উপ সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : সঞ্চয়পত্র

এডভোকেট কয়ছর আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৮-২০১৯ ইং ০০:২০:২২ | সংবাদটি ৩৫ বার পঠিত

প্রতি বৎসর বাজেট আসে আর গরীব কাঙ্গালের দুঃখকষ্ট এর পরবর্তীতে বৃদ্ধি পায়, এ যেন তাদের করুণ নিয়তি। প্রাক বাজেটকালীন আলোচনা সমালোচনা বিচার বিশ্লেষণে গরিবের কথা বার্তায় কমতি থাকেনা সত্যি কিন্তু পরিশেষে হয় তাদেরই দুর্গতি। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত অর্থাৎ বৃহত্তর জনগণ হয় প্রকারান্তরে প্রতারিত। গড় আয় বৃদ্ধি পায় জনগণের, উন্নয়ন অগ্রগতি হয়তোবা চলে সর্বত্র কিন্তু তাদের বেলায় এ বিপরীত অবস্থান কেন আল্লাহই মালুম। এমনি এক বিপরীত অবস্থান হচ্ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিভাগ। সঞ্চয়পত্র বিভাগের হাল নিয়মনীতি আজ সর্বত্র ভাবিয়ে তুলছে। যেন মরন কাড় দিয়েছে নিম্নআয়ের জনগণকে।
আমজনতার মধ্যে সঞ্চয়ে ভাব জাগিয়ে, সরকারি নিরাপত্তার বলয়ে অধিক মুনাফা প্রদানের প্রত্যয়ে সরকার বিভিন্ন নামে সঞ্চয়পত্র দেশবাসীর নিকট বিক্রি বা জমা নেন। এক্ষেত্রে কতিপয় নীতিমালাও প্রদান করা হয়। যা অনেকটা চুক্তির মতো। প্রয়োজনের তাগিদে তা অবশ্যই পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এ পরিবর্তন যদি হয় প্রচলিত নিয়ম-নীতির বিপরীত। কিংবা উচ্চবৃত্তের কল্যাণে, আর গরীবদের বঞ্চিতকরণের এক অভিনব পন্থা, তবে এর দায়ভার কে নেবে, এরা যাবে কোথায় আজ প্রশ্নবোধক?
প্রসঙ্গক্রমে একটি পরিবারের কথা বলছি। বিধবার স্বামী ছিলেন ক্ষুদ্র এক ঠিকাদার। তিনি হঠাৎ মারা যান ২ সন্তান ও স্ত্রী রেখে। আত্মীয় হিতার্থীদের পরামর্শে নিরাপদ ভেবে স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র ব্যবসায়িক সম্বল ১০,০০,০০০/- টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন। মাসে প্রায় ৯ হাজার টাকা মুনাফা দিয়ে অতি কষ্টে তার সংসার চলে। ইদানিং সঞ্চয়পত্রে করের হার বৃদ্ধি পাওয়াতে তার আয় অর্থাৎ মুনাফা পাঁচশত টাকার মতো কমে গেল, আর গ্যাস বিদ্যুৎসহ সবকিছুরই মূল্য বৃদ্ধিতে তার সংসার চালানো কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। শুধু তাই নয় মহিলা লোক প্রতি মাসে মুনাফা উঠাতে না পারাতে কর বৃদ্ধির আগের মুনাফাতেও কর বৃদ্ধি করার ফলে তার বাকী সওদা পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। এটা কেমন নিয়ম। আঁচ করা মুশকিল। এর চেয়েও আরো করুণ হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ। কেননা এসব ব্যক্তিদের আয়, করযোগ্য নয় বা তাদের ঞওঘ নাম্বার নেই, আর এই অপরাধে নাকি তারা আর সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন না। নবায়ন করতে পারবেন না। তখন মাথায় হাত রাখার জায়গাও থাকবে কি-না সন্দেহ। গরীবের সঞ্চয় আর মুনাফা নিধনে সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক জমাকৃত অর্থের (১ লক্ষ বা উপরে) লাভে ৫% অতিরিক্ত মুনাফা কর্তন হয় যাহা ধনিক অর্থাৎ ঞওঘ ধারীদের ক্ষেত্রে ৫% কম। এ সমস্ত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় ধনিকরা আরও ধনি হচ্ছেন গরিব বা স্বল্প আয়ের লোকেরা হচ্ছেন বৈষম্যের শিকার। জাতীয় আয়, মাথাপিছু গড় আয় বা কথিত পরিসংখ্যানকে ব্যর্থ করে বাস্তবে তারা পিছু টানে পড়ছেন। আর এদের খবর বা কে রাখেন।
একজন অফিস বেয়ারার (পিওন) তার পেনশন বা এককালীন টাকা যদি ১০/১৫ লক্ষ টাকা পান তবে তিনি (সরকারি নিশ্চয়তা ও অধিক মুনাফা মূলক) সেই সোনার হরিণ সঞ্চয়পত্র আর কিনতে পারবেন না। কেননা তার ঞওঘ নাম্বার নেই। কিনতে পারবেন ঐ বড় কর্মকর্তা যিনি ৭০/৮০ লক্ষ টাকা পেনশন/এককালীন পান কেননা তার ঞওঘ নাম্বার আছে। তেমনি বৈষম্য রয়েছে সরকারি পেনশনার ও মহিলাদের অধিক সুবিধায়। দেশের বেসরকারি, পেনশনহীন এককালীন স্বল্প প্রাপ্ত লোকজনের বা হাজার হাজার শ্রমিক মজলুম জনতার সুবিধা তুলনামূলক কম। সঞ্চয়পত্রের নামের ভিন্নতার হেতুতে। সঞ্চয় ও সুবিধার ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিকদের লিঙ্গ, পেশা নির্বিশেষে একই ব্যবস্থা হওয়া উচিত বলে বিজ্ঞজন মনে করেন। আর যদি পার্থক্য হয়ই তবে নিম্ন আয়ের লোকেরা সুবিধা অধিক পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বাস্তবে কেন বা কাদের স্বার্থে এর বিপরীত হচ্ছে ধারণা করা মুশকিল।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র সাম্প্রতিক অভিনব নিয়মের মারপ্যাচে স্বল্প আয়ের লোকদের আর এ খাতে সঞ্চয়ের সুযোগ এক রকম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ধনিক ঞওঘ ধারীরা বিনিয়োগে কোন বাধা নেই। সরকারি সুবিধা ও ভর্তুকিপূর্ণ সঞ্চয়পত্র তাহলে ঐ ধনীক শ্রেণি আমলা বা সুবিধাভোগীদের স্বার্থে রাখা হয়েছে কেন? বা সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধা না থাকলে তা বন্ধ করাই ছিল উত্তম বলে বিভিন্ন বিজ্ঞজন মতামত দিয়েছেন। সুবিধা বঞ্চিত নিম্ন আয়ের লোকজন মনে করেন বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি হলে এর সমাধান আসবে। ইতিমধ্যে এরূপে অনেক ক্ষেত্রেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাকে একাই এগিয়ে নিতে হচ্ছে দেশ-জাতি আর মজলুম জনতাকে। হতাশাগ্রস্ত লোকজন এখন সেই শেষ প্রত্যাশা করছেন।
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীনে জনতার প্রত্যাশার প্রতীক সঞ্চয় বিনিয়োগ আর উন্নয়নের অংশীদার, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুবিধা হোক সব জনতার। বৈষম্যের মারপ্যাচের হোক অবসান। সর্বক্ষেত্রে সবার হোক সমানাধিকার। ধনিক দরিদ্র দেশবাসী ভাই ভাই, সবাই মিলে এগিয়ে যাই। রক্ষিত হোক সবার অধিকার। রক্ষিত হোক মানবাধিকার। রক্ষিত হোক কাঙ্গালের বাঁচার অধিকার।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিশুর উপর এতো চাপ
  • পারিবারিক সু-শিক্ষা ও বর্তমান সমাজ
  • অপেক্ষা, আর কতোকাল
  • উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই বড়ো চ্যালেঞ্জ
  • প্রসঙ্গ : হকারমুক্ত ফুটপাত
  • জনদুর্ভোগের রকমফের
  • পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
  • ‘যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে...’
  • খাদ্যে ভেজাল
  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কি আদৌ সম্ভব?
  • আসামে এনআরসি বিজেপির রাজনৈতিক খেলা
  • শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র
  • মিতব্যয়িতা
  • হংকং : কেন গণআন্দোলন
  • যানজট মুক্ত মহানগরী : কিছু প্রস্তাব
  • পানি নিয়ে ভাবনা
  • ভেজাল-দূষণ দূর করা কি খুবই কঠিন?
  • সৈয়দ মহসীন আলী : ক্ষণজন্মা রাজনীতিক
  • শিশুদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলার গুরুত্ব
  • রোহিঙ্গাঁ সমস্যা : প্রয়োজন আশু সমাধান
  • Developed by: Sparkle IT