সম্পাদকীয়

কৃষিজমি সুরক্ষার উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৭:২৮ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত


কৃষিজমি সুরক্ষায় সরকার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কথা শোনা গেলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্প্রতি সরকারী কাজে ভূমি অধিগ্রহণে কৃষিজমি বিশেষ করে দুই ও তিন ফসলি জমি, নদী, খাল, বিল, জলাশয়, পুকুর পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এই নির্দেশনায় ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত এবং উঁচু ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এই আদেশটি সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে দেশের আইনের বিধান অনুযায়ী জনসাধারণের কল্যাণের লক্ষে উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক বেসরকারী জমি অধিগ্রহণ করতে পারে সরকার। এই সংক্রান্ত অত্যন্ত পুরনো আইন রয়েছে। যার ভিত্তিতে সরকারী কাজে যেকোন ধরণের জমি অধিগ্রহণ করা যেতো।
দেশে কৃষিজমি কমছে। খবরটি অত্যন্ত পুরনো। নানা কারণে সংকোচিত হচ্ছে কৃষিজমি। মূলত আবাসন নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে কমছে কৃষিজমি। বর্তমানে অতীতের তুলনায় পাঁচগুন হারে কমছে ফসলি জমি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা পড়বে চরম হুমকির মুখে। সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য হচ্ছে-গত এক দশকে প্রতিবছর দেশে ফসলি জমির পরিমাণ ৬৮ দশমিক ৭০০ হেক্টর করে কমছে; যা মোট ফসলি জমির শূন্য দশমিক ৭৩৮ শতাংশ। অথচ এর আগের তিন দশকে বছরে ফসলি জমি কমেছে মাত্র ১৩ হাজার চারশ’ ১২ হেক্টর। বর্তমানে প্রতি বছর আবাসন খাতে ৩০ হাজার আটশ’ নয় হেক্টর, নগর ও শিল্পাঞ্চলে চার হাজার ১২ হেক্টর এবং মাছ চাষে তিন হাজার দু’শ ১৬ হেক্টর জমি যুক্ত হচ্ছে। কৃষিজমির এই বেপরোয়া ধ্বংস প্রক্রিয়া বন্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৪ সালে। কিন্তু সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে অতি সম্প্রতি সরকারী নির্মাণ কাজে কৃষিজমি ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ডিসিদের দেয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবে কৃষিজমি বিশেষ করে দুই ও তিন ফসলি জমি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
কৃষিজমি সংকোচিত হওয়ার মতো একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকার তেমন একটা সজাগ নয়। দীর্ঘ দিন ধরে এব্যাপারে এদেশের সচেতন মহল বলাবলি করায় পর সরকার কৃষিজমি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তারও পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তা কার্যকরের কোন লক্ষণ নেই।
অভিযোগ ওঠেছে, বেসরকারী পর্যায়ের আবাসন ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এই আইনটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি, বিল, ডোবা, জলাশয় ভরাট করেই গড়ে উঠছে আবাসিক এলাকাগুলো। তাই শুধু সরকারী নির্মাণ কাজে কৃষিজমি, জলাশয়, ডোবা অধিগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়ে যেখানে সেখানে আবাসন প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT