সম্পাদকীয়

হাওরবাসীর দারিদ্র্য বিমোচন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:২৫:৫৬ | সংবাদটি ১৭৩ বার পঠিত

হাওরাঞ্চলবাসীর দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই সংক্রান্ত খবর সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। মূলত সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন করাই এই কর্মসূচীর লক্ষ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৩৯টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চার বছর মেয়াদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয় হবে একশ ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হচ্ছে-হাওরাঞ্চলে হাঁস মুরগী ছাগল, ভেড়া পালন হতে পারে অপার সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস। কিন্তু এই এলাকায় এখনও উন্নত প্রযুক্তিতে প্রাণি পালন না হওয়ায় এই সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন ক্ষমতা কোনটাই সন্তোষজনক নয়। এই প্রেক্ষাপটে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে।
দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রয়েছে হাওর-বাওর-বিল। দেশের ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গ মাইল হাওর। দুই কোটির বেশি মানুষের জীবনযাত্রা নির্ভরশীল হাওরের ওপর। বিশেষ করে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ সিলেটের চার জেলা এবং কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় রয়েছে চারশ’ ২৩টি হাওর। এছাড়া, উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রয়েছে ছোট বড় তিনশ’ ৫০টি হাওর। বলা যায় ভৌগোলিক কারণে এই হাওরাঞ্চল এবং দুর্গম গ্রামগুলো মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুসারে দেশে বর্তমানে তিনশ’ ৭৩টি হাওর রয়েছে। এই অঞ্চলের অধিবাসীদের বছরে একটি মাত্র ফসল উৎপাদন ছাড়া জীবিকার বিকল্প কোন উপায় নেই বললেই চলে। অবশ্য কিছু কিছু পরিবার মৎস্য ও হাঁস মুরগী পালনের দিকে ঝুঁকছে। তবে সেটা ব্যাপক ভিত্তিক নয়। সরকার এই দিকেই নজর দিয়েছে। অর্থাৎ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে হাঁস মুরগী, ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির এই উদ্যোগকে বিজ্ঞ মহল স্বাগত জানাবে। কারণ ইতোপূর্বে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও তা ছিলো কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। এবারের উদ্যোগ বলা যায় এখন রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে পাস হওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অতীতে দারিদ্র্য দূরীকরণে ছাগল পালনসহ গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। মূলত অনিয়ম-দুর্নীতিই এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী। এই প্রেক্ষাপটে হাওরাঞ্চলের জন্য সরকারের নতুন কর্মসূচিটিও যাতে অনুরূপ গ্যাঁড়াকলে আটকে না পড়ে, সেটাই প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT