ্য চিঠি লিকেছেন যেগুলোতে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ছাড়াও জীবন ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর চিন্তা ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। বিচিত্র বিষয় নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন, আবার নাটক, গীতিনাট্য ও শিশুতোষ, রচনাও সৃষ্টি করেছেন অসামান্য দক্ষতায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি ছিলেন একজন কবি, আপাদমস্তক একজন সার্থক কবি। গীতাঞ্জলি লিখে তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। গীতাঞ্জলি মূলত একটি কবিতা সংকলন যা গীতিমাল্য, খেয়া নৈবেদ্য, গীতাঞ্জলি ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ থেকে ১০৩টি গান ও কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। ‘Song offerings’ নাম দিয়ে ঐ গান ও কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথ নিজেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। ইংরেজি গীতাঞ্জলি অর্থাৎ ‘Song offerings’ এ প্রখ্যাত ইংরেজ কবি ইয়েটস এর একটি ভূমিকা রয়েছে। সেখানে তিনি একজায়গায় লিখেছেন, ‘এই গানগুলোর মধ্যে যে ভাবজগতের ছবি বিধৃত হয়েছে, আমি সারাজীবন তারই স্বপ্ন দেখেছি।’ রবীন্দ্রনাথ প্রায় বাইশ গান লিখেছেন, এর কিছু গান গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ এবং বিভিন্ন গীতিনাট্য থেকে সংকলিত। তবে এমন গানও আছে যেগুলো পুর্বে কবিতা হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে সুরসংযোজন করে ‘গীতবিতানে’ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ প্রায় দুই হাজার গানে নিজেই সুর দিয়েছিলেন। যে ১৯০টি গানে তিনি সুরারোপ করতে পারেননি, সেগুলোতে ইদানীংকালে পশ্চিম বাংলার প্রতিভাময়ী গায়িকা স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত সুরসংযোজন করে স্বরবিতানে সংকলিত করেছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বাণী প্রধান গান বলা হয়। কিন্তু গান হলো বাণী, সুর, তাল এবং লয়ের একটি সমন্বিতরূপ। রবীন্দ্রসঙ্গীতে এসবগুলোর অপরূপ মেলবন্ধন ঘটেছে বলেই এগানগুলো আমাদের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। সুতরাং রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরকে খাটো করে দেখা বোধ হয় সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথের গান সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত চিত্র পরিচালক ও সঙ্গীত পরিচালক সত্যজিত রায় অত্যন্ত তাৎপর্যময় মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, As a composer of songs rabindranath has no equal not even in the west’.
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ধনাঢ্য জমিদারের সন্তান। বেড়ে উঠেছিলেন শহুরে পরিবেশে। ১৮৮৩ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি পূর্ববঙ্গে শাহজাদপুর, শিলাইদহ, পতিসর এলাকার ঠাকুর এস্টেটের জমিদারি দেখাশুনার অস্থায়ী দায়িত্ব পান। কিন্তু ১৮৯০ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে তাঁর উপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেন পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। কারণ পিতা এ কাজের জন্য রবীন্দ্রনাথকেই উপযুক্ত মনে করেছিলেন। শহরে বেড়ে উঠা রবীন্দ্রনাথ এ অঞ্চলে এসে খুবই চমৎকৃত হয়েছিলেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতার ভা-ারে অনেক পালক সংযুক্ত হয়েছিল। গ্রামবাংলার উদার প্রকৃতি, বর্ষায় ঝর ঝর বৃষ্টি মুখর গ্রামীণ পরিবেশ, গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি, কুমার, কামারসহ চির অবহেলিত জনগোষ্ঠী, আউল বাউলের জীবন ঘনিষ্ট মনকাড়া গান- এসব তাঁকে আপ্লুত আবার সেই সাথে ব্যথিত করেছিল। ঋতুভেদে বৈচিত্র্যময় পল্লী প্রকৃতি, বাউল-বৈষ্ণবের ‘মনকেমন বাবা’ গান যেমন তাঁর কলম থেকে গান ও কবিতার ফল্গুধারা বইয়ে দিচ্ছিল, আবার গ্রামের রোগজর্জর, চিরবঞ্চিত, শীর্ণ দীর্ণ মানুষের জন্য কিছু করা, তাদের জীবনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যের পরশ বুলিয়ে দেওয়া অর্থাৎ পল্লীবাংলার উন্নয়নে তীব্র তাগিদ তাঁর কবি মনে নাড়া দিচ্ছিল। গ্রামীণ জনপদের দুর্দশার প্রকৃত কারণসমূহ তিনি চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। এ দুর্দশার চক্র ভাঙতে তিনি সীমিত সামর্থ্য নিয়ে পূর্ব বাংলার জমিদারি অঞ্চলে কাজও শুরু করেন। পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতন থেকে দু’মাইল দূরে সুরুল গ্রামে শ্রীনিকেতন গড়ে তুলে আজীবন পল্লী উন্নয়নে প্রয়াস তিনি চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন ‘আমি নগরে পালিত, এসে পড়লুম পল্লীশ্রীর কোলে, মনের আনন্দে কৌতুহল মিটিয়ে দেখতে লাগলুম। ক্রমে এই পল্লীর দুঃখ দৈন্য আমার কাছে সুস্পষ্ট হলো। তার জন্য কিছু করব এই আকাক্সক্ষায় আমার মন ছটফট করছিল। মনের এ তাগিদ থেকেই তিনি পল্লী উন্নয়নের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হলে কৃষিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। তাই তিনি ছেলে রথীন্দ্রনাথকে এবং বন্ধু পুত্র সন্তোষ কুমারকে কৃষি বিদ্যা ও গোপালন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকায় পাঠিয়েছিলেন। মেয়ে জামাতা নগেন্দ্রনাথকেও কৃষি বিদ্যা শিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান। তাঁর জমিদারি অঞ্চল শাহজাদপুরে উন্নত পদ্ধতিতে গোপালন করে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা যে সম্ভব সেটাও তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি শিলাইদহে এবং পতিসরে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে জমি চাষের উদ্যোগ নেন, কিন্তু সফল হননি। এর মূল কারণ হলো, তখনকার কৃষি যন্ত্রের আকার ছিল বড় এবং এসব যন্ত্র ব্যবহারের জন্য বড় বড় কৃষি খামারের প্রয়োজন ছিল। তিনি কৃষকদের বুঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যদি তারা জমির আল তুলে অনেক জমিকে একত্র করে এক একটি বৃহৎ খামারে পরিণত করে এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহার করে তবে কৃষি উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। তবে কৃষকরা এটা করতে কিছুতেই রাজি হয়নি এবং তাই এসব উদ্যোগও সফল হয়নি। রাশিয়ার চিঠিতে তিনি বলেছেন, দু’টো কথা সর্বদাই আমার মনে আন্দোলিত হয়েছে- জমির স্বত্ব ন্যায়ত জমিদারের নয়, সে চাষীর। দ্বিতীয়ত সমবায়নীতি অনুসারে চাষের ক্ষেত্রে একত্র করে চাষ না করতে পারলে কৃষির উন্নতি হতেই পারে না। মান্ধাতার আমলের হালের লাঙল দিয়ে আল বাঁধা টুকরো জমিতে ফসল ফলানো আর ফুটো কলসিতে জল আনা একই কথা। তিনি প্রথমে শিলাইদহে এবং পরে পতিসরে কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষকদের সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল এ ব্যাংক স্থাপনের উদ্দেশ্য। শিলাইদহের ব্যাংক খুব বেশি দিন টেকেনি। পতিসরের কৃষি ব্যাংক বেশ ভালই চলছিল। এ ব্যাংকে তিনি নোবেল প্রাইজের এক কোটি আশি লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এবং আশা করেছিলেন, এ টাকার সুদ থেকে পতিসরের স্কুলটি পরিচালনা করতে পারবেন। কিন্তু দেখা গেল, কোন দুর্যোগে ফসলহানি হলে কৃষকরা আর ঋণ পরিশোধ করতে পারে না। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত নিকটজন যারা এ ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছিল তাঁদের কার্যকলাপেও তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর এ প্রয়াসও ব্যর্থ হয়। রবীন্দ্রনাথের এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি এটা ঠিক কিন্তু ব্যর্থতার কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেছেন, এদের উপকার করা শক্ত, কারণ এরা নিজেকে বড় অশ্রদ্ধা করে। তারা বলত, আমরা কুকুর, কষে চাবুক মারলে আমরা ঠিক থাকি।’
অশিক্ষা, কুশিক্ষায় বেড়ে উঠা গ্রামের জনগণ নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ছিল খুবই অসচেতন। সবকিছু পূর্বজন্মের কর্মফল, অদৃষ্টে ছিল এই বলে নিজেদেরকে সান্ত¦না দিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পল্লীর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করতে হলে এদেরকে ক্ষমতায়িত করতে হবে। রাশিয়ার চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘চাষীকে আত্মশক্তিতে দৃঢ় করে তুলতে হবে, এই ছিল আমার অভিপ্রায়।’ পাশ্চাত্যের গবেষকরা ‘ক্ষমতায়ন তত্ত্ব’ আবিষ্কার করেছেন বলে আমরা জানি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যে প্রায় একশ বছর পূর্বেই জনগণের ক্ষমতায়নের কথা বলে গেছেন এটা আমরা অনেকেই অবগত নই। তিনি বুঝেছিলেন জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে হলে তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং সে শিক্ষা হতে হবে জীবনের সাথে সম্পর্কিত। রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় বলেছেন, সকল দেশেই শিক্ষার সঙ্গে দেশের সর্বাঙ্গীন জীবনযাত্রার যোগ আছে। আমাদের দেশে কেবলমাত্র কেরানিগিরি, ওকালতি, ডাক্তারি, ডেপুটিগিরি, দারোগাগিরি, মুন্সেফি প্রভৃতি ভদ্র সমাজে প্রচলিত কয়েকটি ব্যবসায়ের সঙ্গেই আমাদের আধুনিক শিক্ষার প্রত্যক্ষ যোগ। তাই শিক্ষার সাথে যাতে জীবনের যোগ ঘটে সে চেষ্টাই তিনি চালিয়েছেন শান্তি নিকেতন ও শ্রীনিকেতনে।
বর্ষা ছিল রবীন্দ্রনাথের খুবই প্রিয় ঋতু। শান্তিনিকেতনে তিনি ‘বর্ষামঙ্গল’ উৎসব প্রবর্তন করেন। বর্ষা উৎসব, হলকর্ষণ ও বৃক্ষরোপণ এই তিনে মিলে বর্ষামঙ্গল উৎসব পালিত হয়। এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘বর্সাই আমাদের অন্নদাতা। হলকর্ষণ আমাদের প্রয়োজন অন্নের জন্য। কিন্তু এর দ্বারা বসুন্ধরার যে অনিষ্ট হয় তা নিবারণ করার জন্য আমরা কিছু ফিরিয়ে দেই যেন। ধরনীর প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য, তার ক্ষত বেদনা নিবারণের জন্য আমাদের বৃক্ষরোপণের এই আয়োজন। কামনা করি, এ অনুষ্ঠানের ফলে চারিদিক তরুচ্ছায়া বিস্তীর্ণ হোক, ফলে শস্যে এ প্রতিবেশ শোভিত আনন্দিত হোক। তিনি নবান্ন উৎসবেরও প্রবর্তন করেন। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে মাঠে মাঠে সোনালি ফসলের হাতছানি, হেমন্তের সুনির্মল প্রকৃতি এসব পল্লীর জনগণকে আপ্লুত ও আন্দোলিত করে। তাই নতুন ফসল উঠার মওসুমে রবীন্দ্রনাথ এ উৎসবের আয়োজন করেন। বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। তখন গ্রামবাংলার প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে উঠে। শীতকালে গাছের পাতা ঝরে পড়ে গাছগাছালি ন্যাড়া হয়ে যায় আবার বসন্তে গাছে গাছে নতুন পাতা গজিয়ে উঠে প্রকৃতিকে মোহনীয় করে তুলে। তখন রঙ বেরঙের ফুল ফুটে এবং মনে হয়, প্রকৃতি যেন নব যৌবন লাভ করেছে, রবীন্দ্রনাথ তাই বসন্ত উৎসবেরও আয়োজন করেন। এছাড়া শীতকালে পৌষ মাসে তিনি শান্তি নিকেতনে পৌষ মেলার ও প্রবর্তন করেন। এ মেলায় গ্রামের জনগণ তাদের হস্তশিল্পজাত পণ্য সম্ভার নিয়ে হাজির হয় এবং বেচাবিক্রির মাধ্যমে কিছুটা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখে। রবীন্দ্রনাথ প্রবর্তিত সবগুলো উৎসব ঋতু ভিত্তিক, আবার এগুলোর অর্থনৈতিক তাৎপর্র্যও রয়েছে। এককথায় বলা যায়, তিনি আমাদেরকে প্রকৃতি সচেতন করেছেন। ঋতু ভেঙ্গে আমাদের প্রকৃতি যে বিচিত্র সাজে সেজে উঠে, তা রবীন্দ্রনাথ যেমন গান ও কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন, আবার বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে এর অর্থনৈতিক দিকটিও তুল ধরেছেন।
রবীন্দ্রনাথ পল্লী উন্নয়ন নিয়ে নানা মুখী পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন, অনেকটা এককভাবেই। তখনকার সমাজ বাস্তবতার তুলনায় তাঁর চিন্তা চেতনা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা ছিল অনেক এগিয়ে। তাই তাঁর কোন প্রচেষ্টাই আশানুরূপ সাফল্যের মুখ দেখেনি। তবে তিনি ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন, জনগণ আত্মশক্তিতে আস্থাবান না হলে তাদের দুর্দশার চক্রকে ভাঙা কিছুতেই সম্ভব নয়।
‘এবার ফিরাও মোরে’ কবিতায় তিনি যথার্থই বলেছেন-
‘এই মূঢ় ম্লান মূক মুখে/ দিতে হবে ভাষা, এই সব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে/ ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা, ডাকিয়া বলিতে হবে/ মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে/ যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে/ যখনি জাগিবে তুমি তখনই সে পালাইবে ধেঁয়ে।’
রবীন্দ্রনাথের ন্যায় কালজয়ী প্রতিভা ও মহীরুহের সামগ্রিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলা অসম্ভব, শুধু তাঁর কর্মকা-ের কিছু টুকরো একত্র করে একটি আংশিক পরিচয়ই তুলে ধরা যায় মাত্র।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT