ইতিহাস ও ঐতিহ্য

আল হামরা : ইতিহাসের অনন্য কীর্তি

সুজিয়া আক্তার প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩২:৩১ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

স্পেনে এক মুসলিম নিদর্শন
ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের একটি দেশ স্পেন। মধ্যযুগে পুরো ইউরোপ যখন অজ্ঞানতার তীব্র অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন এই মহাদেশে একমাত্র ব্যতিক্রম স্পেন ছিল জ্ঞান ও সভ্যতার আলোকধারায় উদ্ভাসিত। অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপের বিপরীতে তৎকালীন ‘আন্দালুসিয়া’ নামে পরিচিত দেশটি শুধু ইউরোপ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যই ছিল জ্ঞান ও সভ্যতার বাতিঘরতুল্য। ইসলামি সভ্যতার অধীন সেই আন্দালুসিয়া ছিল সবার জন্যই এক স্বপ্নের দেশ। ১৪৯২ সালে খ্রিস্টীয় রাজশক্তি গ্রানাডা দখল করে স্পেন থেকে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটালেও মুসলিম সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন আজও স্পেনের বুকে মাথা উঁচু করে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা ঘোষণা করছে। এরূপ একটি নিদর্শন গ্রানাডার প্রাসাদ-দুর্গ ‘আল-হামরা’।
গ্রানাডা শহরের পশ্চিমে সাবিক পাহাড়ের ওপরে দুর্লভ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত স্থানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন আল-হামরা প্রাসাদ। প্রাসাদের বাঁ দিক দিয়ে বয়ে গেছে দারো নদী। আল-হামরা নির্মাণের সময় জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে খুবই চাতুর্যের সঙ্গে, যেন আল-হামরা থেকে মুরদের পুরনো শহর আলবাইজিন এবং তার সামনের ঢালু তৃণভূমি দেখা যায়। তাই আল-হামরা থেকে গ্রানাডা শহরের অসাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে।
জানা যায়, ১৪৯২ সালে পরাজিত হওয়ার পর গ্রানাডার মুসলিম শাসক যখন আল-হামরা ত্যাগ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কান্নায় বুক ভেসে যাচ্ছিল তার।
যেভাবে নির্মিত হলো
আল-হামরা সূচনাতে বিশাল কোনো স্থাপনা ছিল না। ৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ওই স্থানে একটি ক্ষুদ্র দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। একাদশ শতকের মাঝামাঝিতে গ্রানাডার জিরিদ আমিরাতের ইহুদি উজির সামুয়েল বিন নাঘরিলা দুর্গটিকে সংস্কার করে নেন এবং এটিকে তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে তার পুত্র জোসেফ বিন নাঘরিলা প্রাসাদটিকে আরও সম্প্রসারণ করেন।
১২২১ সালে মুসলিম শাসক ইবনে আল আহমদ তার রাজধানী জেন থেকে গ্রানাডায় সরিয়ে এনে সেখানে তার রাজপ্রাসাদ স্থাপন করেন। ইবনে আল আহমেদ ও তার উত্তরসূরিদের রাজত্বের সময়কে নাসিরীয় খেলাফত বলা হয়। তার নির্দেশেই পাহাড়ের গায়ে আল-হামরা প্রাসাদ ও দুর্গ, শহর, শিক্ষালয়, প্রশাসনিক ভবন তৈরির কাজ শুরু করা হয়। শহর ও শহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দুর্গের কাজ শেষ হয় ১৪০০ শতাব্দীতে। শহরের সুবিধার জন্য খলিফাদের প্রাসাদ আল-হামরার কাছাকাছি প্রশাসনিক ভবনগুলোকেও সরিয়ে আনা হয়। ১৪৯২ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল নাসিরীয়দের রাজত্বকাল। তারপর ক্যাথলিকদের আক্রমণে নিজেদের সামরিক দুর্বলতাকে স্বীকার করে বিনাযুদ্ধে আত্মসমর্পণ করেন তখনকার খলিফা নাসিরীয় বংশের শেষ শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদ (আবু আবদুল্লাহ/ বোয়াবদিল)। সে কারণেই হয়তো এখন পর্যন্ত অমূল্য স্থাপত্য শিল্প অক্ষত আছে। পরবর্তী ক্যাথলিক রাজারাও আল-হামরা প্রাসাদের পাশেই তাদের নিজস্ব প্রাসাদ স্থাপন করে সেখানেই বসবাস ও রাজত্ব করেন। সে কারণে দুর্গ ও অন্য ভবনগুলো বিভিন্নভাবে ধ্বংস হলেও প্রাসাদটি অক্ষত থেকে যায়। আল-হামরার বর্তমান সংস্করণ নাসিরীয় শাসকদের হাতেই সম্পাদিত হয়। আল-হামরার বিখ্যাত সিংহ দরবার, হাম্মাম প্রভৃতি স্থাপনা নাসিরীয় আমিরদেরই কীর্তি।
তিনশ বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে এই হৃদয়গ্রাহী সাজে সাজানো হয় প্রাসাদটিকে। একে শুধু একটি প্রাসাদ বললে খুব কম বলা হবে। আলো, আঁধার, বাতাস, জল, নির্জনতার এক সুষম ও শৈল্পিক মিলনমেলার পরিপূর্ণ জগৎ সাজানো হয়েছে প্রাসাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে। প্রাসাদের প্রতিটি অংশেই মার্বেল পাথরের অতি সূক্ষ্ম কাজ, আর এর মাঝে আধো আলো, আধো আঁধারের খেলা, বাইরে ফুল, গাছ, ফোয়ারা, রোদ আর ছায়া নিজের শরীরে স্পর্শ আর অনুভূতির মতোই জীবন্ত। আল-হামরা মানব জগতের আত্মিক শৈল্পিক মননের জাগতিক উদাহরণ।
গঠনপ্রণালী
আল-হামরা নির্মাণের নকশায় কোনো মহাপরিকল্পনা ছিল না। তাই এর পূর্ণাঙ্গ গঠনপ্রণালী সুবিন্যস্ত নয়। যে সোপান বা মালভূমিতে আল-হামরা অবস্থিত তার দৈর্ঘ্য ৭৪০ মিটার এবং এর সর্বাধিক প্রস্থ ২০৫ মিটার। আল-হামরার পুরো স্থাপনাটি প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। প্রাসাদের পশ্চিম দিকটি সম্পূর্ণ দুর্গ আকৃতির। বাকি অংশটিতে কিছু সংখ্যক মরিশ প্রাসাদ ও তেরটি মিনার রয়েছে, যা একটি সুরক্ষিত প্রাচীর দ্বারা ঘেরা। কালের বিবর্তনে এর অনেক কিছুই ক্ষয় হয়ে গেলেও মোটামুটিভাবে দুর্গটি খাড়া রয়ে গেছে। সম্প্রতি ব্যাপক পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে এতে।
আল-হামরার প্রাসাদগুলোর স্থাপত্যশৈলী খুবই জটিল। অসংখ্য কলাম, তোরণ, ঝরনা, প্রবাহিত পানি এবং স্বচ্ছ পুকুর এর নান্দনিক সজ্জার জটিল স্থাপত্যশৈলীকে আরও জটিল করেছে। প্রাসাদগুলোর বাইরের দিকটা অবশ্য সাদামাটা রাখা হয়েছে। এমনভাবে আল-হামরা ডিজাইন করা হয়েছে যেন ভেতরে প্রচুর আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। প্রাসাদের ভেতরের দেয়ালগুলো মুরিশ কবি ইবন জামরাকের কবিতা খোদাই করে সাজানো হয়েছে। এছাড়া রয়েছে নানারকম জটিল জ্যামিতিক কারুকাজ এবং অ্যারাবেস্কের কাজ।
অ্যারাবেস্ক হচ্ছে কোনো পৃষ্ঠতলে পরস্পর জড়াজড়ি করে থাকা ফুলপাতার নকশা। ছন্দময় রৈখিক প্যাটার্নে পরস্পর আপতিত সরলরেখার কাজও অ্যারাবেস্কের মধ্যে পড়ে। আরও রয়েছে মুসলিম বিশ্বে ব্যবহৃত আলকাটাডো টাইলসের কাজ, গাণিতিক নকশা ল্যাসেরিয়ার কাজ, স্টাকো এবং ফোলিয়েট অর্নামেন্টসের কাজ। প্রাসাদের সিলিংয়ের সাজেও আছে বৈচিত্র্য। কাঠের তৈরি গম্বুজাকার সিলিং সাজানোর জন্য মাকার্নাসের নকশা। এই নান্দনিক অভ্যন্তরীণ সজ্জা ছিল গ্রানাডার বিকাশমান আন্দালুসিয়ান শিল্পের অবদান। মুরিশ শিল্পীরা নতুন এই শিল্পের আবিষ্কারের উপাদান সংগ্রহ করেছেন বাইজেন্টাইন ও সমকালীন আব্বাসীয় খেলাফত থেকে। কিছু কিছু নিজেরাও উদ্ভাবন করেছেন, যেমনÑ অলংকৃত তোরণ এবং গম্বুজাকৃতির সিলিংয়ের কারুকাজ। গ্রানাডার শেষ সময়ে বিকশিত এই স্থাপত্য কৌশলের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে আজকের আধুনিক মুসলিম স্থাপত্যগুলোতে, বিশেষ করে মাগরেবে।
আল-হামরার ভেতরের বাণী
আল-হামরাকে বলা হয় ইউরোপে মুসলিম স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল রতœ। এর অভ্যন্তরে দেয়াল এবং বিভিন্ন অবকাঠামোতে আরবি অক্ষরে কী লেখা আছে, তা জানা সম্ভব হয়নি অনেকদিন। আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, এতে রয়েছে পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াত। এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন আমলের অসংখ্য ক্ষুদ্র কবিতা। স্পেনের উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিষদের ‘স্কুল অব অ্যারাবিক স্টাডিজ’-এর গবেষক জুয়ান কাস্তিলা বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত ১০ ভাগের অর্থও আমরা উদ্ধার করতে পারিনি। ১২৩৮ সাল থেকে ১৪৯২ সাল পর্যন্ত গ্রানাডার শাসক নাসরিদি গোত্রের একটা আদর্শিক বাণী এতে উৎকীর্ণ আছে। এই বাণীটি শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। এতে বলা হয়েছে ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ জয়ী নয়’। কাস্তিলা বলেন, ‘এই একটি কথাই উৎকীর্ণ আছে হাজারবার।’
তিনি জানান, ২০০২ সালে একটি প্রকল্প শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১০ হাজার পঙক্তি শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ১১৬টি পঙক্তির অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে যে বাক্যটি সবচেয়ে বেশিবার লেখা আছে তা হলোÑ‘চিরন্তন শান্তি’। এর মাধ্যমে সম্ভবত গ্রানাডা শাসকের প্রতি মানুষের সদিচ্ছার কথাই প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণ কিছু নীতিবাক্যও রয়েছে এসব লিখনের মধ্যে। যেমন আছে, ‘বাক্যে সংযত হও, সুখী হতে পারবে’ এবং ‘আল্লাহ সহায় হলে তোমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে’ ইত্যাদি।
কাস্তিলা জানান, ১৪৯২ সালে গ্রানাডা খ্রিস্টানদের হাতে পুনরায় চলে আসার পর শাসক ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার কিছু নির্দেশও এখানে উৎকীর্ণ আছে যার অর্থ এখনো উদ্ধার করা হয়নি। এসব লিখনের অধিকাংশই এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিছু ঢাকা পড়েছে গম্বুজ আর স্তম্ভের আড়ালে। এগুলো পাঠোদ্ধার করা হচ্ছে ত্রিমাত্রিক লেজার স্ক্যানারের সাহায্যে। মুসলিম শাসনামলে মানুষসহ প্রাণীর প্রতিকৃতি অঙ্কন নিষিদ্ধ হওয়ায় দুর্গটির অভ্যন্তরভাগ এসব আরবি লেখনী দিয়েই সজ্জিত করা হয়েছিল।
প্রধান প্রধান অংশ
১৭৩০ মিটার দেওয়ালে ঘেরা আল-হামরার ভেতরে আছে ত্রিশটি টাওয়ার আর চারটি সদর দরজা। এর মূলত তিনটি অংশÑপ্রাসাদের নিরাপত্তা দানকারী রাজকীয় সেনাবাহিনীর বাসস্থান বা আল-কাজাবা, শাসকের পরিবারের আবাস বা সিটাডেল, আর শহর বা মাদিনা। শহরে রাজসভার কর্মকর্তারা বাস করতেন। আল-হামরার সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা হলো তিনটিÑকোমারিস প্যালেস, কোর্ট অব লায়ন ও পার্টাল প্যালেস। সবগুলোই চতুর্দশ শতাব্দীতে নির্মিত।
কোমারেস প্যালেসের সদর দরজাটি একটি উঁচু প্লাটফর্মের ওপর নির্মিত। সদর দরজাটি উন্মুক্ত হয়েছে একটি প্রাঙ্গণে, যেখানে রয়েছে বিশাল চত্বর এবং পুকুর। এই অংশটি কোর্ট অব মার্থিস নামে পরিচিত। এটিই কোমারিস প্যালেসের মূল কেন্দ্র। আল-হামরার সবচেয়ে বড় টাওয়ার হচ্ছে কোমারিস প্যালেস। এখানে রয়েছে সিংহাসন কক্ষ ‘হল অব অ্যাম্বাসেডরস’। এই কক্ষের অভ্যন্তরীণ সজ্জা খুবই জমকালো। কক্ষে রয়েছে ধনুকাকৃতির জানালা। মেঝেতে রয়েছে স্টাকোর কাজ। দেয়ালে রয়েছে জ্যামিতিক নকশার কারুকাজ।
কোমারিস প্রাসাদের ঠিক পরেই অবস্থিত ‘কোর্ট অব লায়ন’। তবে এটি একটি আলাদা ভবন। গ্রানাডার পতনের পর দুটি প্রাসাদকে সংযুক্ত করা হয়। নাসরিদি শাসক পঞ্চম মুহাম্মদ ‘কোর্ট অব লায়ন’কে দেখার মতো করেই বানিয়েছিলেন। জটিল পানিপ্রবাহ ব্যবস্থা সংবলিত মার্বেল বেসিনের ঝরনাটি পাথরে খোদাই করা বারোটি সিংহের পেছনে অবস্থিত। কোর্ট অব লায়ন চত্বরকে ঘিরে রেখেছে সরু কলাম। এর পশ্চিম অংশে রয়েছে মাকার্নাস চেম্বার। এই চেম্বারের গম্বুজাকৃতির কারুকার্যখচিত সিলিং আল-হামরার অন্যতম সেরা স্থাপত্য। আল-হামরার পার্টাল প্যালেস পোর্টিকো প্যালেস নামেও পরিচিত। এটি তৈরি হয়েছে ধনুকাকৃতির তোরণ দিয়ে। আরও রয়েছে বড় একটি পুকুর। এটি আল-হামরার অন্যতম পুরনো ভবন।
নাসিরীয় শাসকরা নিজেদের শুধু প্রাসাদের চার দেয়ালের মাঝেই বন্দি রাখেননি। তাদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল মনোরম বাগান জেনারালাইফ। জেনারালাইফ শব্দটি এসেছে আরবি ‘জান্নাত চল আরিফা’ থেকে। আরবিতে জান্নাত মানে স্বর্গ বা বাগান। নাসিরীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম সুরক্ষিত এই স্থাপনায় রয়েছে নানারকম পানির প্রবাহ, ঝরনা এবং ফুল। নাসিরীয়রা এখানে লাগিয়েছিলেন গোলাপ, কমলালেবু এবং মার্থেল ফুল। কোরআনে বর্ণিত জান্নাতের কথা মাথায় রেখে এই বাগানটি তৈরি করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে ‘আর তার নিচে থাকবে প্রবাহিত ঝরনাধারাসমূহ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৫)। এর ভিত্তিতে স্থপতিরা চেষ্টা করেছেন আল-হামরাকে পৃথিবীর বুকে ঝরনাসমৃদ্ধ একটি স্বর্গে রূপদান করতে।
যেভাবে আজও অক্ষত
গ্রানাডার পতনের পরও প্রাসাদটির রাজকীয় মর্যাদা অক্ষুণœ থাকে। খ্রিস্টীয় রাজন্যবর্গ প্রাসাদটিকে তাদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। স্পেনীয় সম্রাট ৫ম চার্লস (১৭০০-১৭৪৬) স্থাপত্যটির ইসলামি চরিত্র মøান করে এতে খ্রিস্টীয় চিহ্ন প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য তিনি আল-হামরার কমপ্লেক্সের মাঝে একটি রোমান শৈলীর প্রাসাদ নির্মাণ করেন। কিন্তু তারপরও আল-হামরার স্থাপত্যশৈলীর ওপর প্রাসাদটি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি বরং ওই প্রাসাদটি আল-হামরার সমগ্র স্থাপনার সঙ্গে মিশে একটি অখ- স্থাপনায় পরিণত হয়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর পর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল আল-হামরা। ফলে অযতœ ও অবহেলায় প্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রাসাদটিকে নতুন করে সংস্কার করা হয় এবং একে পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
আল-হামরার ঐতিহ্যগত গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে স্পেনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সবার প্রথমেই আসে আল-হামরার নাম। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ পর্যটক এটি দেখতে যান।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আজিজপুর
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেক অধ্যায়
  • কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলন
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয়
  • শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক দাউদিয়া মাদরাসা
  • পৃথিবীর প্রাচীন লাইব্রেরিগুলো
  • আল হামরা : ইতিহাসের অনন্য কীর্তি
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • Developed by: Sparkle IT