শিশু মেলা

দীপা ও দিপু

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৯-২০১৯ ইং ০০:৪৪:৫৮ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

দীপা ও দিপু ওরা দু’ভাই বোন। দুজনই স্কুলে পড়ে। দীপা পড়াশোনায় অমনোযোগী। স্কুল থেকে এসেই বইখাতা রেখে হাতমুখ না ধুয়ে শুয়ে থাকে। সারাক্ষণ ওর এক কথা, কিছুই ভালো লাগে না। পড়াশোনা করতে ওর খুব কষ্ট হয়। মায়ের খুব সখ মেয়েকে পড়াবেন। অনেকের মতোই বুক ভরা রেজাল্ট করবে। আর এ জন্যই মেয়ের প্রতি খুব যতœবান। কিন্তু দীপার স্বাস্থ্য ভালো নয়। সে কিছুই খেতে চায় না। যখনই তার সামনে ভালো কোন খাবার দেয়া হয় তখনই সে খাবো না বলে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
মেয়ের খাওয়া দাওয়া নিয়ে মায়ের মনে অনেক ভাবনা। যখন যা বলে তখন ঐগুলো দিতে চেষ্টা করেন।
কিন্তু স্কুলে সে কম দামে আচার, চানাচুর, বাদাম ওগুলো খেয়ে তার খাওয়ার রুচিকে নষ্ট করে ফেলে। কোন রকম ফল বা শাকসবজি খেতে চায় না। অথচ শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হলে খাবার-দাবারের দরকার। অসুস্থ শরীরে কিছুই ভালো লাগে না। কিন্তু দীপা তো খেতে চায় না। সে বুঝতে চায় না যে, ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হতে হলে প্রত্যেকটি জিনিসের প্রতি নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হয়।
শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজনীয় সবকিছু খেতে হয়। শরীর সুস্থ থাকলে সব কাজে উৎসাহ পাওয়া যায়। সে ভালো ছবি আঁকতে পারে, গান গাইতে পারে। কিন্তু তার স্বাস্থ্য ভালো নয় বলে সে এসব কাজে উৎসাহ পায় না।
হঠাৎ করে একদিন দীপা অসুস্থ হয়ে পড়লো। ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার বললেন তার অসুখ আসলে কিছুই নয়। ভালোভাবে খেতে হবে অসুখটা হচ্ছে সবষ হঁঃৎরঃরড়হ. অর্থাৎ পুষ্টির অভাব। ডাক্তার ভিটামিন জাতীয় ঔষধ লিখে দিয়ে চলে গেলেন।
এদিকে দীপা স্কুলে যাচ্ছে না দেখে তার শিক্ষক যিনি তাকে খুবই ভালোবাসেন তাকে দেখতে আসলেন। দীপার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন, আচ্ছা বলতো দীপা, তুমি কেনো খেতে চাও না? তোমার কি ইচ্ছে করে না খেতে? তোমার মা তোমার জন্য কতো কষ্ট করেন। তোমাদের তো খাবার-দাবারের অভাব নেই।
কতো ছেলেমেয়েরা আছে, এরা খেতে চাইলেও খেতে পারছে না, অথচ তুমি খাবার সামনে থেকে সরিয়ে দাও, কেনো তুমি এমন করো? তুমি জানো না শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হলে নিয়মিত সবকিছু খেতে হয়। তোমার বয়েসী ছেলে-মেয়েদের সব ধরনের খাবারের দরকার।
শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এগুলো তো খেতেই হবে, তা-না হলে তোমার শরীর ও স্বাস্থ্যে ভালো হবে না, মনে আনন্দ বা উৎসাহ কোনটাই পাবে না। তুমি যদি মন দিয়ে লেখাপড়া না করো তাহলে কেমন করে বড় হবে, সুপ্রতিষ্ঠিত হবে?
দেখছো না আজকাল ছেলেদের সাথে মেয়েরাও সবকিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনায় ছেলেদের চাইতে মেয়েরাও সবকিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করছে। দীপা আস্তে করে জবাব দেয়, আমার যে খেতে ইচ্ছে করে না। শিক্ষক তখন মিষ্টি করে বললেন তুমি টক ঝাল ভাজা খেতে চাও এ জন্যে প্রায়ই অসুখে ভোগ। অসুস্থ হও বলে খেতে ইচ্ছে করে না। তুমি এগুলো না খেয়ে সব ধরনের খাবার খাবে। ফলমূল রোজ খাওয়া দরকার।
আমাদের দেশে কত রকমের ফল আছে, তোমার যে ফল খেতে ইচ্ছে করে সে ফল খাবে। তাছাড়া তোমার মা-তো নিজ হাতে ফল ও ফুলের বাগান করেন। তোমাদের বাড়িতে বলতে গেলে সব-ধরনের ফলের গাছ আছে, যখন যেটা ইচ্ছে করে সেটা খাবে।
কলা ও পেঁপে সারা বছর পাওয়া যায় এবং এগুলি শরীরের জন্য ভালো। সব ধরনের ফল প্রত্যেকদিন কিছু না কিছু খাওয়া দরকার। দেখো না তোমার ছোট ভাই সব ধরনের খাবার খায় বলে, তার স্বাস্থ্য ভালো, লেখাপড়া নিয়মিত করে, খেলাধুলাও সে করতে পারে। আমলকি ও পেয়ারা বেশি করে খাবে। এগুলো তোমাদের জন্য খুবই উপকারী।
স্বাস্থ্য মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিদ্যা শিক্ষা লাভ করতে অথবা টাকা পয়সা রোজগার করতে হলে স্বাস্থ্যের দরকার। দেশের সেবা করতে হলেও স্বাস্থ্যের যথেষ্ট প্রয়োজন। আজ থেকে তুমি আমার কথাগুলো মনে রেখে এবং মায়ের কথা মতো সব ধরনের খাবার খাবে। তাহলে তোমার ক্লান্তি অবসাদ সব দূর হবে এবং স্বাস্থ্য ভালো হবে।
দীপা শিক্ষক এর কথাগুলি শুনে খুব আনন্দিত হয় এবং মাকে বলে মা তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।
আমি এখন থেকে নিয়মিত সবকিছু খাবো পড়াশোনা করবো।
মা মেয়ের কথাগুলি শুনে খুব খুশী হলেন এবং বললেন, আমি তো চাই মা, তুমি সবকিছু খাবে, মন দিয়ে পড়ালেখা করবে এবং সমাজে সু-প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT