মহিলা সমাজ

আধুনিক প্রতারণা

সেলিনা মাহ্জাবিন সূচী প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৫:৪৬ | সংবাদটি ৩০৩ বার পঠিত
Image

বর্তমান যুগ এবং প্রজন্ম বলতে গেলে খুবই প্রখর ও তীক্ষ্ম বুদ্ধি সম্পন্ন। এখন সব কিছুই বিশ্বে ডিজিটালাইজেশন এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। আর মানুষের জীবন যাত্রার মানও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন এখন সবার ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। বিদ্যুতের মাধ্যমে অনেক কাজ ও সমস্যার সমাধান হচ্ছে। কম্পিউটারের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ বিশেষ করে গণনা বিষয়ক কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ রকম আরও অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও ডিজিটাল প্রক্রিয়া জারি করা হয়েছে। ফলে দেশ ও বিশ্বের মানুষ খুবই আধুনিক ও তীক্ষ্ম জ্ঞান সম্পন্ন হচ্ছে।
এখন গোটা বিশ্বকে মানুষ তার হাতের মধ্যে এনেছে এবং সেটা সম্ভভ হয়েছে স্মার্টফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এছাড়াও মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি সংযুক্ত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইট আবিষ্কার হয়েছে। যেমনÑফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সট্রাগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার, ইমো ইত্যাদির মতো আরও নানা ধরণের সফট্ওয়্যার। যা একজন মানুষের সাথে অন্য একজন মানুষ বা দূরপ্রাচ্যের মানুষের সাথে যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ ও আরামদায়ক করেছে। ফলে মানুষ পৃথিবীতে যোগাযোগ প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে পারছে অতি সহজেই। কিন্তু এর যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। সেটা আমাদের সবার জানা হয়তো। বর্তমান যুগে সব কিছুর অর্থাৎ আমাদের জীবনযাত্রার মান সহজ করার সাথে সাথে বেড়েছে প্রতারণা, মিথ্যাচার ও দুর্নীতি। এই সব কিছু মানুষকে এতোটাই নিকৃষ্ট করেছে যে বলা কঠিন। মোবাইল ফোনের খারাপ দিক এর মধ্যে এগুলো অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে মানুষ জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহার করছে। ছোট ছেলে-মেয়েদেরও এখন মোবাইল বা ট্যাব দিয়ে গেইম খেলতে দেখা যায়। অর্থাৎ, ছেলে-মেয়ে, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবাই এর ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সব মানুষের মধ্যে যে কতোগুলো প্রতারক, খারাপ ও মুখোশধারী মানুষ রয়েছে তার হিসেব নেই। দু’একটি উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুষ্টু ও খারাপ লোক নানা রকম উত্তেজনামূলক তথ্য প্রচার করে গুজব সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে মাঝে মধ্যেই মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। আবার অনেকে ফেসবুকে মানুষের আইডি চুরি করে অন্যের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা ভোগ করে। এক পর্যায়ে তা চরম প্রতারণার আওতায়ও পড়ে। ফলে মানুষের অনেক অশান্তি ভোগ করতে হয়। আর যেটা বলতে চাই সেটা হলো এই যুগের এক ধরণের প্রেম। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ সত্যিকারের প্রেমের সূচনা করলেও আরও নানা রকম প্রতারক ও মুখোশধারী মানুষ, অন্য ছেলে বা মেয়েকে মিথ্যা প্রেমের আশ্বাস দিয়ে নিজেদের সময় অতিক্রম করে। আর মোবাইলে এই সব প্রেম কার্য চালানো তাদের জন্য সহজ হয়। মোবাইলে যে সফ্টওয়্যারগুলো রয়েছে তাতে ছবি আদান প্রদানসহ কুকর্ম সংঘঠিত হয়।
প্রতারক ও ছলনাময়ীরা কখনো সত্যিকার ভালোবাসতে জানে না। তারা তাদের ভঙ্গি, মিথ্যা ও আবেগের বশ করে নানা ছেলে-মেয়েকে ঠকিয়ে যায়। শুধুমাত্র নিজের সময় অতিক্রম করার জন্য। একটি, দু’টি এমনকি দশ জনের বেশির সঙ্গেও এরকম সম্পর্ক চালিয়ে যায়। আর কষ্টের স্বীকার হয় যারা সরল মনে তাদের কথা বিশ্বাস করে। মোবাইলে অতি আকর্ষণীয় বার্তা, ছবি বা ভিডিও পোস্ট করে সহজেই যে কাউকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা যায় এবং কিছু কিছু প্রতারক এরকম করে আসছে। এখন যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে আমি নিজে হয়তো এরকম প্রতারণার শিকার হয়েছি। আসলে আমি আমার পর্যবেক্ষণ থেকেই বলছি। আমি দেখেছি আমার সহপাঠি, বড় ভাই-বোন ও অন্যান্য মানুষদের যারা এরকম প্রতারণা করছে ও তার শিকার হচ্ছে। এভাবে আরও অনেক শিক্ষার্থী ও কম বয়সী ছেলে-মেয়ে এরকম প্রতারণার জালে আটকা পড়ছে। এভাবে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তাদের লেখাপড়ার মান নষ্ট করছে। এক পর্যায়ে দেখা গেছে যে, শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার কথা সে কি না বি, সি, ডি ও অকৃতকার্যের মতো ফলাফল নিয়ে আসছে। এসব সম্পর্কের ব্যর্থতা বা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ার কারণেই কিন্তু এরকমটা হয়।
অনেক শিক্ষার্থীরা নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে তুলছে। অনেকে অন্ধভাবে ঐ সমস্ত প্রতারকের কথা বিশ্বাস করে কষ্টের শিকার হয়। তাই বলছি ঐ সমস্ত প্রতারকদের মিথ্যা প্ররোচনার হাত থেকে বাঁচতে হলে সম্পর্ক ও বন্ধু বিবেচনা করে করা উচিত। কারও রূপ দেখে নয়, মন এবং মানসিকতা বিচার করে বন্ধু বা আপনজন তৈরি করা উচিত। এর জন্য মনে রাখতে হবে সৌন্দর্য্য মানুষের আসল পরিচয় নয়। আসল হচ্ছে কর্ম, ভালো গুণ, মানসিকতা ও উন্নত চরিত্র। আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই যে সব প্রতারক হবে এমনটাও নয়। বুঝতে হবে হাজারও ভালো মানুষের মধ্যে এক দুইশত বদলোক আছে। আর ভালো ও সরল হৃদয়ের মানুষেরা নিকৃষ্ট হতে দ্বিধাবোধ করে। কারণ তাদের রুচি ও চরিত্র ঐ সমস্ত ঠক, জালিয়াতদের মতো নয়। আর সমস্যা হয় এই জায়গায়। তারাই ঐ সমস্ত প্রতারকদের প্রতারণার শিকার হয় দিনের পর দিন। অবশেষে স্বার্থ হাসিলের পর তারা তাদের জীবন থেকে পালিয়ে যায়।
আমি বলতে চাই, যারা আমার মতো শিক্ষার্থী আছেন তারা দয়া করে এসব বাজে চিন্তা ও কাজ থেকে বিরত থাকুন। নিজেদের মূল্যবান সময়টা এভাবে নষ্ট করবেন না। কারণ সময় এক জায়গায় থমকে থাকে না। সময় নদীর ¯্রােতের মতোই বহমান। তাই সবার উচিত নিজ নিজ সময়টুকু লেখাপড়ার কাজে লাগানো এবং যথার্থ ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও দশের সেবা করা। এই লক্ষে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অযথা ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ভালো মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে হবে। তাহলেই এই রকম প্রতারণার নিষ্পত্তি ঘটবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT