সম্পাদকীয়

বাড়ছে তরুণ বেকারত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৭:১৬ | সংবাদটি ১০১ বার পঠিত

বেকারত্ব বাড়ছে তরুণদের মধ্যে। মাত্র সাত বছরে এই হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। তারা ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ দেশের বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান, নিষ্ক্রিয় তরুণদের হার, আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, কর্মসন্তুষ্টি ইত্যাদির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ সালে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিলো ১২ দশমিক আট শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব দশ দশমিক সাত শতাংশ; যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল পাকিস্তান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন উচ্চশিক্ষা আর কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তরুণেরা যতো বেশি লেখাপড়া করছে, তাদের ততো বেশি বেকার থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত তরুণ সমাজ। এটা আমাদের জন্য মোটেই সুখকর কোন খবর নয়। তরুণ সমাজই একটি দেশের চালিকাশক্তি। তরুণরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ। অথচ এদের বড় অংশই বেকার। উচ্চতর শিক্ষা নিয়েও তারা সেই লেখাপড়া কাজে লাগাতে পারছেনা। ফলে তাদের অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। এ হলো শিক্ষিত তরুণদের কথা। আর এর বাইরে তরুণদের একটা বড় অংশ কোন ধরনের শিক্ষায় যুক্ত নয়, কোন ধরনের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেনা, আবার কোন কাজও খুঁজছেনা। দেশে এই ধরনের তরুণদের সংখ্যা ২৭ শতাংশের ওপরে। আর মেয়েদের মধ্যে এই হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশে বেকার ছিলো ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এর মধ্যে ¯œাতক ডিগ্রিধারী ছিলো ৪০ হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস ছয় লাখ ৬৮ হাজার। দেশে এখন ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি ৩৫ লাখের ওপরে। দেশে সার্বিক বেকারত্ব ছিলো ২০০০ সালে তিন দশমিক তিন শতাংশ। আর ২০১৭ সালে এই হার চার দশমিক চার শতাংশ।
আইএলও’র এই পরিসংখ্যান মানতে রাজী নয় অনেকে। পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে বাংলাদেশে কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা দশ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ছয় কোটি আট লাখ। বাকি চার কোটি ৮২ লাখ কর্মক্ষম হলেও তারা শ্রমশক্তির বাইরে। অনেকের মতে, আইএলও’র বেকারত্বের সংজ্ঞা আর আমাদের বেকারত্বের সংজ্ঞা এক নয়। আইএলও’র মতে, সপ্তাহে এক ঘন্টা কাজ করলেই একজন ব্যক্তি আর বেকারের তালিকায় থাকে না। সব মিলিয়ে আমাদের বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণকে কর্মহীন রেখে সরকারের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT