পাঁচ মিশালী

বসনিয়া হাটীর বিলে একরাত

প্রণব গোস্বামী প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৩:৩৩ | সংবাদটি ২০৪ বার পঠিত

আমার বয়স তখন ১০-১১ বছর। ঘটনাটি সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ের। প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র মাধ্যমিক স্কুলে পা রেখেছি। আমাদের একটি ধানের জমি রয়েছে বসনিয়া হাটীর বিলে। বাড়ি থেকে জমিটির দূরত্ব প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার। একটি ¯্রােতস্বিনী ছোট্ট নদী পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। নদীটি পার হওয়ার জন্য একখানা কাঠের নির্মিত পুরোনো নড়বড়ে সাঁকো ছিল। তবে নদীতে পানি কম থাকায় তৎকালে মানুষজন নদীর যে কোন সুবিধা মত জায়গা দিয়েই শীত কালে কাপড় কেছে এটি পার হত। অমাবস্যা বা পূর্র্ণিমাতে জোয়ার এলে পানি বাড়ত এবং তখন কাপড় কেছে নদী পার হতে গেলে প্রায়শঃই কাপড় ভিজে যেত। এভাবে নদী পার হতে যেয়ে কতবার যে আমার হাফ প্যান্ট পানিতে ভিজে ছিল তার হিসেব ছিলনা। ঘটনার দিন আমাদের ধানী জমিতে পাওয়ার পাম্পের (তৎকালে এটিকে দমকল বলা হতো) সাহায্যে পানি দেয়ার শিডিউল দেয়া হয় রাত ৯টায়। জমির মালিকগণ ধানের ফলন বৃদ্ধিকল্পে পানি সেচের জন্য একটি মাত্র সেচ পাম্পের পিছনে লাইন দিয়ে ছিলেন। কারণ ধান গাছে তখন থোর দেখা যাচ্ছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই থোর থেকে কাঙ্খিত ধানের ছড়া বেরিয়ে আসবে। তাই জমিতে পানি অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি অনুজ ছোট ভাইকে নিয়ে রাতেই পানি দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।
ফাল্গুনের শুরুতে প্রকৃতিতে সবেমাত্র বসন্তের দোলা লেগেছে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজিয়ে প্রকৃতিতে যেন প্রাণ সঞ্চারিত হতে শুরু করেছে। রঙিন পলাশ ও শিমুল প্রস্ফুটিত হয়ে জানান দিচ্ছিল এটি বাঙালীর রক্তঝরা ভাষা সংগ্রামের মাস দিন কয়েক পরেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারী। শৈশবের সেই খালি পায়ে প্রভাতফেরী ও ভাই বোনে মিলে অন্য সহপাঠীদের সহ ২ মাইল দূরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পনের সেই পবিত্র আমেজ ও তার দীপ্ত শপথের স্মৃতি আজও হৃদয়কে আন্দোলিত করে।
যথারীতি দুই ভাই মায়ের দেয়া টিফিন খেয়ে নিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে বসনিয়া হাটী বিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সাথে পানি সেচের জন্য কোদাল, কাঁচি, গামছা, হ্যারিকেন ও টর্চলাইট নিলাম। আশে পাশের প্রতিবেশীরাও আমাদের সাজ দেখেই বুঝে নিয়েছিল আমাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে। কেউ আবার খানিকটা উপদেশ দিতেও ভুলেন নি। যেমন-রাতের বেলা সাপ পোকা মাকর দেখে কাজ করিস, ভূতের ভয় যেন পাসনা ইত্যাদি। যাক কিছুদূর হেঁটেই ঠিক মজিদপুর বরাবর এসে ¯্রােতস্বিনী মৃত প্রায় ইছামতী নদীটি কাপড় কেছে পার হলাম। পাশেই দেখলাম আমাদের কাঙ্খিত সেচ পাম্পটি (দমকল) অনবরত নদীর পানি পাম্প করে মাটির ড্রেনে ফেলছে। আমরা দু’ভাই ড্র্রেনের পানিতে পায়ের কাঁদা ধোয়ে নিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁটতে হাঁটতে আমরা মির্জাকান্দা পেরিয়ে বসনিয়া হাটী বিলে এসে পরলাম। সবে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে সারা প্রকৃতি জুড়ে। মাগরিবের আযান শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ পূর্বে এখনও মির্জাকান্দার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ী হতে শাঁখ, কাসর ও ঘন্টার আওয়াজ কানে ভেসে আসছে। আমরা যতই বিলের পথে এগোচ্ছি-লোকালয়ের শব্দও ততই ম্লান হয়ে আসছে। এক পর্যায়ে টর্চের আলোতে বিলের ভিতরে আঁকা বাঁকা সেচের নালা (ড্রেন) পেরিয়ে আমাদের ধানের জমিটিতে পৌঁছলাম। বিলে সেচ তদারককারী নবকুমার কাকুর দেখা মিলল কিছুক্ষণের মধ্যেই। তিনি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর আমাদের জমিতে পানি নিতে বললেন। তার পরামর্শ মোতাবেক যথা সময়ে হর্ষণাথ কাকুর জমির পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের জমিতে পানি প্রবাহ চালু করার ব্যবস্থা নিলাম। এক্ষেত্রে দুই ভাই কোদাল ও কাচি ব্যবহার করে জমির আইল (বাতর) কেটে মূল ড্রেনের সাথে সংযোগ করলাম। অনায়াসেই পানির ¯্রােত আমাদের শুকনো জমিতে প্রবেশ করতে লাগল। সে মুহূর্তে দু’ভাইয়ের আনন্দ আর ধরে না। পানি পেয়ে ধান গাছ গুলো সজীব হয়ে উঠবে, ধীরে ধীরে ধানের থোর আসবে,ছড়া বেরুবে এগুলো ভেবে ভেবে সময় যেন দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে। ঘন্টা খানেক পর নবকুমার কাকু আবার এলেন খোঁজ নিতে। তখন মাত্র জমিটি পানিতে ভিজতে শুরু করেছে। জমি শুকিয়ে ফেটে যাওয়ায় পানি বেশি লাগছিল। রাত্রি বেশি হওয়াতে ছোট ভাইকে নবকুমার কাকুর সাথে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। পরের দিন ওকে স্কুলে যেতে হবে-অতিরিক্ত পরিশ্রম ওর সইবে না।
ক্রমশ রাত্র বেশি হতে চলল। কৃষ্ণ পক্ষের রাত তাই সারা প্রকৃতিতে গোমোট অন্ধকার ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অনেক দূরের কোন জমিতে আমার মতো অন্য কেউ হারিকেনের টিপ টিপ আলো জ¦ালিয়ে হয়ত একই কাজ করছিল। এছাড়া দু’একটি আলোর দানা হঠাৎ জ¦লে উঠে নিমিষেই মিলিয়ে যাচ্ছিল। এটা যেন অন্ধকারের ভয়াবহতাকে আরেকটু বেশি করে জানান দিচ্ছিল। রাত যখন সাড়ে দশটা তখন আমাদের জমিখানা প্রায় পানিতে ভরে উঠল। জমির উপর দিয়ে হেঁটে দেখলাম পানি প্রায় গোঁড়ালীর উপরে। জমির কাটা আইল মাটি দিয়ে শক্তভাবে বাঁধ দিলাম যাতে জমির পানি আর বেরিয়ে আসতে না পারে। পানি সেচের কাজ সমাপ্ত করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সে যুগে মোবাইল ফোন ছিল না। বাবা মার সাথে তাই যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বসনিয়া হাটীর বিলের মাঝখানে দু’টি তাল গাছ ছিল একটি পুকুর পাড়ে। দিনের বেলাতে রোদে কাজ করা ক্লান্ত কৃষকেরা সেখানে বিশ্রাম নিতেন। আমার বাড়ী ফেরার রাস্তাটিও ছিল ওখান দিয়েই। আমি যতই তাল গাছ দু’টির দিকে এগুচ্ছি ততই মনে কেমন যেন এক অজানা ভূতড়ে ভয় জেগে উঠছে। তৎক্ষণাত মনে পড়ে যায় চিত্তকাকুর বসনিয়া হাটীর বিলের ভূতের গল্পটি। বর্ণিত তালগাছ দু’টিতে গভীর রাতে নাকি এক বিরাট কায়ার আজট চলে আসে। ইতিপূর্বে অনেকেই দেখেছে উক্ত আজট (ভূত) এক পা তাল গাছে রাখে এবং অন্য পা ২০ কিমি দূরবর্তী পদ্মা নদীতে ফেলে জলহস্তীর মতো পানি পান করে। উক্ত দৃশ্য দেখে অনেকেই নাকি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। মুহূর্তেই আমার শরীর ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। শরীরের সবগুলি লোম কেমন খাড়া হয়ে উঠলো। প্রচন্ড ভয় নিয়েই আমি ধীরে ধীরে রাস্তা ধরে এগুতে থাকলাম। এক পর্যায়ে হঠাৎ দমকা বাতাস এসে আমার হাতে থাকা হ্যারিকেনটি নিভিয়ে দিল। চারদিকে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার, মনটাকে খানিকটা শক্ত করে আঁধারের রূপ উপভোগ করার চেষ্টা করলাম। আঁধার অবশ্যই নিকষ কালো। মানুষ যখন মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পরে তখন দিনের আলোতেও সে ঘোর অন্ধকার দেখে থাকে। আঁধার মৃত্যুর বার্তাই বহন করে। না আমার বেলায় তা ঘটেনি। মারাত্মক ভয় পেলেও চেতনা হারাইনি। নিজের অজান্তেই কখন যেন ¯্রষ্টার নাম জপতে শুরু করলাম। মনের মধ্যে সাহসের সঞ্চার হলো। মাঝে মাঝে দু’একটি আলোর দানা অদূরে হঠাৎ জ¦লে উঠে মিলিয়ে যাচ্ছিল। দূরের গ্রাম গুলোতে তখনও মিট মিট করে আলো জ¦লতে দেখা যাচ্ছিল। এ যেন সর্বগ্রাসী আঁধারের এক ধরণের সীমা বদ্ধতা। মুহূর্তেই নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থা ফিরে পেলাম। পকেটে থাকা টর্চ লাইটটির কথা মনে পড়ে গেল। এবার টর্চের আলোতে পথ চলাটাও অনেকটা সহজ হলো।
এতক্ষণে রাত্রি গভীর হয়ে উঠেছে, বিলে থাকা লোকজন একে একে সবাই বোধহয় চলে গেছে। কারও কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিলনা, একথা ভেবেই ভয়টা যেন আবার বেড়ে উঠতে লাগল। বিলের মাঝখানে সামনেই বর্ণিত দু’টি পুকুর এবং পুকুরের উঁচু পাড়েই চিত্তকাকুর গল্পের উঁচু তাল গাছ দুটি। এ পথেই আমাকে বাড়ী যেতে হবে। ভয়ে গা ছম ছম করছিল। তালগাছ ২টির নিশানা থেকে কেমন যেন একটা শোঁ শোঁ শব্দ কানে ভেসে আসছিল, যতই সামনে যাচ্ছিলাম শব্দও তত বাড়ছিল। কখনও কখনও শোঁ শোঁ কখনও বা পত পত শব্দ অনবরত কানে বাজছিল। কান দু’টোও কেমন গরম হয়ে উঠল। সাধারণত ভয় পেলে মানুষের গা ছম ছম করে লোম দাঁড়িয়ে উঠে এবং কান গরম হয়। সব গুলো লক্ষণই আমার শরীরে স্পষ্ট হলো। মনকে প্রশ্ন করলাম আজট নামক বিশাল ভূতটি কি তখন সত্যি তাল গাছ দু’টিতে অবস্থান করছিল? নাকি সবই আমার মনের ভয়। বাবা প্রায়ই বলতেন এ পৃথিবীতে ভূত বলতে কিছু নেই। পরিস্থিতি এলে সাহসের সাথে এর পরীক্ষা করে দেখবি। ¯্রষ্টাকে ডাকবি সব ভয় মিলিয়ে যাবে। কথামতো আমিও ¯্রষ্টার নাম জপতে শুরু করলাম। তখন হঠাৎ করে ভূত পরীক্ষার কেমন এক অদ্ভুত আকাঙ্খা জেগে উঠল। হাতের কোদাল/কাঁচি আর ঈশ^রের নাম সম্বল করে ভূত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলাম। ভয়ের ব্যরোমিটারের পারদ কেমন যেন উঠানামা করতে লাগল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে-পালানোর সুযোগও নেই। পালালে হয় ভূতের হাতে মৃত্যু (যদি ভূত থাকে) নয়ত ভয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু। অতএব যুদ্ধ-স্থির করলাম মরতে হয় ভূতের সঙ্গে লড়েই মরব। মনে সাহস সঞ্চারিত হল। ড্রেনের রাস্তা ধরে প্রায় তালগাছ ও পুকুর পারে পৌঁছলাম। বিশালাকায় আজটের (ভূতের) সঙ্গে অসম যুদ্ধের জন্য আমার হাতের কোদাল ও কাঁচি প্রস্তুত। এখনও পূর্ববৎ শোঁ শোঁ অথবা কখনো পত পত শব্দ হচ্ছে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে উপর-নীচ এবং চার পাশ দেখার চেষ্টা করলাম। অল্প দূরেই মনে হলো কালো এক বিশাল ভূত বা দৈত্য মুহূর্তেই ছোট হচ্ছে বড় হচ্ছে এবং নড়াচড়া করছে। নিশ্চয়ই এটাই কাঙ্খিত প্রতিপক্ষ ভূত, আজট, দৈত্য যে নামেই ডাকি না কেন। আর দেরী নয়। ¯্রষ্টার নাম জপতে জপতে দৌড়ে যেয়ে কোদাল দিয়ে প্রচন্ড আঘাত করলাম। মুহূর্তেই কাপড় সুলভ একটি বস্তু ছিড়ে যেয়ে যেন লোহার মধ্যে কোদালের আঘাত পড়ল এবং ঠন করে আওয়াজ হলে। আর আমাকেও কেউ আক্রমণ করলো না। এবার আমার বোধশক্তি জাগ্রত হলো। নিশ্চয়ই এটি ভূত নয়। এবার পকেটে থাকা টর্চ লাইটের কথা হঠাৎ মনে হলো এবং উহা প্রজ¦লিত করলাম। দেখা গেল একখানা শ্যালো পাম্প রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ত্রিপাল দিয়ে ঢাকা। জরুরী প্রয়োজনে পুকুর থেকে পানি সেঁচের জন্য এটি ব্যবহার হয়। ত্রিপাল খানার বাঁধন আলগা হওয়াতে বাতাসে বেশ দুলছিল। তাই এটা কালো ভূতের ন্যায় উঠা নামা করছিল বলে আমার দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। আর মনের ভয়েই এমনটি হচ্ছিল। তালগাছ বা পুকুরের চার পাশে ভূত বা আজটের চিহ্ন মাত্র নেই। টর্চের আলোতে সব জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখলাম-মনের বিন্দু মাত্র ভয় মুছে ফেলার জন্য। আর শোঁ শোঁ বা পত পত শব্দ উৎপন্ন হচ্ছিল-বাতাসে তালপাতার দোলাতে। বুকের ছাতি যেন দ্বিগুণ বড় হলো। চিত্তকাকুর ভূতের গল্পটি আষাঢ়ের গল্পে পরিণত হলো। বাবার সাহসী বক্তব্যই সত্যি প্রমাণিত হলো। পৃথিবীতে ভূত পেতনী বলতে কিছু নেই। প্রবাদটিও সত্য যে, “বনের বাঘে খায় না মনের বাঘেই খায়”। ধীরে সুস্থে শান্ত মনে সেদিন হেঁটে হেঁটে বিল থেকে বেশী রাতেই বাড়ী ফিরলাম। বাবা মা দুজনেই আমার জন্য জেগে আছেন আর চিন্তা করছেন। সে যুগে মোবাইল ফোন ছিলনা বিধায় ফোন করতে পারেন নি। আমি ভূত জয়ের গল্পটি বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলাম। মা বললেন না, আগে তুই হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নে তার পর গল্প শুনব। মা পিঠে ¯েœহের পরশ বুলিয়ে দিলেন।
মায়ের নির্দেশ মত হাত পা ধুয়ে রাতে খাবার খেলাম। রশিয়ে রশিয়ে ভূত জয়ের গল্পটি বলে ফেল্লাম, মা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন-কেন এমন সাহস দেখাতে গেলি? সত্যি যদি তোর কিছু হয়ে যেত। তাহলে আমিও বাঁচতাম না। বাবা মাকে অভয় দিয়ে বললেন-ও আমার ছেলে, আমি জানতাম ও আজ ভূত নামক ভয়টি জয় করেই ফিরবে।
পরদিন বাস্তব গল্পটি ভাইবোন ও সহপাঠীদের সবাইকে শোনালাম। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে আর সাহসী হয়ে উঠছে। যে কোন বিপদে মনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মোকাবেলা করতে পারলে জয় অনিবার্য। না চিত্তকাকুর ভূতের আষাঢ়ে গল্প নয়-আমার এ বাস্তব অভিজ্ঞতাটি যদি শিশু কিশোর মন থেকে মিছে ভূতের ভয় কিছুটা হলেও দূর করতে পারে, তা হলেই লেখাটির সার্থকতা খুঁজে পাব।
লেখক : প্রকৌশলী

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT