মহিলা সমাজ

পেছন ফিরে দেখা

সৈয়দা মানছুরা হাছান (মিরা) প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৬:১৪ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

জীবন পরিক্রমায় ছোট্ট মেয়েটি হয়ে ওঠে একজন পরিপূর্ণ মানুষ। পেছনে ফেলে আসে শৈশব, কৈশোর, যৌবনের প্রথম ধাপ। জীবনের প্রতিটি পদে পদে সে শিক্ষা নেয় যাপিত জীবন থেকে। এতে করে তার অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী হতে থাকে।
পরিবার, সমাজ তথা বাইরের জগৎ প্রভাব ফেলতে থাকে তার কোমল মনে। কোমলমতি শিশু থেকে যখন সে কৈশোরে পদার্পন করে তখন তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠতে থাকে। ব্যক্তিত্ব বলতে চলাফেরা, কথাবার্তা, মেলামেশা, অন্যের সাথে আচরণসহ আরও অনেক কিছুতে একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। বাইরের জগতে যা কিছু ঘটে সে সম্পর্কে তার ধারণা জন্মে এবং এর’ই মধ্য থেকে যেটা ভালো, মার্জিত, ইতিবাচক সেটা সে গ্রহণ করবে। আর যা কিছু নেতিবাচক সেটা সে বর্জন করবে। তার জীবনের একটা লক্ষ্য থাকবে এবং একজন আদর্শ থাকবে। হতে পারে তার বাবা-মা অথবা শিক্ষক কিংবা অন্য কেউ। এখন বাবাকে যদি সে আদর্শ মনে করে তাহলে বাবার প্রভাব তার জীবনে বেশি পড়বে। মানুষ যতো বিচিত্র তার চেয়েও বিচিত্র তার মন। এই মনকে সব সময় বশে রাখা যায় না। সে মাঝে মাঝে এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায় স্মৃতির ভেলায় চড়ে।
পূর্বে যা বলছিলাম, যৌবনের প্রথম ধাপ অতিক্রম করা এক রমণী হঠাৎ করে তার পেছনে ফিরে যেতে মন চাইলো। কি সে পেলো আর কি সে পেলো না। আত্মপ্রত্যয়ী হলে যেটা হয় আর কি। তার জীবনে এমন কিছু ঘটেছে যা হয়তো সে কখনো কল্পনাও করেনি। জীবন সম্পর্কে যা ভেবেছিলো তার সাথে হয়তো বা কোনও মিল নেই। তারপরও সে পেরেছে এই ধাপ বা পর্যায় অতিক্রম করতে। সে যেমন ছিলো আবার সে রকমই আছে। একটুও বদলায়নি। শুধু কৌশলটা বদলাতে হয়েছে। তবে নীতি আদর্শের দিক দিয়ে কোনো পরিবর্তন তার হয়নি। জীবনের স্বাভাবিকতায় সামান্য পরিবর্তন তার হয়েছে ঐ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে। দৃশ্যপট হয়তো বা বদলেছে কিন্তু প্রকৃত জীবনধারার সবকিছু অপরিবর্তিত রয়েছে।
আমাদের জীবনটাই এমন কোথাও এসে থমকে যায়, এখান থেকে আবার শুরু করতে হয়। যেমনÑএকটা ঘূর্ণিঝড় অথবা ভূমিকম্পের পর মানুষ ধ্বংসস্তূপকে সরিয়ে আবার নতুন করে বসতি গড়ে তোলে। সেখানে প্রাণের সঞ্চার হয়। চলমান সময় সেই থমকে যাওয়া জীবনকে গতিময়তা এনে দেয়। এভাবেই একটা মানুষের জীবনেও যতো বড়ো ধাক্কাই আসুক না কেন এটা তাকে সামনে নতুন করে চলার পথ দেখায়।
উল্লেখ্য যে, শৈশব থেকেই হয়তো বা সে পরিবর্তনে বিশ্বাসী। সচরাচর সবাই যেভাবে চলে সেটার একটু ব্যতিক্রম চলতে তার ভালো লাগে। সবাই যেটা পছন্দ করে তার সেটা ভালো লাগে না, সে চায় তারটা ভিন্ন থাকুক না কেন। ক্ষতির তো কিছুই নেই। সেই থেকে পোশাক-পরিচ্ছদসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তার।
সুখ বিষয়টিকে তার মনে হয় একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। কেউ ইচ্ছা করলেই সুখী থাকতে পারে। কারণ নিজের সুখ যে কীসে তা শুধু সেই বলতে পারে। যার যা কিছু আছে এবং এ নিয়ে যদি সে সন্তুষ্ট থাকতে পারে তাহলেই সে সুখী হতে পারবে।
মহাকবি সেক্সপিয়র বলেছেনÑ ‘আমি সব সময় নিজেকে সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সব সময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ তাই সে এখন আর কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করে না। নিজেকে নিজেই সঙ্গ দেয়, জটিল পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে নিয়ে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে।
যে রমণী এতোসব অতিক্রম করে আসে, তাকে কী বলবো আমরা? জীবন সংগ্রামে পরাজিত নাকি জয়ী? আমার দৃষ্টিতে সে বিজয়ী। কারণ জীবনের এক একটা ঝড়ে তার কিছুটা ক্ষতি তো অবশ্যই হয়েছে। তবে তার চেয়ে লাভ বেশি হয়েছে। এ থেকে সে শিখেছে একলা পথচলা, সাবলম্বী ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া, নীতি আদর্শের অনুশীলন। সর্বোপরি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া।
সবাই মিলে বিপদকে সামাল দেওয়া এক জিনিস আর একা একা সকল বিপদকে সামলে নিয়ে পথচলা আরেক জিনিস। এ কারণেই ভয়-ভীতি তার কাজ করে কম, একলা চলা শিখে নিয়েছে যে, তাই। আমাদেরকে এক এক জনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। একজনের আধুনিকতা আরেক জনের কাছে হয়তো লজ্জার। চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাই। কারো কাছে জীবনে মানুষের অর্থাৎ কাছের মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধই বড় ব্যাপার। আবার অন্য জনের কাছে সেটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। নীতি নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করাই কারো কাছে প্রাধান্য পায়, অন্য কিছু না।
পেছন ফিরে তাকানো রমণীকে সময়ের দাবি মেটাতে গিয়েও অনেক কিছু করতে হয়েছে, যা হয়তো তিনি কখনোই ভাবেন নি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT