সম্পাদকীয় যা নিজের বিষয় নয় তাতে লক্ষ না করা প্রকৃত মুসলমানের লক্ষণ। - আল হাদিস

বঙ্গবীরের জন্ম বার্ষিকী

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪২:১৭ | সংবাদটি ১৫১ বার পঠিত

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর একশ একতম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১৮ সালের আজকের এই দিনে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম হয় বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর। তাঁরই সমর-নেতৃত্বে একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালিত হয়। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে এই ক্ষণজন্মা পুরুষটি ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে জাতিকে উপহার দিয়েছেন হাজার বছরের প্রত্যাশিত নতুন ভূ-খন্ড স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি জন্মেই অসাধারণ হয়ে ওঠেন নি। তিনি তাঁর কর্ম দিয়ে স্মরণীয় হন, বরণীয় হন এদেশের মানুষের কাছে। অনাদিকাল ধরে এই জাতি তাঁকে স্মরণ করবে শ্রদ্ধাভরে। আজকের এই দিনে আমরা তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবীর ওসমানীর অবদানকে অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সামরিক নেতৃত্ব দেন। অসাধারণ বীরত্ব আর কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তিনি পশ্চিমাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেন। তার চেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন আজীবন গণতন্ত্রী। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে তাঁর ছিলো অনন্য সাধারণ পরিচিতি। তাই তাঁর নামটি বাদ দিলে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনাই অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, সেই অপূর্ণ ইতিহাস রচনারই হীন অপচেষ্টা অব্যাহত আছে এদেশে। সুপরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে বঙ্গবীর ওসমানীকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন, তেমনি স্বাধীন দেশেও জাতির দুঃসময়ে ওসমানী কান্ডারী হিসেবে হাজির হয়েছেন। বিভিন্ন সময় তিনি জাতিকে নির্ঘাত সংঘাত থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন। অথচ তিনি কখনও রাষ্ট্রক্ষমতা চাননি। অথবা তিনি কখনও এমন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেননি, যাতে করে আমাদের গোটা রাজনীতি কলুষিত হয়-দ্বিধাবিভক্ত হয়। বঙ্গবীর ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। সামরিক শিক্ষা শেষ করে পরের বছর তিনি ব্রিটিশ কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৩৯ সালে ক্যাপ্টেন এবং পরের বছরই তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। তিনিই ছিলেন তখনকার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর। মাত্র ১২ বছর বয়সে ওসমানী একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে সামরিক ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর আত্মনিয়োগ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুনগর্ঠনে। এ সময় তিনি ল্যাফটেনেন্ট পদে উন্নীত হন। ওসমানী কর্নেল পদে উন্নীত হন ১৯৫৭ সালে। অবসর গ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালে। ইপিআর প্রতিষ্ঠায় রয়েছে তাঁর বিশাল অবদান। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর ওপর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সফল এবং কৃতিত্বপূর্ণ সমরনায়কের পরিচয় দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এজন্য বিশ্বের সমর ইতিহাসে ওসমানীর রণকৌশল একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এবং শিক্ষণীয় বিষয়।
আমাদের জন্য বিষয়টি খুবই দুঃখজনক যে, মুক্তিযুদ্ধে ওসমানীর অবদানকেই অনেকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলেছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যেমন চলছে ষড়যন্ত্র, তেমনি ষড়যন্ত্র চলছে ওসমানীকে নিয়েও। এক কথায় বলতে গেলে এ পর্যন্ত কোনো সরকারই ওসমানীর প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করেনি। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে বরাবরই প্রায় নীরব থাকে সরকারি প্রচার মাধ্যম গুলো। বেসরকারি প্রচার মাধ্যমগুলোও তাঁকে নিয়ে খুব একটা মাতামাতি করে না। অথচ সব ধরনের রাজনীতির উর্ধ্বে ওঠে, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান কে ওপরে স্থান দিয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁকে মর্যাদা দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ওসমানীকে অবহেলা আর অবজ্ঞা করার যে ধারাবাহিকতা চলছে, তার অবসান যতো দ্রুত হবে ততোই জাতির জন্য মঙ্গল। বর্তমানে ক্ষমতাসীন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ পরিচালিত সরকারই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আমরা মনে করি।

 

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT