উপ সম্পাদকীয়

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি কি অনিবার্য

চৌধুরী শাহেদ আকবর প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৬:৫৪ | সংবাদটি ১৩৯ বার পঠিত

রোমান সম্রাট ভেসপিজিয়ান এর সময়কালের ঘটনা। নির্মাণ কাজের জন্য বড় ও ভারী স্তম্ভ বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য যখন সম্রাটকে তৎকালীন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিলো, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার যুক্তি ছিলো সাধারণ জনগণ যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের তাহলে কী হবে। রোমান ইতিহাসবিদ সুইটেনিয়াস বিষয়টি তার লেখাতে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন প্রযুক্তি যে কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এই রকম ভয় প্রাচীনকালেও ছিল। এই ধরনের ভয় আধুনিক যুগের এই একুশশতকে এসেও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রম-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তথা অটোমেশন এবং বিশ^ায়ন কর্মসংস্থান কমাচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই একই অবস্থা। অনেক গবেষণাই অটোমেশন এর এই প্রভাবের কথা বলছে। যেমন ফ্রেডী এবং অসবোর্ন এর গবেষণা বলছে, অটোমেশন এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে আমেরিকাতে অর্ধেক কর্মীরা চাকুরী হারাতে পারেন। হাভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ল্যারি সামারর্স মনে করেন কারখানাজাত পণ্য রপ্তানী খাতে নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও গত বিশ বছরে চায়নাতে কর্মসংস্থান কমেছে অনেক শুধুমাত্র অটোমেশন এর কারণে। প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে, সমৃদ্ধি এনেছে। বাড়ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু কর্মসংস্থান এর উপর এর এই প্রভাব প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিকে করছে মøান।
সুইডিশ-জার্মান অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ কার্ল ফ্রে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড এর একজন গবেষক। তিনি দি টেকনোলজী ট্র্যাপ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটিতে তিনি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান এর বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তার মতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডিজিটাইজেশন, কম্পিউটারাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যাকে বর্তমানে ‘চতুর্থ বিপ্লব’ বলা হয়ে থাকে, কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি মনে করেন উনিশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মত এই ‘চতুর্থ বিপ্লব’ ও নজিরবিহীন উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বয়ে আনবে। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের সময়কালের মত একইভাবে জনগণের একটি বিরাট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান কমে যাবে ও আয় বৈষম্য বাড়বে।
আমরা এখন প্রায়ই শুনে থাকি যে, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সেই অনুপাতে হচ্ছে না। সরকারি তথ্যমতে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ এই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছিলো ২৮ লাখ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ যা ছিল গড় প্রবৃদ্ধির হার ৮ ভাগের ১ ভাগ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশন এর এই বছরের গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা কমছে। কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা দিয়ে প্রবৃদ্ধির হার এর সাথে কর্মসংস্থান এর হার বৃদ্ধির সম্পর্ককে বোঝায়। এই স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলে বোঝা যাবে প্রবৃদ্ধি যেটা হচ্ছে তা হচ্ছে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান হচ্ছে বা কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। আই.এল.ও এর মতে দেশে কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাওয়া যুব বেকারত্বের সংখ্যা ২০১০ সাল ২০১৭ এর মধ্যে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। কর্মসংস্থানহীন এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। চলছে গবেষণা। কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি, বর্ধনশীল আয় বৈষম্য আর নিম্ন আয়ের অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তাই প্রবৃদ্ধিকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্যরে মতে, মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থান আরো গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আয় এই চার সূচকের মধ্যে সামঞ্জস্য না হওয়ার যে উন্নতির কথা বলা হচ্ছে তার সুফল পাচ্ছে না জনগণ।
আমাদেরও এই কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির পেছনের বহুবিধ কারণগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নকেও একটি কারণ হিসাবে মনে করা যেতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। গত ৭০ বছরের অর্থনৈতিক ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, যে সকল দেশগুলো ক্রমাগত মধ্য আয় বা উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, তাদের এই সাফল্য এসেছে মূলত রপ্তানীনির্ভর শিল্প কারখানাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। কোরিয়া, চীন, তাইওয়ান ও বাংলাদেশ উন্নয়নের এই নীতি অনুসরণ করে এগিয়েছে। বাংলাদেশের এই সফলতা এসেছে মূলত রপ্তানী নির্ভর পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ থেকে। আমাদের কর্মসংস্থান আর রপ্তানী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে এই খাত। রপ্তানী নির্ভর অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিটিকাল পণ্য, সিরামিক পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, কৃষি পণ্য, হিমায়িত খাদ্য উল্লেখযোগ্য। বিশ^ায়নের এই যুগে গুণগত মান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পোশাকশিল্পসহ কারখানাজাত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। সংযোজন হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে এইসব খাতে উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু কর্মসংস্থান কমছে। শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ সালে দেশের কারখানাজাত শিল্পে কর্মসংস্থান কমেছে শূন্য দশমিক ৭৭ মিলিয়ন যেখানে একই সময় এই খাতে উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।
সরকার ও এক্সেস টু ইনফরমেশন এর যৌথ গবেষণা বলছে, ২০৪১ সালের মধ্যে শুধু অটোমেশন এর কারণে পোশাক শিল্পে ২৭ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাবে। এই গবেষণা আরো বলছে, একই সময়ের মধ্যে দেশের আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক শিল্পে ১৩ দশমিক ৮ লাখ, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ৬ লাখ এবং জুতা প্রস্তুতকারক শিল্পে ১ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাবে অটোমেশনের কারণে। কিছু গবেষণা এটাও বলছে, কম দক্ষ শ্রমিক শ্রেণীর কর্মীরাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অনেক শ্রমিক আছেন যারা হয়ত শুধুমাত্র সংযোজন বা প্যাকেজিং এর কাজ করেন এবং শুধুমাত্র এই কাজটিই ভালো পারেন। তারা অনেকেই হয়ত লিখতে বা পড়তে পারেন না। অটোমেশন এর ফলে তাদেরকে হয়ত প্রযুক্তিগত নতুন কিছু জ্ঞান অর্জন করতে হবে যেটা তাদের পক্ষে হয়ত সহজ নাও হতে পারে। ফলে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। মধ্য দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরা হয়ত কম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে আয় বৈষম্য বাড়তে পারে।
আবার ফ্রে এর বইতে ফিরে আসি। ফ্রে যেমন মনে করেন চতুর্থ বিপ্লব কর্মসংস্থান কমাবে, আয় বৈষম্য বাড়াবে, তেমনি তিনি এটাও মনে করেন শিল্প বিপ্লবের মত এটিও অবশেষে দীর্ঘ মেয়াদী সুফল নিয়ে আসবে। শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী ফসল বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা বিশ শতকের মধ্য ভাগে এসে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে, বিশাল এক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটিয়েছে, সম্পদ বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঘটিয়েছে। চতুর্থ বিপ্লব হয়ত একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। কিন্তু এটা নির্ভর করবে পুরো বিষয়টাকে স্বল্প মেয়াদে কিভাবে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো তার উপর। ফ্রে এর এই ধারণা মোটেও অমূলক নয়। অতীতে আমরা দেখেছি প্রযুক্তি কর্মসংস্থান কমিয়ে কম বরং বাড়িয়েছে বেশি। এর বড় একটি উদাহরণ হলো কম্পিউটার। কম্পিউটারের আবির্ভাব টাইপিস্টের কাজটি বিলুপ্ত করেছে কিন্তু সেই সাথে কম্পিউটার ভিত্তিক নতুন অনেক ধরনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। যেমনÑকম্পিউটার অপারেটিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি। অথচ এই ধরনের কর্মসংস্থানের কথা আমরা দুই-তিন দশক আগেও কল্পনা করতে পারিনি। বলা হচ্ছে, বিশ^ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ইন্ডাষ্ট্রি ২০১৯ সালের মধ্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার অতিক্রম করবে।
আমাদের নতুন মেয়াদে নির্বাচিত সরকার তাদের প্রথম বাজেটে চতুর্থ বিপ্লবের বিষয়টি এনেছেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার একটি অনুচ্ছেদে চতুর্থ বিপ্লব এবং আরো একটি অনুচ্ছেদে উদ্ভাবনের কথা বলেছেন। মাননীয় মন্ত্রী আরো বলেছেন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি লোকের কর্মসংস্থান এর চেষ্টা করবে সরকার। এই মুহূর্তে দেশের যুব সমাজের একটি বিরাট অংশ কর্মহীন রয়েছে। আর প্রতিবছর প্রায় নতুন যোগ হচ্ছে ২২ লাখ চাকুরী প্রত্যাশী। মাননীয় মন্ত্রী এই বছরের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এর জন্য। পৃথক আরো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখৈছেন নবীন (স্টার্টআপ) উদ্যোক্তাদের জন্য। বিষয়টি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। আমরা দেখছি যে এখন তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তি ভিত্তিক স্টার্টআপ ও অনেক হচ্ছে। যার জন্য কর্মসংস্থানও হচ্ছে। যেমন ই-কমার্স এবং রাইড শেয়ারিং খাতে এখন অনেক লোক সম্পৃক্ত হয়েছে। আমাদের এখন উচিৎ হবে এইসব খাতের ব্যপ্তি ও বিকাশকে সহযোগিতা করা। এস.এম.ই খাতের যাতে আরো বিকাশ ঘটে সেই দিকেও নজর দেওয়া।
ভারতের জনপ্রিয় সাংবাদিক রাঘাভান জগন্নাথন তার ‘জব ক্রাইক্রিস ইন ইন্ডিয়া’ বইতে লিখেছেন, কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি মোকাবেলার জন্য এখন দরকার, উন্নত ট্রেনিং এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, শহরায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা, শ্রম আইনকে সহজ করা, বেসরকারী বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা, এস.এম.ই খাতের বিকাশ ঘটানো এবং শিল্প কারখানায় দ্রুত অটোমেশন-কে কিছুটা নিরুৎসাহিত করা যেনো অন্যান্য নিয়ামকগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর সময়োপযোগী বিকাশ ঘটে। বইটি যদিও তিনি ভারতের জন্য লিখেছেন কিন্তু বাংলাদেশও অনায়াসেই এই পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দরকার সঠিক পরিকল্পনা, কর্মকৌশল এবং বাস্তবায়ন।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা কি থামানো যায় না?
  • চিকিৎসা সেবা বনাম ব্যবসা
  • নীরব ঘাতক প্লাস্টিক
  • সার্থক জীবন মহত্তর অবদান
  • প্রযুক্তির বিশ্বায়ন বনাম তরুণ সমাজ
  • মানবিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ
  • খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য
  • শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু কথা
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
  • বৃটিশ সাধারণ নির্বাচন-২০১৯
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রযাত্রা সফল হোক
  • লক্ষ্য হোক সুষম সামাজিক উন্নয়ন
  • জননী ও জন্মভূমি
  • অপরূপ হেমন্ত
  • বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চাই
  • শ্যামারচরের বধ্যভূমি ও দিরাই-শ্যামারচর রাস্তা
  • প্রয়োজন সচেতনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন
  • চোরাকারবার বন্ধে চাই কৌশল
  • জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুল
  • একটি বর্ণনাতীত ভাষ্য
  • Developed by: Sparkle IT