সম্পাদকীয় যে সত্যগুলো সর্বজনীন সেগুলোই যথেষ্ট। -পল ভ্যালেরি

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৮-২০১৯ ইং ০০:২১:৩৩ | সংবাদটি ৫৯ বার পঠিত

পানি জীবন বাঁচায়; তবে সব পানি নয়। সেটা হতে হবে বিশুদ্ধ পানি। আবার যদি দূষিত পানি হয় সেটা জীবন বাঁচাবে না, বরং জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু বিশুদ্ধ পানি দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই। আমাদের জন্য সংকট অন্য সব দেশের চেয়ে একটু বেশি প্রকটই বলতে হবে। এখানে বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস ভূগর্ভস্থ পানি। কিন্তু এই পানিও এখন নিরাপদ নয়। ভূগর্ভের পানিতে একদিকে রয়েছে আর্সেনিকের আগ্রাসন, অপর দিকে পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। দেশের বেশির ভাগ জেলায়ই নলকূপের পানিতে ধরা পড়েছে আর্সেনিক নামক ‘বিষ’। আবার শুষ্ক মওসুমে বিভিন্ন অঞ্চলে নলকূপে পানি ওঠে না। এই অবস্থায় বিশুদ্ধ পানির জন্য বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ।
ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দিন দিন পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। সঙ্গে আর্সেনিকের আক্রমণও বেড়ে চলেছে। যেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, আর্সেনিকও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না দীর্ঘদিনে; তাই বিশুদ্ধ পানির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উৎস বৃষ্টির পানিকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। আর সেই উদ্দেশ্যেই সরকারের উদ্যোগে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করার খবর ইতোপূর্বে শোনা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সরকারি ভবনগুলোতে বিশেষ করে নতুনভাবে নির্মিত ভবনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা এবং দেশব্যাপী পুকুর, দীঘি খনন ও পুনঃখনন। কিন্তু বাস্তবে খুব কমই চোখে পড়ছে এই সব প্রকল্প। বিশেষ করে বছর তিনেক আগে সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে পুকুর ও দীঘি খননের লক্ষে চারশ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। প্রকল্পের আওতায় দেশের চার হাজার ইউনিয়নের প্রতিটিতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত বড় আকারের পুকুর বা দীঘি বা বড় কোন জলাশয় পুনঃখনন করার কথা রয়েছে।
বৃষ্টির পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিরাপদ-বিশুদ্ধ। দেশের বিভিন্ন আর্সেনিক আক্রান্ত অঞ্চলে বৃষ্টির পানিই ব্যবহার করছেন মানুষ নিজস্ব উপায়ে সংরক্ষণ করে। আমাদের দেশে অঞ্চল ভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২শ’ থেকে তিন হাজার মিলিমিটার। এই পানি সংরক্ষণ করে সারা বছর ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে সকলকেই। তাছাড়া পানি অফুরন্ত সম্পদ নয়। এটা সীমিত সম্পদ। পানি সরবরাহের অবকাঠামো এ দেশে অপ্রতুল। তাই পানির গুরুত্ব অনুধাবন করে পানির উৎসগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। সর্বোপরি, ভূগর্ভস্ত পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে সর্বাত্মক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT