সম্পাদকীয়

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৯-২০১৯ ইং ২৩:৫৯:০৭ | সংবাদটি ১৫৯ বার পঠিত

শিক্ষার্থী সংকটে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। শহর বা গ্রাম সর্বত্রই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমে চলেছে। এর প্রধান কারণ হ”েছ, কেজি স্কুল। দেশের সর্বত্রই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশে পাশেই বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন স্কুল গড়ে উঠায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে। অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারী কেজি স্কুলগুলো নানা প্রলোভন দিয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাগিয়ে নিয়ে যা”েছ। অথচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অন্যকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইন অমান্য করে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সত্যি বলতে কি, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে সরকারের কোন অনুমোদন নেই। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের তেমন মাথাব্যথা নেই বলেই অনুমেয় হ”েছ। সমস্যাটি পুরনো। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার মানের নি¤œগতি, যথাযথ পরিবেশের অভাব ইত্যাদি কারণে অভিভাবকেরা অনেক দিন ধরেই অসš‘ষ্ট। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। দেশের ৬৪ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি গড়ে ওঠেছে ৭০ হাজারের বেশি কেজি স্কুল। যাদের নেই কোন নিবন্ধন, নেই বিধিমালা মানার প্রবণতা। অভিভাবকদের মানসম্মত শিক্ষার প্রলোভন দিয়ে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা হয় শিক্ষার্থীদের। উল্লেখ করা যেতে পারে দেশে বেপরোয়াভাবে গড়ে ওঠা কেজি স্কুলগুলোর লাগাম টানা ও শৃংখলা ফেরাতে ২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিবন্ধন বিধিমালা জারি করে। এতে বেশ কয়েকটি নির্দেশনার উল্লেখ করে বলা হয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোকে এইসব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কিš‘ এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে গত দুই দশকে গড়ে ওঠেছে একের পর এক কেজি স্কুল। আর এসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ার আগেই তিন বছর কাটাতে হয় শিশু শ্রেণীতে। মোটা অংকের ভর্তি ফিসহ নানা ধরণের চার্জ পরিশোধ করে ভর্তি হওয়াসহ অতিরিক্ত বই-খাতা কেনা, ক্লাস টেস্টসহ অন্যান্য পরীক্ষার ফি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয় অভিভাবকদের। তারপরেও অভিভাবকেরা সন্তানদের কেজি স্কুল গুলোতে ভর্তি করাতে আগ্রহী হ”েছন কেন, এটা একটা বড় প্রশ্ন।
কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা নিয়ে এই যে বেপরোয়া কারসাজি চলছে, সেটা বন্ধ হওয়া দরকার। প্রথমত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর লাগামহীন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এগুলোকে সরকার নির্ধারিত নিয়ম-শৃংখলার মধ্যে নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে জরুরী হ”েছ এগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা। সেই সঙ্গে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। শূন্যপদে নিয়োগসহ শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার মতো আনন্দঘন সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT