পাঁচ মিশালী

ইতিহাস বিষয়ক একটি গ্রন্থের কথা

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৮-২০১৯ ইং ০০:৩৪:৩৩ | সংবাদটি ২১৮ বার পঠিত

নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী গবেষক না হয়েও ‘সিপাহসালার সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রা.) ও পরবর্তী বংশধর গ্রন্থটি লিখে গবেষকের মর্যাদা লাভ করেছেন। এটা বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম সংস্করণ বের হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। লেখক তার গবেষণায় যে সফল হয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বইয়ের ভূমিকা লেখক সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব মোস্তফা জামান আব্বাসীর ভূমিকা থেকে। তিনি লিখেছেন, ‘সিপাহসালার সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রহ.) সম্বন্ধে আমরা সবাই জানি। কিন্তু তার বংশধর যারা সিলেটে এখনও আছেন, তাদের সম্পর্কে কতটুকু অবহিত। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তারা এখনো বর্তমান এবং এই বইটি পড়লে তার বর্তমান বংশধর সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত হতে পারবো এবং এই পরিচিতি হয়ত আদম (আ:) থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসেইন (রা.) পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা সব মুসলমানদের জন্য জানা অবশ্য কর্তব্য। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. আব্দুল মোছব্বির তার ভূমিকা/দুয়া পর্যায়ে মন্তব্য করেছেন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ‘মহান ওলি সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রা.) এর পরবর্তী বংশধরদের মাঠ পর্যায়ে চিহ্নিতকরণ ও তাদেরকে সম্মান দেখানোরও যথাসাধ্য প্রমাণিক চেষ্টা চালিয়েছেন। সত্যিই লেখক অনেক বক্তব্য, উদ্ধৃতি ও তথ্য তুলে ধরে তার যা বলার তা সুন্দরভাবে বলেছেন।
‘লেখকের কথা’ অংশে জানা যায় লেখক নাসির উদ্দিন চৌধুরী’র মাতামহ বা নানা খাকদিওর নিবাসী মরহুম সৈয়দ শাহ মহররম আলী সিপাহসালার হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রা.)-এর অধঃস্তন পনেরতম পুরুষ। তার মাতামহ সম্ভ্রান্ত মজুমদার পরিবারের মরহুম আব্দুর রহীম মজুমদার। পীর মহল্লা সৈয়দ বাড়ি নিবাসী মরহুম সৈয়দ আনোয়ার আলী তার মামা। হযরত শাহজালাল (রা.) এর দরগাহ’র মোতাওয়াল্লী মরহুম সরকওম এ.জেড. আব্দুল্লাহ ও মুফতি আবু মোজাফফর জালাল উদ্দিন লেখকের খালাতো ভাই।
লেখক নাসির উদ্দিন চৌধুরী তাদের বংশধরদের সম্পর্কে তথ্যবিকৃতির প্রতিবাদে এবং যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমাণসহ মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরতে কলম ধরেছেন। তার যত আক্রোশ দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও তার রচিত হযরত শাহজালাল (রা.) গ্রন্থ বিষয়ে। কারণ তিনি সিপাহসালার হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রা.) এর পরবর্তী বংশধর পীরমহল্লার সৈয়দ পরিবার ও অন্যান্য বসবাসকারী সৈয়দ বংশীয়গণের দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
নাসির উদ্দিন চৌধুরী তার একমাত্র গ্রন্থ ‘সিপাহসালার সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রা.) ও পরবর্তী বংশধর’ লিখতে গিয়ে বেজায় পরিশ্রম করেছেন, সীমাহীন শ্রম দিয়েছেন। তিনি সঠিক তথ্য, সঠিক ব্যক্তির নাম, পরস্পর সম্পর্ক প্রভৃতি উদঘাটনে অনেক রেফারেন্স, অনেকের মন্তব্য, অনেকের বক্তব্য তালাশ করে বিভিন্ন বিষয়ের বিভ্রান্তি দূরে সঠিক তথ্য বের করে এনেছেন। অনুরূপভাবে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করে বড় সৈয়দেরগাঁও সৈয়দ পরিবারে রক্ষিত উর্দু ভাষায় রচিত নছবনামা বাংলা অনুবাদসহ প্রকাশ করেছেন। এই নছবনামায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ইমাম হাসান (রা.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ প্রজন্ম সৈয়দ আব্দুল আজিজ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বংশধরগণের নছবনামা সহ আরো অনেকের নছবনামা রয়েছে। সেই সঙ্গে সিলেট শহর ও শহরতলির সৈয়দানীবাগ, তের রতন, বারুতখানা, চৌকিদেখি, বড় সৈয়দেরগাঁও প্রভৃতি এলাকার সৈয়দ পরিবারের বংশ তালিকাও রয়েছে।
নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী তার ১৬০ পৃষ্ঠার গ্রন্থের পরিশিষ্টে যে নছবনামা পাঠকদের উপহার দিয়েছেন তা ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের জন্য একটা বড় খেদমত স্বরূপ। তিনি হযরত আল্লামা ইমাম উদ্দিন ইবনে কাছীর (র.) রচিত গ্রন্থ কাসাসুল আম্বিয়া থেকে ঐতিহাসিক এই নছবনামা উদ্ধৃত করেছেন। আমাদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা:) এর পূর্বপুরুষদের নছবনামায় মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আবুল বাশার) (আ:) থেকে শুরু করে হযরত সালেহ (আ:), হযরত ইয়াকুব (ইসরাইল) (আ:), হযরত ইউসুফ (আ:), হযরত মুসা (আ:), হযরত দাউদ (আ:), হযরত সোলায়মান (আ:) এবং (পরবর্তী ১৮তম বংশধর) হযরত ঈসা (আ:) শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:), হযরত ইমান হাসান (রা:) ও হযরত ইমাম হোসেইন (রা:) পর্যন্ত বিস্তৃত।
সর্বশেষ বইটিতে আটটি মূল্যবান ঐতিহাসিক ছবি সংযুক্ত হওয়ায় এর মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে।
ইতিহাস বিষয়ে লিখিত এই গ্রন্থটি তথ্যপূর্ণ উল্লেখযোগ্য একটি প্রকাশনা। ইতিহাসের অনেক অজানা ঘটনা অনুসন্ধ্যিসু পাঠকদের আকর্ষণ করবে। যারা ইতিহাস নিয়ে, বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের খুব কাজে লাগবে বইটি।
বইটি প্রেজেন্ট করে লেখক অনুরোধ করেছিলেন দু’টি লাইন লিখার। আমি কয়েকটি লাইন লিখে দিলাম। আর অনুরোধ করবো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বইখানি লাইব্রেরিতে রাখার জন্য।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT