উপ সম্পাদকীয়

সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে যাত্রী দুর্ভোগ

মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৮-২০১৯ ইং ০০:১৯:১৫ | সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত নানা প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সড়কে চলাচলকারী গাড়ির অধিকাংশই ভাঙ্গা, পুরাতন এবং ফিটনেসবিহীন। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে নেই কোন নজরদারী। নজরদারীর অভাবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এই সড়কে নির্ধিদ্বায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচ্ছে। এসব লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা গাড়িতে উঠলে আপনি সিলেট থেকে কত সময়ে সুনামগঞ্জ অথবা দিরাই যাবেন-এর কোন নিশ্চয়তা নেই। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই উক্ত সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা চলাচল করছেন। কারণ এর কোন বিকল্প নেই।
সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে যাত্রীসেবার নামে যাত্রী হয়রানী চলছে। এই সড়কে বিরতিহীন গাড়িতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কম হলেও লোকাল গাড়িতে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। উক্ত সড়কে চলাচলকারী বিরতিহীন গাড়িও লোকাল গাড়ির মত পুরাতন এবং ফিটনেসবিহীন। স্টেশন থেকে গাড়ি ছাড়ার পূর্বে ড্রাইভার ও হেলপাররা গাড়িতে যাত্রী উঠানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে-গাড়ির পার্টসগুলো ঠিক আছে কি-না এবং গাড়িতে তেল, গ্যাস আছে কি-না, এসব দেখার সময় তাদের নেই। এ কারণে দেখা যায় যে, গাড়ি স্টেশন থেকে ছড়ে কিছুদূর যাওয়ার পরই বিকল হয়ে যায়, অথবা গাড়ির তেল, গ্যাস ফুরিয়ে যায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়, তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং তারা সময়মত গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন না। এ কারণে ড্রাইভার ও হেলপারদের সাথে যাত্রীদের প্রায়ই বসচা হয়। তারপর, বিকল গাড়ি সচল না হলেও তারা যাত্রীদের অবশিষ্ট ভাড়া ফেরৎ দিতে চায় না। ড্রাইভার ও হেলপাররা যাত্রীদের অন্য গাড়িতে সিট না থাকলেও জোরপূর্বক উঠিয়ে দেয়। তারা অন্যায়ভাবে যাত্রীদের অন্য গাড়িতে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করে। কোন যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে না চাইলেও তারা এই যাত্রির ভাড়া ফেরৎ দেয় না। যার ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগের সাথে সাথে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোন কোন গাড়ি রাস্তায় একাধিকবারও নষ্ট হয়। যাত্রা পথে গাড়ি নষ্ট হওয়ার কারণে বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও রোগীদের কষ্টের সীমা থাকেনা। তাছাড়াও যাত্রীদের সাথে ড্রাইভার ও হেলপারদের আচরণ মোটেই সন্তোষজনক নয়। তারা প্রায়ই যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করে। স্টেশন থেকে গাড়ি ছাড়ার সময় গাড়িতে সিট না থাকলেও ড্রাইভার ও হেলপাররা যাত্রীদের সিট দেওয়ার কথা বলে টেনে-হেচড়ে গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়ি ছাড়ার পর ড্রাইভার ও হেলপারদের সাথে এসব যাত্রীদের সিট নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়। উচিত ভাড়া দিয়েও এই সড়কে যাত্রীরা উপযুক্ত সেবা পান না। বরং তাদেরকে উল্টো নাজেহাল হতে হয়। কিন্তু ড্রাইভার ও হেলপারদের এসব অন্যায় কাজ এবং আচরণ দেখার ও শোনার কেউ নেই।
সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগের আরেকটি কারণ হচ্ছে তীব্র যানজট। এই সড়কের নানা স্থানে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটাও যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এসব যানজট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তব কোন উদ্যোগ নেই। লামাকাজী, মাহতাবপুর মাছের বাজার, গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়ার বাজার এবং পাগলায় প্রায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। এসব যানজটে পড়ে যাত্রীদের বহু মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কোন কোন যানজটে ঘন্টা দেড়েক সময় পর্যন্ত গাড়ি আটকে থাকে। এসব যানজটে পড়ে যাত্রীদের সীমাহীন কষ্ট হয়, মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব হয়। এসব স্থানে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। কেননা, তারা টুপাইস কামাই করতে বেশি ব্যস্ত থাকেন। এসব যানজটের মূল কারণ হচ্ছে, অবৈধভাবে গড়ে উঠা অটোরিক্সা এবং লেগুনা স্ট্যান্ড। এসব স্থানে রাস্তার উভয় পাশে অটোরিক্সা এবং লেগুনা ইত্যাদি রেখে রাস্তাকে একেবারে সংকীর্ণ করে ফেলা হয়। যার ফলে রাস্তার উভয় দিক থেকে গাড়ি এসে এসব স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে। ট্রাফিক পুলিশ যদি এসব স্থানে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলতে এবং এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার সুযোগ না দিত, তাহলে এসব স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হত না। কাজেই ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি এসব স্থানে যানজটের জন্য বহুলাংশে দায়ী।
কাজেই সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়ককে যানজটমুক্ত করতে হলে এই সড়কের উভয় পাশে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো উচ্ছেদ করতে হবে এবং এই সড়কে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে।
বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ককে বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে কাজ চলছে সম্ভুক গতিতে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজও হয়নি। আগামী বছরের জুন মাসে ১৪০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা শর্ত অনুযায়ী কাজ না করে নি¤œমানের কাজ করছে। তাই এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত এবং নজরদারীর প্রয়োজন।
সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে বিরাজমান সকল প্রকার অনিয়ম দূর করে এই সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং যাত্রীদের উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত গতিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশার কথা যে, সরকার সম্প্রতি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বিআরটিসির বাস চালু করেছেন। এতে যাত্রীরা কিছুটা উন্নত সেবা পাচ্ছে। এর জন্যে সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে সিলেট থেকে দিরাই পর্যন্ত বিআরটিসির বাস চালু করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে দিরাই এলাকার যাত্রীরাও উন্নত সেবা পায় এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘব হয়। আশা করি সরকার এ ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভিমরুলের চাকে অমিতের খোঁচা
  • মানবপাচার, অর্থপাচার সমাচার
  • আত্মনির্ভরতা
  • খাদ্যে ভেজাল : দরকার কঠোর পদক্ষেপ
  • নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
  • এম.সি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চাই
  • টেকনিক্যাল রোডে স্টিলের রেলিংসহ ফুটপাত চাই
  • জৈনপুর এলাকায় ড্রেন সংস্কার হোক
  • বানরের উৎপাত প্রসঙ্গ
  • শাবিতে বিবিএ অনুষদের আসন বৃদ্ধি হোক
  • প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা
  • সাক্ষরতা আন্দোলন : একটি পর্যালোচনা
  • অশান্ত বিশ্বে শান্তির সন্ধান
  • আমার পাহাড়, আমার সিলেট
  • যৌবন ফিরে পাক বিবিয়ানা নদী
  • সড়ক দুর্ঘটনা : এ শোকের শেষ কোথায়?
  • সামাজিক ব্যাধি
  • আবাসিক এলাকায় ব্যবসা
  • এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে
  • শিশুর উপর এতো চাপ
  • Developed by: Sparkle IT