সম্পাদকীয় শিক্ষার যথার্থ উদ্দেশ্য হলো তাকে কাজে লাগানো, শুধু জ্ঞান আহরণ নয়। স্পেন্সার

জ্বালানী গ্যাসের মিটার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৯-২০১৯ ইং ০০:২৯:৫২ | সংবাদটি ৭৯ বার পঠিত

জ্বালানী গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত গ্যাস গ্রাহকদের মিটারের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ চুলাভিত্তিক গ্যাসের দাম নির্ধারণের বর্তমান প্রথা থেকে সরে যাচ্ছে সরকার। গৃহস্থালীর কাজে চুলার সংখ্যা যা-ই হোক, বেশি পোড়ালে বাড়তি বিল গুণতে হবে। এই সব বিধান রেখে প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ নীতিমালা ২০১৯-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগীরই এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এই খসড়া অনুযায়ী গ্যাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে শিল্প, সার, বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, চা বাগান, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও গৃহস্থালী। অর্থাৎ তালিকায় গৃহস্থালী রয়েছে সর্বনি¤েœ। অথচ বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকেরা দাবী জানিয়ে আসছেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু নির্বাচনের পরেই আবার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
একদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে, অপরদিকে দফায় দফায় বাড়ছে গ্যাসের দাম। সব মিলিয়ে গ্রাহকেরা মোটেই স্বস্তিতে নেই। এই অবস্থায় প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়নে সাধারণ মানুষ আশাবাদী হচ্ছে এই ভেবে যে, অন্তত এই নীতিমালার ভিত্তিতে জ্বালানী খাতের সব অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা দূর হবে। খসড়া নীতিতে বলা হয়েছে- আবাসিক বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহের বদলে ব্যাপক ভিত্তিক এলপিজি বা লিকুইড প্যাট্রোলিয়াম গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি সহায়তা দেয়া হবে। দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানী করা হচ্ছে। আমদানীকৃত এলএনজির পেছনে ব্যয় দেশজভাবে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি। তাই অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে যেসব খাত সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ভাবছে সরকার।
জ্বালানী গ্যাস খাতে জনঅসন্তুষ্টি নিরসনে ভূমিকা রাখবে সরকার গৃহীত এই নতুন নীতি, এই প্রত্যাশাই আমাদের। বিশেষ করে মিটার সংযোগসহ বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগের যে দাবি ওঠেছে দীর্ঘদিন ধরে, তার ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেই আমরা মনে করি। সর্বোপরি গ্যাস অপচয়, চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্যাসের মজুদ সীমিত। নতুন উৎসের সন্ধান না পেলে ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তো আছেই। এই অবস্থায় বিকল্প বা নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে ঝুঁকতে হবে। এই সবকিছু মাথায় নিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT