ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পৃথিবীর প্রাচীন লাইব্রেরিগুলো

আরফাতুন নাবিলা প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৪:২০ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত

দ্য লাইব্রেরি অব আলেক্সান্দ্রিয়া
আলেক্সান্দ্রিয়ার এই বিশাল লাইব্রেরিটি তৈরি হয় ২৯৫ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। ইতিহাসে এর পরিচিতি ‘সর্বজনীন’ লাইব্রেরি নামে। এই লাইব্রেরিতেই যাতায়াত ছিল বিশ্বসেরা প-িতদের। তারা এখানে আসতেন, পড়ার জন্য এখানে ছিল হাজার হাজার বই, তারা তাদের মত প্রকাশ করতেন। ইতিহাস, আইন, বিজ্ঞান, গণিত এবং পা-ুলিপি মিলে প্রায় ৫ লাখ পৃষ্ঠার তথ্য সংরক্ষিত ছিল এই লাইব্রেরিতে। সেই প্রাচীন সময় থেকেই এই লাইব্রেরিকে বিবেচনা করা হতো মহামূল্যবান হিসেবে।
মিসরীয় সরকারের দেওয়া বৃত্তিতে অনেক প-িত শুধু পড়াশোনা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন বলে এই লাইব্রেরির আঙিনায় থেকে যেতেন! এই দলে শামিল ছিলেন ইউক্লিড এবং আর্কিমিডিসের মতো প-িতরাও!
বিপুল তথ্যের ভা-ার এই লাইব্রেরিটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল তার জবাব আজও অজানা। ধারণা করা হয়, ৪৮ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ত্রয়োদশ টলেমির সঙ্গে আলেক্সান্দ্রার যুদ্ধ চলার সময় জুলিয়াস সিজার এতে আগুন লাগিয়ে দেন। তবে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, একটি মাত্র অগ্নিকা- বিশাল এই লাইব্রেরিকে ধ্বংস করে দিতে পারে না।
আরেকটি বিশেষজ্ঞ দল মনে করে, ২৭০ খ্রিস্টাব্দে লাইব্রেরিটি রোমান সম্রাট অরেলিয়ানের রাজত্বের সময় ধ্বংস হয়ে গেছে। আবার অনেকের মতে, চতুর্থ শতাব্দীর কাছাকাছি কোনো এক সময় এটি ধ্বংস হয়। এটি ধ্বংসের পেছনের ঘটনা যাই হোক না কেন, স্থাপত্য এবং শিক্ষার দিক দিয়ে ‘দ্য লাইব্রেরি অব আলেক্সান্দ্রিয়া’ ইতিহাসের অন্যতম অর্জন।
ভিলা অব দ্য প্যাপিরাই
আধুনিক সময়ে টিকে থাকা অনেকগুলো লাইব্রেরির মাঝে একটি এই ‘ভিলা অব দ্য প্যাপিরাই’। দক্ষিণ ইতালির এরকোলানোতে এই লাইব্রেরিটি অবস্থিত। এই জায়গার প্রাচীন নাম ছিল হারকিউলিয়াম (প্রাচীন রোমান শহর)।
১৭৫২ সালে প্রতœতাত্ত্বিকদের একটি দল এই লাইব্রেরিটি খুঁজে পাওয়ার পর এর নতুন নামকরণ করা হয়। রোমানদের সময়ে পুরো হারকিউলিয়াম শহরের মাঝে এই ভবনটিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং আভিজাত্যপূর্ণ ছিল। ভবনের আকর্ষণীয় সব স্থাপত্যকর্মে এই আভিজাত্য ফুটে ওঠে। ভবনের দেয়ালে রয়েছে অসাধারণ সব শিল্পকর্ম, রয়েছে ব্রোঞ্জ, মার্বেলের তৈরি নানা মূর্তির সংগ্রহ। নিখুঁত কাজের এই শিল্পকর্মগুলোকে বলা হয় গ্রিক আর রোমানদের করে যাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান কাজ। এই লাইব্রেরিটিকে কোনোভাবেই লাইব্রেরি বলা যেত না। একসময় এটি ছিল জুলিয়াস সিজারের শ্বশুর লুসিয়াস কালপুরনিয়াস পিসো সিজোনিয়াসের বাড়ি।
৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির মাউন্ট ভিসুভিয়াসে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম শহর ৩০ মিটার পর্যন্ত ছাইয়ে ঢেকে যায়। ১৭৫০ থেকে ১৭৬৫ সাল সময়ের মাঝে কার্ল ওয়েবারের তত্ত্বাবধানে খনন করে লাইব্রেরিটি খুঁজে বের করা হয়। এই লাইব্রেরি গ্রিক এবং রোমানদের অনেক অসাধারণ কাজকে একসঙ্গে ধরে রেখেছে। ভয়াবহ সেই বিপর্যয়ের পরও লাইব্রেরিতে থাকা প্রায় ১৮০০টি পৃষ্ঠা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। আর এ কারণেই খননকাজের পরই এর এমন নামকরণ করা হয়।
হারকিউলিয়ামের অনেক ভবন এখনো মাটির নিচে। তবে সেই বিপর্যয়ে ভস্মীভূত হওয়া কিছু ভবনের টুকরো টুকরো অংশ দর্শকদের দেখানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় রাখা আছে। এর মাঝে নেপলস-এর ন্যাশনাল আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়ামেও কিছু নিদর্শন রয়েছে।
দ্য রয়্যাল লাইব্রেরি অব আশুরবানিপাল
দ্য রয়্যাল লাইব্রেরি অব আশুরবানিপালকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরি অথবা বিশ্বে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটি একদল প্রতœতাত্ত্বিক আবিষ্কার করেন যখন তারা নিনেভে (বর্তমানে কুয়ুনজুক) কাজ করছিলেন। সপ্তম শতাব্দীতে আশিরিয়ান শাসক আশুরবানিপাল ‘রাজকীয় চিন্তা’র এই লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
এই লাইব্রেরিটিতে ৩০ হাজার পাথরের ওপর কিউনিফর্মে লেখার এক বিশাল সংগ্রহ আছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এই পাথরগুলোকে একেকটি নির্দিষ্ট বিষয় অনুসারে সাজানো হতো। এগুলোর বেশিরভাগই রাজকীয় আদালতে ব্যবহার করা হতো। এগুলোতে গিলগামেশের ৪ হাজার বছর বয়সী মহাকাব্যের সাহিত্যেও খোদিত হয়েছে।
এই লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বিষয়ের বিপুল সংরক্ষণ বিস্মিত করার মতো। এখানে চিকিৎসা, পুরাণশাস্ত্র, সংগীত, বিজ্ঞান, সাহিত্য এবং ভূগোলবিদ্যার বিশাল সংগ্রহ আছে। প্রাচীনকালে আশুরবানিপালের এই লাইব্রেরিতে থাকা বইগুলো দিয়েই আধুনিক বিদ্যার অনুশীলন হতো।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার ‘সভ্যতায় অবদান’ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন একজন শক্তিশালী এবং নির্দয় রাজা। তিনি খুব কম সময়ের জন্য সম্রাট পদে বহাল ছিলেন। নির্মমতার নজির তার বেশি হলেও তিনি একজন অসাধারণ সম্রাট ছিলেন। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, আশিরিয়ান কিছু চিত্র এত ভয়াবহভাবে প্রদর্শিত ছিল যে সেখানে নির্যাতন, গণহত্যা, মুখ থেকে টান দিয়ে জিহ্বা বের করে ফেলাসহ আরও ভয়ংকর নির্মমতার কথা ছিল। অত্যাচারের মাত্রা এত তীব্র হওয়ার পরও সম্রাটকে মনে রাখা হয় শুধু সাহিত্য আর জ্ঞানার্জনে তার বিপুল অবদানের কথা ভেবে। ব্যাবিলন সংলগ্ন রাজ্যসমূহ থেকে তিনি প্রচুর পরিমাণে বই লুট করেছিলেন। তার অধিকৃত কাজসমূহ বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যতেœর সঙ্গে সংরক্ষণ করা আছে।
দ্য লাইব্রেরি অব পারগামাম
বর্তমানে বারগামাতে অবস্থিত আধুনিক তার্কিশ শহর এনাটোলিয়ার পারগামাম। এটি গ্রিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। সাংস্কৃতিকভাবে শহরটি অনেক সমৃদ্ধ ছিল। শহরে থাকা অসাধারণ আর ব্যাপক বিস্তৃত লাইব্রেরিই তার প্রমাণ। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে আত্তালিদ রাজবংশের রাজা দ্বিতীয় ইমিনিসের শাসনকালে শহরটি প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই রাজার অধীনেই পারগামাম ম্যাসিডোনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং রোমান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একজোট হয়।
দ্য লাইব্রেরি অব পারগামাম বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় দুই লাখ পৃষ্ঠার এক বিশাল সংগ্রহশালা। শহরে সে সময় বাস করত প্রায় ২ লাখ মানুষ। তাদের ছিল পারগামামের দারুণ সব শিল্পকর্ম, মূর্তি আর স্থাপত্যকর্ম। লাইব্রেরিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্রও ছিল। নিউ টেস্টামেন্টে প্রকাশিত সাতটি গির্জার অন্যতম হিসেবে এর নাম উল্লেখ আছে। ১৩৩ খ্রিস্টপূর্বের দিকে, পারগামামের নিয়ন্ত্রণ ছিল রোমান রিপাবলিকদের ওপর। পরবর্তী সময়ে মধ্যযুগে এটা অটোম্যান সাম্রাজ্যের হাতে পড়ে।
প্রাচীন গ্রন্থকার প্লিনি দ্য এল্ডারের মতে, আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরির পাশাপাশি দ্য লাইব্রেরি অব পারাগামাম এতটাই বিখ্যাত হয়ে ওঠে যে দুই লাইব্রেরির মাঝে ‘তীব্র প্রতিযোগিতা’ চলছিল। তথ্যের বিশাল ভা-ার তৈরি করতে দুই পক্ষই বই সংগ্রহ করার এমন নেশায় ছিল যে চিন্তা আর সমালোচনায় তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুই লাইব্রেরির অভিযোগের কারণে উত্তেজনা এতটা উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, লাইব্রেরির ক্ষতি হবে এমন আশঙ্কায় মিসরের টলেমিক রাজবংশ পারগামামে প্যাপিরাসের রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। শহর কাউন্সিলরের স্ত্রী ফ্লেভিয়া মেলিটেন্স পারগামামের একজন নাগরিক হিসেবে লাইব্রেরির জন্য বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন। রোমান সম্রাট হাদ্রিয়ানের একটি মূর্তি তিনি লাইব্রেরিতে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
ম্যাকাডোনিয়ান সম্রাট মার্ক অ্যান্থনি ক্লিওপেট্রার বিয়েতে উপহার হিসেবে ২ লাখ বই দিয়েছিলেন লাইব্রেরির জন্য। লাইব্রেরি অব আলেক্সান্দ্রিয়ার মতো অনেক বই ছিল এখানে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই লাইব্রেরি হয়ে ওঠে অন্যতম। কেউ কেউ বলেন, জুলিয়াস সিজার ৪৮ খ্রিস্টপূর্বে প্রথম গৃহযুদ্ধের সময় এই লাইব্রেরিটি পুড়িয়ে দেন। আবার কারও কারও মতে লাইব্রেরিটি ধ্বংসের সময় ২৭০-২৭৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে, ওরেলিয়ানদের আক্রমণের সময়।
দ্য ইমপেরিয়াল লাইব্রেরি অব কন্সট্যান্টিনোপল
কন্সট্যান্টিনোপলের অভিজাত লাইব্রেরির বেশিরভাগই রহস্য ঘেরা। ইতিহাসবিদদের মতে, বিভিন্ন সময়ের যে তথ্যগুলো ক্ষয় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্যই এটি প্রস্তুত করা হয়। ৩৫৭ খ্রিস্টাব্দে কন্সট্যান্টিনোপলের সম্রাট দ্বিতীয় কন্সট্যান্টিয়াস অভিজাত এই লাইব্রেরিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। প্যাপিরাসের চাইতে বেশি টেকসই হওয়ায় ওই লাইব্রেরিতে জুডিও-খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থগুলো সংরক্ষণের জন্য ভেলাম (বাছুরের চামড়া) সংগ্রহ করা হতো।
সম্রাট দ্বিতীয় কন্সট্যান্টিয়াসের শুধু ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকলেও এই অভিজাত লাইব্রেরিতে গ্রিক এবং রোমানদের জ্ঞানার্জনের জন্য প্রচুর বই এবং পৃষ্ঠা সংরক্ষণ করা ছিল। প্রাচীন গ্রিস থেকে সংগৃহীত যেসব তথ্য আজও টিকে আছে সেগুলো কন্সট্যান্টিনোপলের অভিজাত লাইব্রেরির মূল পা-ুলিপিগুলোর অনুলিপি।
দ্য লাইব্রেরি অব এরিস্টটল
‘দ্য লাইব্রেরি অব এরিস্টটল’ হচ্ছে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর দিকে তৈরি হওয়া সাহিত্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এরিস্টটল এখানে ইতিহাসের প্রভাবশালী দার্শনিকদের বিষয়ে জানতেন এবং শিক্ষার্থীদের জানাতেন।
এরিস্টটলের মৃত্যুর প্রায় ৩০০ বছর পর স্ট্র্যাবো ক্রোনিক্যাল নামে এক বিশিষ্ট ভূগোলবিদ তার ‘জিওগ্র্যাফিয়া-১৩, ১, ৫৪-৫৫ তে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি এরিস্টটল এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার বই সংগ্রহের সংখ্যা দেখে মিসরের রাজারা শিখেছেন কীভাবে লাইব্রেরি গোছাতে হয়।’
এরিস্টটলের মৃত্যুর পর, প্রতিষ্ঠানটি থিওফ্রাসটাসকে দান করে দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগেই এরিস্টটল জানতে পেরেছিলেন তার গড়ে তোলা লাইব্রেরিতে নজর রয়েছে আত্তালিদ রাজত্বের। তারা এটি লুট করে পেরাগামামের লাইব্রেরিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিল। যখন এরিস্টটল মারা যান এবং প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকের হাতে চলে যায়, তখনই সিদ্ধান্ত হয় লাইব্রেরির সমস্ত সংগ্রহ লুকিয়ে রাখা হবে এবং মাটির নিচে সুরক্ষিত রাখা হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মহৎ এ প্রচেষ্টার পরও অনেক বই আর্দ্রতার কারণে নষ্ট হয়ে যায় এবং সংগ্রহের বাকি বইগুলো এপেলিকনের টিওসের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
দ্য থিওলজিক্যাল লাইব্রেরি অব ক্যাসারিয়া মারিতিমা
৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আরবদের আক্রমণে যখন এটি ধ্বংস হয়। তার আগে, ফিলিস্তিনে ক্যাসারিয়া মারিতিমার এই ‘আধ্যাত্মিক লাইব্রেরি’তে প্রাচীন খ্রিস্টান এবং জিউস সময়ের গির্জার স্থাপত্য সংক্রান্ত এবং আধ্যাত্মিক তথ্যের এক বিশাল সংগ্রহ ছিল।
খ্রিস্টান শিক্ষা এবং বৃত্তির কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও গ্রিস এবং অন্যান্য অঞ্চলের সাহিত্যেরও এক বিশাল তথ্য ভা-ার ছিল দ্য থিওলজিক্যাল লাইব্রেরি অব ক্যাসারিয়া মারিতিমা।
লাইব্রেরিতে থাকা তথ্যগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবু এর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি তথ্যও জেনে রাখা দরকার। এখানে ভ্রমণ করেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ব্যাসিল দ্য গ্রেট এবং নাজারেথের গ্রেগরি। আর সেজন্য এই লাইব্রেরিটি বহন করে বিশেষ গুরুত্ব।
সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে ৩০ হাজার পা-ুলিপিসহ লাইব্রেরিটি খুঁজে পান পোপ অরিজেন। সম্রাট ডায়োক্লেশিয়ানের কথায় ঐতিহাসিক সেই পা-ুলিপিগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক তথ্য নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ক্যাসারিয়ার বিশপ এটি পুনরায় নির্মাণ করেন। পরে আরবদের আক্রমণে এর প্রতিটি ইট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, লাইব্রেরিটির একটি পা-ুলিপিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি!
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
দক্ষিণ এশিয়ার ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১০৮৮ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয়শ বছর পর ইউরোপের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়’কে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ভাবা হয়। নালন্দার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে পুরো এশিয়ার হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করত এই বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় তলা লাইব্রেরিটি পরিচিত ‘ধর্মগঞ্জ’ অথবা ‘সত্যের ভা-ার’ এবং ‘ধর্মগুঞ্জ’ অথবা ‘সত্যের পর্বত’ নামে। এসব নামে ডাকার কারণ হলো এটি অন্যান্য সাহিত্যের সঙ্গে বৌদ্ধ সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তুর্কি যোদ্ধারা এটি ধ্বংস করে দেওয়ার আগে বৌদ্ধ বিশ্বাস এবং দর্শন বেশি করে ছড়িয়ে দিতে ১১৯৩ সাল নাগাদ নালন্দা অনেক অনুগামী তৈরি করেছিল।
দ্য টুইন লাইব্রেরিস এট ট্রাজানস ফোরাম
রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে জ্ঞান এবং তথ্য নিয়ে বিপুল কাজ করেছিল প্রাচীন রোমানরা। গণিত থেকে শুরু করে দর্শন, সব কিছুই তারা হাতে লিখে রাখত। কথিত আছে, একজন রোমান সম্রাট একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করার চেয়ে দুইটি বিশালাকার লাইব্রেরি তৈরি করতে বেশি ভালোবাসতেন।
১১২ খ্রিস্টাব্দের দিকে, সম্রাট ট্রাজান রোমে একটি বিশালাকার ভবন তৈরি করেন। পুরো ভবনের সীমানার মধ্যে ছিল প্লাজা, মার্কেট এবং মন্দির। বিশাল এই সীমানার মূল কেন্দ্র হচ্ছে রোমান সম্রাটের তৈরি বিখ্যাত লাইব্রেরিগুলো। সম্রাট ট্রাজানের সামরিক বিজয় উদযাপনের জন্য নির্মিত প্রকা- ভাস্কর্য ‘ট্রাজান স্তম্ভের’ বিপরীত দিকে দুটি বিচ্ছিন্ন মহল নির্মিত হয়। অভিজাত মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরের কারুশিল্পখচিত তৈরি এ মহলে প্রায় ২০ হাজার পৃষ্ঠার তথ্য সংগৃহীত ছিল। গ্রন্থাগার দুটি ঠিক কবে নাগাদ অস্তিত্ব হারায় সে সম্পর্কে এখনো বিতর্ক রয়েছে। পঞ্চম খ্রিস্টাব্দে কিছু নথি থেকে প-িতরা ধারণা পান যে, এরা প্রায় তৃতীয় শতক পর্যন্ত টিকে ছিল।
দ্য হাউজ অব উইজডম
প্রাচীন মেসোপটেমিয়া থেকে আজকের ইরাক সবটার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশ্বের এই প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান ‘দ্য হাউজ অব উইজডম’। গ্রিস, মিসর এবং রোমের পাশাপাশি, মেসোপটেমিয়ার বাগদাদ শহরের প্রাণকেন্দ্রে নবম ৯ম খ্রিস্টাব্দে এটি গড়ে তোলা হয়।
আব্বাসীয়দের রাজত্বের সময় প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিতে পারস্য, গ্রিস এবং ভারতের বিভিন্ন সাহিত্যের বিশাল এক সংগ্রহসহ গণিত, দর্শন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং জ্যোতির্বিদ্যার পা-ুলিপিও সংগৃহীত আছে এখানে। বিখ্যাত গণিতবিদ ও বীজগণিতের আবিষ্কারক আল-খারেজমি এবং দার্শনিক আল-কিন্দির মতো মানুষদের লেখা বইগুলোও শোভা পায় এই লাইব্রেরিতে।
‘দ্য হাউজ অব উইজডম’ প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত ইসলামিক বুদ্ধিবৃত্তির উপকেন্দ্র এবং অ্যাকাডেমি ছিল। কিন্তু ১২৫৮ সালে মঙ্গোলীয়রা এটি ছিনিয়ে নেওয়ার পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই এবং পা-ুলিপি ছিঁড়ে টাইগ্রিস নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এখনো কথিত আছে, ছিঁড়ে ফেলা বইয়ের পাতার কালিতে সে সময় পুরো নদীর পানি কালো হয়ে গিয়েছিল!

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ বছর
  • চৌধূরী শব্দ ও প্রথার ইতিবৃত্ত
  • ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ
  • ১৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট স্টেশন ক্লাব
  • একাত্তরের শরণার্থী জীবন
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মণিপুরী সম্প্রদায় ও তাদের সংস্কৃতি
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • মোকাম বাড়ি ও হযরত ইসমাইল শাহ (রহ.)
  • সিলেটে উর্দু চর্চা
  • হবিগঞ্জের লোকসাহিত্যে অধুয়া সুন্দরীর উপখ্যান
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • সিলেটে ফারসি চর্চা
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • আদিত্যপুরের গণহত্যা
  • জালালাবাদের ইতিহাস ঐতিহ্য
  • বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ
  • সিলেটে আরবি ভাষাচর্চা
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় এবং সুফি-সাধকদের কথা
  • Developed by: Sparkle IT