সম্পাদকীয়

সর্বজনীন পেনশন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৯-২০১৯ ইং ০০:৩৭:২০ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

চালু হচ্ছে সবার জন্য পেনশন। এর রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তুত হয়েছে খসড়া। আগামী মাসে মন্ত্রীসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হবে। উন্নত বিশ্বের আদলে এই সর্বজনীন পেনশন সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছিলো সরকার বছর তিনেক আগে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় কীভাবে দেশের প্রতিটি নাগরিককে পেনশন সুবিধা দেয়া যায়, সেই উপায় বের করা হয়েছে এই নীতিমালায়। সবার জন্য পেনশন সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করার লক্ষ্যে একটি ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারী চাকরিজীবীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার ঘোষণা ছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের বুদ্ধিজীবী মহল সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
এই ভূ-খন্ডে সর্বপ্রথম পেনশন প্রথার প্রবর্তন হয় ১৯২৪ সালে ইংরেজ শাসনামলে। স্বাধীনতার পরেও এটি চালু রাখা হয় সংশোধিত আকারে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি চাকুরে; এরাই পাচ্ছেন পেনশন। বাকি ৯৫ শতাংশ রয়েছেন এর বাইরে। অর্থাৎ দেশের ছয় কোটি কর্মজীবীর মধ্যে বেসরকারি কর্মজীবী হচ্ছেন প্রায় পাঁচ কোটি ৮০ লাখ। এদের কোন পেনশন সুবিধা নেই। তাই চাকরিজীবন শেষে তাদের পড়তে হয় অর্থকষ্টে। তাছাড়া দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। ওই বয়সে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তা বেশীরভাগ প্রবীণের থাকে না। এই বিরাট জনগোষ্ঠীর শেষ বয়সে যাতে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করতে না হয়, তার জন্য সর্বজনীন পেনশন সুবিধা প্রবর্তনের চিন্তা করা হয়। সরকার আশা করছে এটি চালু হলে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমবে, আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া, পেনশন ফান্ড বিনিয়োগ হবে বড় বড় লাভজনক প্রকল্পে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পুঁজির যোগান দিতে সক্ষম হবে পেনশন ফান্ড।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। বিশেষ করে বেসরকারী চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন চালু একটি সময়ের দাবি। দেশের মোট কর্মজীবীদের ৯০ শতাংশই বেসরকারী খাতে কর্মরত। চাকরি জীবন শেষে এরা প্রায় খালি হাতেই ঘরে ফেরেন। এদের জন্য পেনশন চালু রীতিমতো আশীর্বাদ স্বরূপ। তবে এক্ষেত্রে সবচয়ে জরুরি হবে বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাকরিজীবীদের পেনশন প্রদানে বাধ্য করা। অবশ্য সর্বজনীন পেনশন নীতিমালায় তহবিল চাকরিজীবী এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে গঠনের কথা বলা হয়েছে। তাই পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি খুবই জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT