শিশু মেলা

মণির কান্না

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৮:৩৪ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

বর্ষা মওসুম অঝর ধারায় বারি ঝরছে। দিন রাত একটানা পাঁচ দিন বৃষ্টি, মণি ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আকাশে বিজলী চমকাচ্ছে। গুড়–ম গুড়–ম আকাশে শব্দ সব মিলিয়ে মণি ভয়ে কান্না করে। মণিদের বাড়ি সুরমা নদীর পাড় ঘেষা। উজান থেকে পানি আসা এবং পাহাড়ি ঢলে নদী ভরে উঠেছে। ঐ বুঝি মণিদের ঘর, উঠানে পানি চলে আসবে। মণি ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। টানা বর্ষণে মণি স্কুলে যেতে পারছে না। ঘরে বসে থাকতে হয়। আবার আকাশের গুড়–ম গুড়–ম শব্দ থাকে বিষম ভয় দেখায়। গরু, বাছুর, হাঁস, মুরগী সব প্রাণি ঘর বন্দি তাদেরও কেচর মেচর ভাল লাগে না। মণিদের একটি গাভী ছিল। প্রায় ৪ লিটার দুধ দেয়। দুধ বিক্রি করে মণি ও তার ভাই বোনদের অনেক খরচ তার বাবা চালাতেন। দেখতে দেখতে বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়ে গেল। মণিদের উঠান আস্তে আস্তে তলিয়ে যেতে লাগল। দুই দিন পর তাদের গাভী তার গোয়াল ঘরে রাখার অনুপযোগী হয়ে গেল। কারণ গরু ঘর পানিতে তলিয়ে যেতে লাগল, মণি কান্না করতে লাগল। কি জানি তাদের বসত ঘরেও পানি ঢুকে পড়বে। প্রবল বর্ষণে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি এসে গেল। মণিদের ঘরের বারান্দায় তাদের চুলা ছিল। এখন আর ঐ চুলায় রান্না করতে পারছে না তারা। বড়ই কষ্ট হচ্ছে তাদের এই বন্যার কারণে। মণি মনে করে ঝড়, বৃষ্টি হওয়া খুব ভাল। বৃষ্টির পানিতে প্রকৃতি সতেজ হয়ে উঠে। গাছে গাছে ফুল ফল আসে। বৃষ্টির পানিতে নদী নালা ভরে উঠলে নৌকা চলে বণিকরা নৌপথে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালায়। জলাশয়ে মাছ ধরা যায়। বর্ষার প্রয়োজন আছে। কিন্তু অতি বৃষ্টি বন্যা, পাহাড়ী ঢল মণিকে দারুণ চিন্তায় ফেলে দেয়। তার কষ্ট বেড়ে যায়। তাই সে বাধ্য হয়ে কান্না করে, মণির কান্নার করুণ কারণ হলো একদিন কিছু লোক প্রচার করল মণিদের গাভীকে একটি কুকুর কামড় দিয়েছে তাই তারা ঐ গাভীর দুধ আর কিনবে না। গাভীর মুখের পাশ দিয়ে তারা রক্ত পড়তে দেখেছে। এই রক্ত পড়া দেখে তারা প্রচার করেছে গাভীটিকে কোন কুকুর কামড় দিয়েছে। একটা কথা প্রচলি আছে কুকুর যাকে কামড় দিবে তার শরীরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে তাই সেও মারা যায়। গাভীর দুধে জীবাণু ছড়াতে পারে সে ভয়ে সবাই মণিদের গাভীর দুধ নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মণির বাবা মুকন মিয়া প্রতিদিন দুধ দোহন করে তার কাজে চলে যায়। মুকন যখন যা পান সে কাজ করেন। বৃষ্টি, বন্যার কারণে এখন ঠিক মত কাজও জুটে না। দুধ বিক্রি তাদের টাকা রোজির উপায়। আজ বেলা ১২টা হয়ে গেল কেউই দুধ নিতে আসছে না। বিলম্ব দেখে মণি পাড়ার কিছু বাড়িতে যোগাযোগ করলে তারা সবাই বলে না আমরা তোমাদের গাভীর দুধ আর নেব না। তোমাদের গাভীকে কুকুর কামড় দিয়েছে। দুধ নেবে না শুনে মণি বিষম চিন্তায় পড়ে গেল। সে বাড়ি ফেরার পথে কান্না শুরু করল। একেতো বন্যার জ্বালা, তার পর বাবার কাজ নাই এখন দুধ বিক্রি হচ্ছে না। ছোট মেয়ে মণি জোরে জোরে কান্না করছে। বাড়ি এসে মণি সব ঘটনা তার মাকে বলল। সবাই শুনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল গাভীটিকে কিভাবে ভাল করা যায়। যারা বলেছে গাভীটিকে কুকুর কামড় দিয়েছে তারা কেবল অন্যের নিকট থেকে এ কথা শুনেছে কিন্তু দেখে নাই। এভাবে বলাবলিতেই একথা প্রচার হয়েছে। কিছু লোক পরামর্শ দিল গরুর ডাক্তার দেখানোর জন্য। মণির খালার থেকে এক হাজার টাকা ধার এনে ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার এসে সব দেখে বললেন আপনাদের গাভীটি সুস্থ আছে। গাভীর দুধ খেতে কোন ভয় নেই। গাভীর নাকের সামনে জোঁক বসে রক্ত চুষে ছিল। তাই গাভীর রক্ত ঝরেছে। এবার মণি শান্ত হলো এবং অপপ্রচারকারীদের ঘৃণা করল।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT