স্বাস্থ্য কুশল

যে কারণে আমরা মূল্যবান দাঁতকে নষ্ট করছি

অরূপরতন চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৬:২৪ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

প্রতিরোধের সহজ সস্তা নিয়মগুলো না মানার কারণে একটি দাঁতকে চিকিৎসা করে বাঁচাতে কয়েক হাজার টাকা খরচ করি। দাঁতের যতেœ বিশেষ কয়েকটি ভুল সংশোধন করে সময়মতো সঠিকভাবে যতœ নেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই। যেমনÑ
দাঁত ব্রাশ অনেকক্ষণ এবং অতি জোরে জোরে : আপনি যদি অনেকক্ষণ ধরে ব্রাশটি দাঁঁতের ওপর ঘষতে থাকেন তবে এই দাঁঁতের ওপর শক্ত আবরণ এনামেল ক্ষয় হয়ে যাবে। কয়েক দিনের মধ্যে তখন আপনার দাঁঁত অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা গরম পানিতে শিরশির করবে, খেতে পারবেন না কোনো কিছু। এর ফলে মাড়ি থেকে দাঁঁত সরে আসবে। সুতরাং বাজারের নরম ধরনের ব্রাশ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ওপর থেকে নিচে সব দাঁঁতগুলো আস্তে আস্তে পরিষ্কার করতে হবে।
প্রতিদিন বেশি পরিমাণে অ্যাসিডিক ফুড খাওয়া : প্রতিদিন সোডা, কমলার রস, মদ, খেলাধুলার সময় ব্যবহৃত পানীয়, ক্যান্ডি এবং কমলা ইত্যাদি খাবারে থাকে প্রচুর অ্যাসিড। একটি বরফের টুকরা যেমন পানিতে ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে গলে অদৃশ্য হয়ে যায়, তেমনি আমাদের দাঁঁঁতের সবচেয়ে শক্ত এনামেলও কিন্তু এ ধরনের অ্যাসিডিক ফুডের কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যদি এসব খাদ্যগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বা চিজ জাতীয় খাদ্য খাওয়া না হয়, তবে মুখের ভেতর লালার পিএইচ লেভেল কমে গিয়ে দাঁঁতের ক্ষয় শুরু হবে। যদি কমলা বা আনারস জুস খাওয়ার সময় স্ট্রো ব্যবহার করা যায় তবে কিছুটা রক্ষা হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এ জাতীয় ফলের রস খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলকুচি ও সেই সঙ্গে দাঁঁত ব্রাশ করা যায়।
দাঁঁতকে অতিরিক্ত সাদা করার চেষ্টা : আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁঁতের রং পরিবর্তন হয়, তখন এগুলো আর সাদা থাকে না। কিন্তু এ দাঁঁতগুলোকে সাদা করার জন্য যদি অতিরিক্ত ব্লিচিং করা হয় তবে দাঁঁতের এনামেল বা আবরণ অ্যাসিডের আক্রমণের শিকার হয় এবং এনামেলের আবরণ ফেটে একটু ফাঁকা হয়ে যায়, ফলে দাঁঁত শিরশির করে।
হট পিজ্জার সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় : যখনই আমরা অতিরিক্ত গরম পিজ্জা বা শিঙাড়া বা পেঁয়াজুতে কামড় দেই তখনই কিন্তু আমরা আমাদের দাঁঁতের শক্ত আবরণ এনামেলকে বাড়িয়ে ফেলি এবং সেই সঙ্গে যখন আমরা ঠান্ডা পানীয়তে চুমুক দেই তখনই কিন্তু এনামেলে একটা চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম ফাটল সৃষ্টি হয়। হঠাৎ গরম, হঠাৎ ঠান্ডা খাওয়ার ফলে এনামেল কিছুটা প্রসারিত হয় বা বেড়ে যায় এবং ফাটল ধরে। সুতরাং গরম খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার ঠান্ডা খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।
ভুল টুথপেস্ট ব্যবহার : দাঁঁতের সুস্থতার জন্য সব সময় অতিরিক্ত কর্কশ বা রুক্ষ টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। অনেক ধরনের বিজ্ঞাপনেই বলা হয় টুথপেস্টের মধ্যে আছে এমন কিছু পদার্থ যা আপনার দাঁঁত রাতারাতি ঝকঝকে সাদা করে দিতে সক্ষম। এই ধরনের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে যারা এই পেস্ট ব্যবহার করবেন তাদের দাঁঁত অতি তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হয়ে টুথপেস্ট ব্যবহারে সব সময় ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা ভালো।
দাঁঁত দিয়ে বোতলের ছিপি খোলার অভ্যাস : অনেকেই দাঁঁতের শক্তি দেখানোর জন্য দাঁঁত দিয়ে কোল্ড ড্রিংকসের বোতল খোলার চেষ্টা করেন, তেমনি দাঁঁত দিয়ে শক্ত কিছু ভেঙে কৃতিত্ব নিতে চান। আসলে দাঁঁত আমাদের জন্য প্রয়োজন সৌন্দর্যে, শব্দ উচ্চারণে আর খাদ্যদ্রব্যকে পিষিয়ে পাকস্থলীতে পাঠানোতে। অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য নয়। এ ধরনের বোতলের ছিপি খোলার কারণে অনেক সময় দাঁঁত ভেঙে যায়, ফেটে যায় ও ফাটল ধরে। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা জটিলতা ছাড়াও ব্যয়ও কিন্তু বেড়ে যায়। সেই সাথে কমে যায় দাঁঁতের আয়ু।
নিয়মিত দাঁঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং না করা : প্রতিদিন অন্তত দুই বেলা সকালে নাশতার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত তিন থেকে চার মিনিট দাঁঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। সেই সাথে দাঁঁতের ফাঁক থেকে ময়লা বা খাদ্যকণা বের করে আনার জন্য ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের সিল্ক সুতা ) ব্যবহার করা ভালো। যদি
আপনার কর্মস্থলে দাঁঁঁত ব্রাশ না থাকে, তবে বাসার মতো করে সেখানেও একসেট টুথব্রাশ, পেস্ট ও ফ্লস রাখুন। কারণ অনেক সময়ে অফিসেই নাশতা বা মধ্যাহ্ন ভোজ বা রাতের আহার সারতে হয়। তখন সেখানেও যাতে দাঁঁত ব্রাশ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখাটাও জরুরি। তবে ব্রাশের আগে অবশ্যই ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করবেন, পরে নয়। নিয়মিত দাঁঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করলে সহজেই দাঁঁঁতের গর্ত বা ক্যাভিটি হয় এবং ব্যথা ও প্রদাহ থেকে আরো জটিলতা সৃষ্টি হয়। সুতরাং দাঁঁত ব্রাশ ও ফ্লস করা প্রয়োজন প্রতিদিন অন্তত দুইবার ।
বছরে অন্তত একবার দাঁঁত পরীক্ষা করা :
বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিয়মিত বছরে অন্তত একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে দাঁঁতের স্কেলিং করানো যেমন জরুরি, তেমনি দাঁঁতগুলো পরীক্ষা ও সেই সাথে মুখের বিভিন্ন অংশের পরীক্ষা করানোও জরুরি। তাতে মুখ ও দাঁঁতের সামান্য গর্তকে ফিলিং করিয়ে যেমন রক্ষা করা যাবে তেমনি একটি প্রি-ক্যানসার ঘা বা প্রদাহকে ক্যানসারের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে। অতএব, চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ ঈঁৎব। প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই শ্রেয়, সস্তা ও নিরাপদ।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • রোগ প্রতিরোধে কাঁচা মরিচ
  • পেঁয়াজের যত গুণ
  •  ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • মানব দেহে খাবারের প্রভাব
  • ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যা
  • যে কারণে আমরা মূল্যবান দাঁতকে নষ্ট করছি
  • মশা থেকে যত রোগ
  • হোমিও চিকিৎসায় ডেঙ্গু নিরাময়
  • পুড়ে গেলে কী করবেন
  • এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধে আনারস
  • স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি
  • মেহেদীর কতো গুণ
  • যে সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  • শিশুকে ওষুধ দিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী
  • জ্বর কমার পরের সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
  • কম্পিউটারজনিত চক্ষু সমস্যা
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়
  • সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • Developed by: Sparkle IT