ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন সূরা : বাক্বারাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৮-২০১৯ ইং ০০:০৮:১১ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
তৃতীয়ত : মসজিদ জনশূন্য করার জন্য সম্ভবপর যতো পন্থা হতে পারে সবই হারাম। খোলাখুলিভাবে মসজিদকে বিধ্বস্ত করা ও জনশূন্য করা যেমনি এর অন্তর্ভুক্ত তেমনিভাবে এমন কারণ সৃষ্টি করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মসজিদ জনশূন্য হয়ে পড়ে। মসজিদ জনশূন্য হওয়ার অর্থ এই যে, সেখানে নামায পড়ার জন্যে কেউ আসে না কিংবা নামাজীর সংখ্যা হ্রাস পায়।
মোটকথা, ‘ওয়ালিল্লাহিল মাশরিকু ওয়ালমাঘরিব’ আয়াতটিতে কেবলামুখী হওয়ার পূর্ণ স্বরূপ বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে যে, এ উদ্দেশ্য (নাউযুবিল্লাহ) বায়তুল্লাহ অথবা বায়তুল মোকাদ্দাসের পূজা করা নয়, কিংবা এ’দুটি স্থানের সাথে আল্লাহর পবিত্র সত্তাকে সীমিত করে নেয়াও নয়। তাঁর সত্ত্বা সমগ্র বিশ্বকে বেষ্টন করে রেখেছে এবং সর্বত্রই তাঁর মনোযোগ সমান। এরপরও বিভিন্ন তাৎপর্যের কারণে বিশেষ স্থান অথবা দিককে কেবলা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
আয়াতের এই বিষয়বস্তুকে সুস্পষ্ট ও অন্তরে বদ্ধমূল করার উদ্দেশেই সম্ভবত হুযুরে আকরাম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামকে হিজরতের প্রথম দিকে ষোল-সতের মাস পর্যন্ত বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায পড়ার আদেশ দেয়া হয়। এভাবে কার্যতঃ বলে দেয়া হয় যে, আমার মনোযোগ সর্বত্র রয়েছে। নফল নামাযসমূহের এক পর্যায়ে এই নির্দেশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। সফরে কোনো ব্যক্তি উট, ঘোড়া ইত্যাদি যানবাহনে সওয়ার হয়ে পথ চললে তাকে তদবস্থায় ইশারায় নফল নামায পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তার জন্য যানবাহন যেদিকে চলে সেদিকে মুখ করাই যথেষ্ট।
কোন কোন মুফাসসির আয়াতকে ‘ফাআইনামা তুওয়াল্লু ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ’ আয়াতকে এই নফল নামাযেরই বিধান বলে সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু স্মরণ রাখা দরকার যে, এই বিধান যে সমস্ত যানবাহনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যাতে সওয়ার হয়ে চলার সময় কেবলার দিকে মুখ করা কঠিন। পক্ষান্তরে যেসব যানবাহনে সাওয়ার হলে কেবলার দিকে মুখ করা কঠিন নয়, যেমন রেলগাড়ি, সামুদ্রিক জাহাজ, উড়োজাহাজ ইত্যাদিতে নফল নামাযেও কেবলার দিকেই মুখ করতে হবে। তবে নামাযরত অবস্থায় রেলগাড়ি অথবা জাহাজের দিক পরিবর্তন হয়ে গেলে এবং আরোহীর পক্ষে কেবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অবকাশ না থাকলে তদবস্থায়ই নামায পূর্ণ করবে।
এমনিভাবে কেবলার দিক সম্পর্কে নামাজীর জানা না থাকলে, রাত্রির অন্ধকারে দিক নির্ণয় করা কঠিন হলে এবং বলে দেয়ার লোক না থাকলে সেখানেও নামাজী অনুমান করে যেদিকেই মুখ করবে, সেদিকই তার কেবলা বলে গণ্য হবে। নামায আদায় করার পর যদি দিকটি ভ্রান্তও প্রমাণিত হয়, তবুও তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবেÑপুনঃর্বার পড়তে হবে না।
জ্ঞাতব্য : (১) বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ ফেরেশতা নিযুক্ত করা। যেমনÑবৃষ্টিবর্ষণ ও রিজিক পৌঁছানো ইত্যাদি কোন না কোন রহস্যের উপর নির্ভলশীল। বিভিন্ন উপকরণ ও শক্তিকে কাজে লাগানোও তেমনি। এর কোনটিই এজন্যে নয় যে, মানুষ এগুলোকে ক্ষমতাশালী স্বীকার করে তাদের কাছে সাহায্য চাইবে।
জ্ঞাতব্য : ইহুদী ও খ্রিস্টানরা ছিলো আসমানী কিতাবের অধিকারী। তাদের মধ্যে শিক্ষিত লোকও ছিলো। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তা’আলা তাদের মূর্খ বলে অভিহিত করেছেন। এর কারণ এই যে, প্রচুর অকাট্য ও শক্তিশালী নিদর্শন প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও সেগুলো অস্বীকার মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ কারণেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মূর্খ বলে অভিহিত করেছেন।
[চলবে]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT