সম্পাদকীয়

পরিবহনে নৈরাজ্য আর কতো?

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩২:৫৫ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত

‘সরকারী রাস্তায় সরকারী যানবাহন চলতে পারবেনা’ এমনই একটি ধৃষ্টতাপূর্ণ, উদ্ভট, বিস্ময়কর দাবিতে সিলেটের পরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে নৈরাজ্য। মূলত মাস ছয়েক ধরে শুরু হয়েছে এই বিশৃঙ্খলা। পরিবহন মালিক শ্রমিকেরা কিছুদিন পর পরই ডাকছে পরিবহন ধর্মঘট। আর এই ধর্মঘটের নামে রাস্তায় সংঘটিত হচ্ছে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিটা এরকম, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কটি সরকারের তৈরি, আর সেই সড়কেই সরকার নিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল করতে পারবে না। এই দাবিতে ইতোপূর্বেও পালিত হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। আগামী সোমবার থেকে আবার ডাকা হয়েছে ধর্মঘট। শুধু বিআরটিসি বাস নয়, ধর্মঘটের পেছনে আরও কিছু কারণও উল্লেখ করছে মালিক-শ্রমিক। এর মধ্যে রয়েছে বিআরটিসির লিজপ্রথা বাতিল, বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ধারা পরিবর্তন, সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন আইন ‘২০১৭’-এর ধারা বাতিল এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করা।
যাত্রীদের সুবিধার্থে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চলতি বছর জুন মাসের শুরুতে চালু হয় বিআরটিসি বাস সার্ভিস। এর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। কিন্তু বাস সার্ভিস চালুর সাথে সাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তাদের বক্তব্য হলো ‘কোন জেলায় কোন বাস চালু করতে হলে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। অথচ সিলেট ও সুনামগঞ্জে চারটি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ থাকার পরও কেউ আমাদের সাথে কোন কথা বলেনি।’ মূলত এভাবেই শুরু হয়েছে ধর্মঘটের সূত্রপাত। বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে দফায় দফায় ধর্মঘট হয় আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এক সময় তা স্থগিত হয়। অথচ এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু রাখার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, সরকার নির্মিত সড়কে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল করতে হলে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অনুমতি নিতে হবে। আর এই বেআইনী দাবি আদায়ে তারা সড়কে বারবার নৈরাজ্যের সৃষ্টি করছে। অপরদিকে, ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণের বক্তব্য হলো, সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের তুলনায় বিআরটিসি বাসে যাত্রী সেবার মান উন্নত, তাই অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি বিআরটিসি বাসও চালু থাকতে হবে।
সবকিছু মিলিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা দাবি দিয়েছে সরকারের কাছে, প্রশাসনের কাছে, এখানে তো যাত্রী সাধারণের কোন দায় নেই, যাত্রীরা তো পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়, তবে ধর্মঘট করে এই নিরীহ যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি করে লাভ কী? এতে তো যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বিআরটিসি বাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে না। এইসব বিষয় মাথায় নিয়ে সরকারকে যেতে হবে কঠোর অবস্থানে। সড়কপথ কোন একটি নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কেনা নয়; এতে সবাই যাতে নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। এ ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন আইন ২০১৭ কার্যকর করার মাধ্যমে সড়কপথের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তৎপর হওয়া জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT