সম্পাদকীয়

জ্বলছে আমাজন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৮-২০১৯ ইং ০১:২৫:১৫ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস। এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় সম্প্রতি এই পত্রিকায়। মূলত বনাঞ্চলকেই রূপকভাবে পৃথিবীর ফুসফুস বলে অভিহিত করা হয়েছে। খবরে বলা হয়- চলতি বছর ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে অগ্নিকা- অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পুড়তে থাকা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই বনাঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে আমাজন অগ্নিকা- আলোচ্যসূচীর শীর্ষে থাকা উচিত বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত দিয়েছেন। তাদের মতে, ব্রাজিলের বনাঞ্চল তথা বিশ্বের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চলে যে আগুন জ্বলছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। বনাঞ্চল আমাদের ফুসফুস; যা আমাদের জীবন রক্ষা করছে। চলতি বছর বেশ কয়েকবার আমাজনে অগ্নিকা- সংঘটিত হয়। আর আমাজনে অগ্নিকা- মানে সারা বিশ্ববাসীর জন্য একটি অশনি সংকেত। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল ধ্বংস হলে- ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে। যার ফলে বিরূপ প্রভাব ভোগ করতে হবে বিশ্বের সব দেশকেই।
জ্বলছে আমাজন। এটা অতি সাম্প্রতিককালের খবর। তবে বিশ্বের আরও অনেক বড় বড় বনাঞ্চল ধ্বংস হতে চলেছে ধারাবাহিকভাবে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ অন্যান্য অঞ্চলে সারা বছরই কোন না কোন বনাঞ্চল পুড়ে যায় দাবানলে। বনে আগুন জ্বলতে থাকে মাসের পর মাস; কোন প্রযুক্তি দিয়েই নেভানো যায় না সেই আগুন। এটা হলো বিশ্বের বৃহৎ বনাঞ্চলের ঘটনা; আর এর বাইরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক বনাঞ্চল নানা কারণে ধ্বংস হচ্ছে। বনাঞ্চল পরিণত হচ্ছে বিরাণ ভূমিতে। অথচ বনাঞ্চল পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এ জন্যই আমাজনকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস। বন মানুষের পরম বন্ধু। গাছপালা ছাড়া পৃথিবীতে মানুষের জীবন অচল। বৃক্ষ একদিকে নিসর্গের শোভা বৃদ্ধি করে, অপরদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ বাতাসে অক্সিজেন ছাড়ে। আর আমরা সেই অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় অনুকূল পরিবেশ তৈরীতে গাছের তুলনা নেই। গাছপালা না থাকলে পরিবেশ হয়ে উঠে উষ্ণ। যার লক্ষণ কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছে বিশ্ববাসী সাম্প্রতিক সময়ে। কারণ বিশ্বের তাপমাত্রা ইদানিং বছরগুলোতে বেড়েই চলেছে। আর আমাজনসহ বিশ্বের অন্যান্য বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে আগামীতে আরও বড় বিপর্যয় ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে সজাগ হওয়ার জন্য প্রতিটি দেশের সরকার এবং জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বৃক্ষ বা বনায়ন। বিদ্যমান বনাঞ্চল রক্ষার পাশাপাশি নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আর তা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য যতোটুকু জরুরি, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য আরও বেশি জরুরি। বাংলাদেশে বৃক্ষ সম্পদ বৃদ্ধিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। আর এখানে দাবানলের মতো কোন বিপর্যয় বৃক্ষ সম্পদ ধ্বংস করে দেয়ার কোন আশঙ্কাও নেই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT