ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৯-২০১৯ ইং ২৩:৫৯:৫০ | সংবাদটি ১১৮ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(১২০) ইহুদী ও খ্রিস্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তা’ই হলো সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাক্সক্ষাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই। (১২১) আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তো যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (১২২) হে বনী-ইসরাইল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (১২৩) তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহিত হবে না, কারও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। (১২৪) যখন ইবরাহিমকে তাঁর পালনকর্তার কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও। তিনি বললেন, আমার অঙ্গিকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না। (১২৫) যখন আমি কা’বাগৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু সেজদাহকারীদের জন্যে পবিত্র রাখ। (১২৬) যখন ইবরাহিম বললেন, পরওয়ারদেগার। এ স্থানকে তুমি শান্তিধাম কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। বললেন, যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছু দিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেবো, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক পয়গম্বর হযরত ইবরাহিম (আ.) এর বিভিন্ন পরীক্ষা, তাতে তাঁর সাফল্য এবং পুরষ্কার ও প্রতিদানের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। হযরত খলীলুল্লাহ যখন ¯েœহপরবশ হয়ে স্বীয় সন্তান-সন্ততির জন্যেও এ পুরষ্কারের প্রার্থনা জানালেন, তখন পুরষ্কার লাভের জন্যে একটি নিয়ম-নীতিও বলে দেয়া হলো। এতে হযরত খলীলুল্লাহর প্রার্থনাকে শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করে বলা হয়েছে যে, আপনার বংশধরগণও এই পুরষ্কার পাবে, তবে তাদের মধ্যে যারা অবাধ্য ও যালেম হবে, তারা এ পুরষ্কার পাবে না।
হযরত খলীলুল্লাহর পরীক্ষাসমূহ ও পরীক্ষার বিষয়বস্তু :
এখানে কয়েকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। প্রথমত : যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই সাধারণতঃ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ। কারও কোনো অবস্থা অথবা গুণ-বৈশিষ্ট্য তাঁর অজানা নয়। এমতাবস্থায় এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য কি ছিলো? দ্বিতীয়ত ঃ কি কি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে? তৃতীয়ত ঃ কি ধরণের সাফল্য হয়েছে? চতুর্থত ঃ কি পুরষ্কার দেয়া হল? পঞ্চমত ঃ পুরষ্কারের জন্য নির্ধারিত নিয়ম-পদ্ধতির কিছু ব্যাখ্যা ও বিবরণ।
এই পাঁচটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর লক্ষ্য করুন :
প্রথমত ঃ পরীক্ষার উদ্দেশ্য কি ছিল? কুরআনের একটি শব্দ ‘রাব্বাহু’ (তাঁর পালনকর্তা) এ প্রশ্নের সমাধান করে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, এ পরীক্ষার পরীক্ষক স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। আর তাঁর ‘আসমায়ে হুসনার’ মধ্যে থেকে এখানে ‘রব’ (পালনকর্তা) নামটি ব্যবহার করে রবুবিয়্যাতের (পালনকর্তৃত্বের) দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর অর্থ কোনো বস্তুকে ধীরে ধীরে পূর্ণত্বের স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো।
হযরত ইবরাহিম (আ.) এর এই পরীক্ষা কোন অপরাধের সাজা হিসেবে কিংবা অজ্ঞাত যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশে ছিল না; বরং এর উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার মাধ্যমে স্বীয় বন্ধুর লালন করে তাঁকে পূর্ণত্বের স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো। অতঃপর আয়াতে কর্মকে পূর্বে এবং কারককে পরে উল্লেখ করে ইবরাহিম (আ.) এর মহত্ত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত ঃ কি কি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে? এ সম্পর্কে কুরআনে শুধু ‘কালিমাত’ (বাক্যসমূহ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সাহাবী ও তাবেয়ীদের বিভিন্ন উক্তি বর্ণিত আছে। কেউ খোদায়ী বিধানসমূহের মধ্য থেকে দশটি, কেউ ত্রিশটি এবং কেউ কমবেশি অন্য বিষয় উল্লেখ করেছেন। বাস্তবক্ষেত্রে এতে কোনো বিরোধ নেই, বরং সবগুলোই ছিলো হযরত ইবরাহিম খলীলুল্লাহর পরীক্ষার বিষয়বস্তু। প্রখ্যাত তাফসিরকারক ইবনে জরীর ও ইবনে কাসীরের অভিমত তাই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT